মতামত

প্রধান নির্বাচন কমিশনার এসব কি বলছেন?

ব্যারিস্টার নাজির আহমদ ।। বিলেত প্রবাসী বাংলাদেশীদের ঐতিহাসিক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বঙ্গবন্ধু যেখানে দ্বৈত নাগরিকত্বের অধিকার দিয়ে গেছেন সেখানে সিইসি নূরুল হুদা এসে ব্যাপারটা আরও জটিল করে যাচ্ছেন এবং প্রবাসীদেরকে একটা অহেতুক ঝামেলায় ফেলে দিয়ে যাচ্ছেন। বাংলাদেশী নাগরিকত্ব প্রমানেই ভোটার কার্ড বা জাতীয় পরিচয়পত্র যেখানে দেয়ার কথা সেখানে হুদা সাহেব “দ্বৈত নাগরিকত্ব সার্টিফিকেট” – এর কথা বলে এখানকার প্রবাসী বাংলাদেশীদেরকে খামোখা আরেকটা আমলাতন্ত্রিক জটিলতার মধ্যে ফেলে দিচ্ছেন। যে তথ্য ও ডকুমেন্টস জমা দিয়ে বাংলাদেশী পাসপোর্ট পাওয়া যায় ও ব্রিটিশ পাসপোর্টে “নো ভিসা রিকোয়ার্ড” স্টাম্প/স্টীকার নেয়া হয়, সেই একই ডকুমেন্টস জমা দিয়ে তো ভোটার আইডি কার্ড বা স্মার্ট কার্ড পাবার কথা।

কিন্তু আইন ও নিয়মের ব্যাপারে গত বুধবার বিভ্রান্তিমূলক তথ্য দেওয়া হয়েছে। পৃথিবীর কোথাও এই নিয়ম নেই যে এক দেশের নাগরিক অন্য দেশে গিয়ে ভোট দিতে পারে বলে যে মন্তব্য করা হয়েছে ঐ সংবাদ সম্মেলনে এটা ডাহা মিথ্যা। যে দেশে সংবাদ সম্মেলনে বসে কথাগুলো বলা হয়েছে, খোদ এই বিলেতে বাংলাদেশীরা বৃটিশ সিটিজেনশীপ না নিয়েই বাংলাদেশী পাসপোর্ট থাকার পরও অনায়াসে ভোট দিতে পারছেন। শুধু তাই নয়, নির্বাচনে প্রার্থীও হতে পারছেন।

ওই অনুষ্ঠানে আরও বলা হয়েছে যে যারা “নো ভিসা রিকোয়ার্ড স্টাম্প” নিচ্ছেন তারা নাকি “বাই ডিসেন্ট” হিসেবে নিচ্ছেন! এটাও অসত্য। লক্ষ লক্ষ বৃটিশ নাগরিক যারা জন্মসূত্রে বাংলাদেশী নাগরিক তারা তাদের বৃটিশ পাসপোর্টে “নো ভিসা রিকোয়ার্ড” স্টাম্প নিচ্ছেন। তারা “বাই ডিসেন্ট” হন কিভাবে?

আমি বলব, সেখানে আসলে সংবিধানের ১২২ ধারার ভুল ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। দ্বৈত নাগরিকরা তো বাংলাদেশের নাগরিকত্ব বর্জন করেন না। তাছাড়া বৃটিশ নাগরিক হতে বাংলাদেশী নাগরিকত্ব বর্জন করাও কোন শর্ত নয়। সুতরাং দ্বৈত নাগরিকদের বাংলাদেশের ভোটার হতে ১২২ ধারা কোন বাঁধা নয়। এমপি হবার যোগ্যতা সংক্রান্ত সংবিধানের ৬৬ ধারা পড়লে ১২২ ধারা পরিস্কার হবে।

দ্বৈত নাগরিকরা যেখানে বাংলাদেশে গিয়ে দুই/তিন সপ্তাহের মধ্যে স্মার্ট কার্ড নিতে পারছেন তথাকথিত “দ্বৈত নাগরিকত্ব সার্টিফিকেট” ছাড়াই, সেখানে লন্ডনে হুদা সাহেবের “দ্বৈত নাগরিকত্ব সার্টিফিকেট” জমা দেয়ার শর্ত আরোপের মতলবটা কি? তাহলে বিলেত প্রবাসী বাংলাদেশীরা কি পেল? ডিজিটাল পাসপোর্ট বানাতে কত ঝামেলা। পুলিশ তদন্তের রিপোর্টের নামে রীতিমত ঘুষ চেয়ে বসে। এভাবে বেশ কয়েকটি ঘটনা আমার ক্লাইন্টদের ক্ষেত্রে ঘটেছে। পুরাতন পাসপোর্ট থাকার পরও তথাকথিত রিপোর্ট দেয়নি ঘুষ ছাড়া – মাসের পর মাস ক্ষেত্র বিশেষ বছরাধিক সময় আটকিয়ে রেখেছে। ঘুষ দেয়ার পর তা রিলিজ করেছে! এখন “দ্বৈত নাগরিকত্ব সার্টিফিকেট” আবেদন করে আনতে কী যে হবে আল্লাহ মালুম।

একটি কমিউনিটি সংগঠন ঘোষনাটা ভাল করে শুনার ও দেখার আগেই তড়িঘড়ি করে “জরুরী আনন্দ সভার” আয়োজনে ব্যস্ত ছিল। এ যেন “যদি কেউ ক্রেডিট নিয়ে যায়!” হায়রে বাঙ্গালী! কি পেলাম বা কি দেয়া হলো তা বুঝে উঠার আগেই “ক্রেডিট নেয়া” আর “ধন্যবাদ দেয়ার” “আনন্দ জানানোর” প্রতিযোগিতা!

Related Articles

Back to top button