যুক্তরাজ্য

আবার প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে ব্রিটেন

॥ মো: রেজাউল করিম মৃধা ॥

কভিট-১৯ বা করোনাভাইরাস মহামারি থেকে জনজীবন রক্ষায় বৃটিশ সরকার স্টে হোম বা লক ডাউন ঘোষনা করে। একে একে বন্ধ হতে থাকে ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠা , টেকওয়ে, রেস্টুরেন্ট, দোকান পাট, অফিস আদালত, শপিংমল, পার্ক খেলার মাঠ সহ সব কিছু ।

২৩ শে মার্চ ২০২০ স্টে হোম বা লক ডাউন বন্ধ ঘোষনা করা হয়। যদিও সরকার প্রনোদনা অনুদান দিয়েছে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে। প্রতিষ্ঠানগুলি লাভোবান হলেও শ্রমিকরা পরেছে মহা বিপদে। সাথে অর্থনীতি স্থবির হয়ে পরেছে। দীর্ঘ প্রায় ৫ মাস পর ৪ঠা জুলাই তুলে নেওয়া হচ্ছে লক ডাউন। খুলে দেওয়া হবে সব কিছু তবে সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলবে সেপ্টেম্বর থেকে।

পাব, রেস্টুরেন্ট, সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সহ সকল ধরনের দোকান পাট খোলার জন্য অনুমোদন দিয়েছে সরকার।রেস্টুরেন্ট ও পাবগুলি পরেছে বিপাকে কেননা। দু মিটার দূরুত্ব মেইনটেইন করা খুবই দু:সাধ্য। এ ছাড়া হেয়ার ড্রেসার, সেলুন সহ এ ধরনের শপগুলিতে দুই মিটার দূরুত্ব রক্ষা করা কোন ভাবেই সম্ভব নয়। তাই বৃটিশ সরকার দুই মিটার দূরুত্ব কে কমিয়ে এক মিটার করার প্রস্তাব সংসদে উত্থাপন করবে। সংসদ অনুমতি দিলেই সামাজিক দূরুত্ব দুই মিটার থেকে এক মিটার কার্যকর হবে।

বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেন, “জনসাধারনের জীবন রক্ষাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। সাইন্টিফিক ও ইকোনমিতে সামন্জস্য রেখেই পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহন করতে হচ্ছে। সব দিক বিবেচনা করে সামাজিক দূরুত্ব ২ মিটার থেকে ১ মিটার করা হবে”। সাইন্টিস্টরা মনে করেন সামাজিক দূরুত্বের অনেক গুরুত্ব । সেই সাথে মুখে মাক্স অত্যান্ত গুরুত্ব পূর্ন। হাতে গ্লাভস অথবা সেনেটারেজ অবশ্যই ব্যাবহার করতে হব।

বৃটিশ হেল্থ সেক্রেটারী ম্যাথ হ্যানকক বলেন, “এন এইচ এস টেস্ট এন্ড ট্রেস পাবলিক ডিউটি। এই টেস্ট কার্যক্রম অব্যহত রাখতে হবে। সাথে সকল জনসারনকে সরকারি বিধি নিষেধ মেনে চলতে হবে। সকল কে নিজেদের স্বার্থেই বাধ্যতামূলেক ১ মিটার দূরুত্ব বজায় রাখতে হবে। তিনি আরো বলেন, “এর মধ্যে শতকরা ৮৫ পারসেন্ট করোনা রোগী করোনা টেস্টে পজিটিভ হওয়ার পর বাসা আইসোলেশনে থেকে সুস্থ হয়েছেন”।

বৃটিশ স্যাডো হেল্থ সেক্রেটারি লেবার এম পি-জন আসওয়ার্থ ১ মিটার দূরুত্বের বিরোধীতা করে বলেছেন, “সাইন্টিফিক এভিডেন্স না নিয়ে সামাজিক দূরুত্ব কমানো হিতে বিপরিত হতে পারে।” করোনাভাইরস মহামারির রোগ প্রতিরোধের জন্য যে কোন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সব দিক বিবেচনা করতে হবে।

এন এইচ এস মনে করে, করোনাভাইরাস মহামারি মোকাবেলা করা করো একার পক্ষে সম্ভব নয়। সরকার এবং বিরোধীদল , অন্যান্য রাজনৈতিক দল , জনসাধারন সহ সকলের সম্মিলিত প্রচেস্টায়, সতর্কীকরণ কার্যক্রম অব্যহত রাখা, পরিস্কার , পরিচ্ছন্ন থাকা এবং সামাজিক দূরুত্ব বজায় রাখা। সবার সহযোগিতা এক দিন এই করোনাভাইরস মহামারি থেকে মুক্ত হবো।

এরই মাঝে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন প্রায় ৪২ হাজার মানুষ।এর মাঝে সুস্থ্য হয়েছেন লক্ষাধিক মানুষ। দীর্ঘ দিন লক ডাউনের কারনে শিক্ষা প্রতিস্টান, ব্যাবসা প্রতিস্ঠান সব কিছু বন্ধ থাকায় বৃটিশ সরকার অনুদান দিয়েছে। তারপরও ঘরে বন্ধি থাকতে থাকতে জনজীবন একেবারে অস্থির হয়ে উঠেছে। স্থবির হয়ে পরেছে পুরো ব্রিটেন। ব্রিটেনকে আবার পুনরায় আগের অবস্থানে ফিরে আসতে হয়তো সময় লাগবে।তবে ৪ঠা জুলাই থেকে বৃটেন হয়ে উঠবে প্রাণবন্ত।

Related Articles

Back to top button