যুক্তরাজ্য

যেভাবে গন্ডি ছোট হয়ে আসে ফার রাইট এবং রেসিস্ট ক্যাটি হপকিন্সের

ব্রিটবাংলা ডেস্ক : বর্ণবিদ্বেষপুর্ন মনোভাব এবং চিন্তা চেতনা ধ্বংস করে দিচ্ছে ফার রাইট ও রেসিস্ট ব্রিটিশ সাংবাদিক ও কলামিস্ট ক্যাটি হপকিন্সকে। তার কট্টর এবং ঘৃণাজনিত  লেখা এবং কথার কারণে একের পর এক প্রতিষ্ঠান থেকে চাকুরী হারিয়েছেন তিনি। এখানেই শেষ নয়,  আদালতে মামলা মোকাবিলা করতে গিয়ে বিক্রি করতে হয়েছে  ১ মিলিয়ন পাউন্ডের বাড়িও।

সর্বশেষ টুইটার থেকেও তাকে চিরতরে বের করে দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি ১ দশমিক ৩ মিলিয়ন শিশুর জন্যে ফ্রি স্কুল মিল ভাউচার অব্যাহত রাখার দাবীতে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মধ্যমাঠের খেলোয়ার মার্কাস রাশফোর্ড যখন ক্যাম্পেইন করছিলেন তখন এ নিয়ে টুইটারে অত্যন্ত অরুচিকর এবং বর্ণবিদ্যেষমুলক মন্তব্য করেন ক্যাটি হপকিন্স। এই মন্তব্যের পরপরই ক্যাটির একাউন্ট বাতিল করে চিরতরে তাকে টুইটারে নিষিদ্ধ করে টুইটার কর্তৃপক্ষ।

অথচ রাশফোর্ডের ক্যাম্পেইনের ফলে প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ৬ সপ্তাহের সামার হলিডেতে ফ্রি স্কুল ভাউচার অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন। এর আগে তা বাতিলের ঘোষণা দিয়েছিল সরকার। রাশফোর্ডের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের ঘোষণা দেন বরিস জনসন।

ফার রাইট এবং রেসিস্ট ক্যাটি হপকিন্সকে এর আগে দুটি সংবাদপত্র, একটি রেডিও থেকে চাকুরী হারাতে হয়েছে তার বিদ্বেষপুর্ণ মনোভাবের কারণে। এর মধ্যে একটি লাইবেল মামলা কোর্টের বাইরে আপোষ না করার ফলে তাকে অন্তত ৫শ হাজার পাউন্ড কোর্ট ফি পরিশোধ করতে হয়েছে। আর এজন্য তাকে তাক ১ মিলিয়ন পাউন্ডের বাড়ি বিক্রি করে থাকতে হয়েছে ভাড়াটে ঘরে।

জ্যাক মানরো

২০১৭ সালে ফুড রাইটার এবং দারিদ্র বিরোধী ক্যাম্পেইনার জ্যাক মনরো বিশ্ব যুদ্ধের একটি স্মৃতি স্তম্ভ ভেঙ্গেছেন বলে এক টুইট বার্তায় দাবী করেন রেসিস্ট ক্যাটি হপকিন্স। এই দাবী মিথ্যা এবং বিদ্বেষপুর্ন বলে পাল্টা দাবী করে আদালতে লাইবেল মামলা করেন জ্যাক মানরো। এই মামলার কোর্ট ফি বাবদ অন্তত ৫শ হাজার পাউন্ড পরিশোধের জন্য ২০১৮ সালে ডেভনের নিজের বাড়িটি ৯শ ৫০ হাজার পাউন্ডে বিক্রি করতে হয় ক্যাটিকে। তবে আদালতের বাইরে আপোষ করলে হয়তো এতো খরচ হতো না তার।

এরপর ২০১৩ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত দ্যা সানের কলামিস্ট ছিলেন। সানের একটি কলামে ভূমধ্য সাগরে ভাসমান অবৈধ অভিবাসীদের (মাইগ্র্যান্টদের) তিনি ককরোচ অর্থাৎ তেলাপোকার সঙ্গে তুলনা করেন। এই মন্তব্যের কারণে সান থেকে ২০১৫ সালে তাকে বরখাস্ত করা হয়। এরপর তিনি যোগ দেন মেইলঅনলাইনে। মেইলঅনলাইনে এক কলামে তিনি দুজন ব্রিটিশ নাগরিককে আমেরিকায় নিষিদ্ধের কারণ হিসেবে আলকায়েদার সঙ্গে তাদের সম্পর্ক ছিল বলে দাবী করেন। তার এই অযৌক্তিক দাবী চ্যালেন্জের মুখে পড়লে মেইল অনলাইন তার কলাম প্রত্যাহার করে ক্ষমা চাইতে বাধ্য হয়। এছাড়া আইনি খরচও পরিশোধ করতে হয় মেইল গ্রুপকে। এ কারনে ২০১৭ সালে মেইলঅনলাইন ছাড়তে হয় ক্যাটি হপকিন্সকে। যদিও টুইট বার্তায় ক্ষমা চান ক্যাটি। এরপর তিনি যোগ দেন এলবিসি রেডিওতে। ২০১৭ সালে ম্যানচেস্টার এরিনায় সন্ত্রাসী হামলার পর একটি বর্ণবিদ্বেষপুর্ন এবং উস্কানিমুলক মন্তব্যের কারণে এলবিসি থেকেও তাকে বিদায় করা হয়। এরপর ফক্স নিউজে একটি টকশো শুরু করলেও দর্শক প্রিয়তা না পাওয়ায় সেটাও বন্ধ হয়ে যায়। ক্যাটি এক সময় স্যার সুগারের সাথে বিবিসির এপ্রেন্টিস প্রোগ্রামেও ছিলেন। কিন্তু তার বিদ্বেষপুর্ন এবং ফার রাইট চিন্তা তাকে সেখানেও থাকতে দেয়নি।

এভাবে একের পর এক যখন চাকুরী হারিয়ে প্রায় একা হয়ে যাচ্ছিলেন ফার রাইট এবং বর্ণবিদ্বেষী ব্রিটিশ সাংবাদিক ক্যাটি হপকিন্স টিক তখন টুইটার তার ষোলকসা”ল পুরণ করে দিল।

মার্কাস রাশফোর্ডের ক্যাম্পেইন নিয়ে মন্তব্যের পর টুইটারে তার একাউন্ট বন্ধ করে সামাজিক মাধ্যমের এই ফ্লাটফর্মটিতে তাকে আজীবন নিষিদ্ধ বলে ঘোষনা দিয়েছে।

 

 

Related Articles

Back to top button