বাংলাদেশ

মারা গেলেন আরো ৪৭ জন, শনাক্ত ২,৬৬৬

ব্রিট বাংলা ডেস্ক :: গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণে আরো ৪৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। নতুন শনাক্ত হয়েছেন দুই হাজার ৬৬৬ জন। এ নিয়ে দেশে করোনায় এ পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে দুই হাজার ৩৫২ জনের। আর সব মিলিয়ে শনাক্ত হয়েছেন এক লাখ ৮৩ হাজার ৭৯৫ জন।

আজ রবিবার (১২ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে সরকারি বুলেটিনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। বুলেটিন প্রকাশে অংশ নেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।

ডা. নাসিমা বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা সংক্রমণে দেশে আরো ৪৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এঁরা ৩৬ জন পুরুষ এবং ১১ জন নারী। এঁদের বয়স ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে একজন, ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে দুইজন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে তিনজন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে চারজন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে ১৫ জন, ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে ১৪ জন, ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে ছয়জন এবং ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে দুইজন। এ নিয়ে দেশে করোনায় এ পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে দুই হাজার ৩৫২ জনের।

এ পর্যন্ত যাঁরা মৃত্যুবরণ করেছেন তাঁদের মধ্যে পুরুষ এক হাজার ৮৬০ জন এবং নারী ৪৯২ জন।

জানানো হয়, নতুন যে ৪৭ জনের মৃত্যু হয়েছে তাঁরা ঢাকা বিভাগের ২৩ জন, চট্টগ্রাম বিভাগের ছয়জন, রাজশাহী বিভাগের চারজন, খুলনা বিভাগের ছয়জন, বরিশাল বিভাগের দুইজন, রংপুর বিভাগের দুইজন এবং সিলেট বিভাগের চারজন। হাসপাতালে মারা গেছেন ৪৩ জন এবং বাসায় চারজন।

এ ছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন পাঁচ হাজার ৫৮০ জন। এ নিয়ে দেশের করোনা সংক্রমণ থেকে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ৯৩ হাজার ৬১৪ জন।

ডা. নাসিমা জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা সংগ্রহ হয়েছে ১১ হাজার ২১০টি। একই সময় পূর্বের নমুনাসহ পরীক্ষা হয়েছে ১১ হাজার ৫৯টি। এর মধ্যে করোনা রোগী হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে দুই হাজার ৬৬৬ জনকে। এ নিয়ে দেশে এ পর্যন্ত করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন এক লাখ ৮৩ হাজার ৭৯৫ জন। আর এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৯ লাখ ৪০ হাজার ৫২৪টি।

আইসোলেশন প্রসঙ্গে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আইসোলেশনে নেওয়া হয়েছে আরো ৭৩৭ জনকে। একইসময় আইসোলেশন থেকে ছাড় পেয়েছেন ৯০৯ জন। এ পর্যন্ত আইসোলেশনে গেছেন ৩৬ হাজার ৫০৫ জন। এ পর্যন্ত আইসোলেশন থেকে ছাড় পেয়েছেন ১৯ হাজার ১৮৬ জন। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ১৭ হাজার ৩১৯ জন।

কোয়ারেন্টিন প্রসঙ্গেও তথ্য দেওয়া হয় বুলেটিনে। বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় হোম এবং প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে এসেছেন দুই হাজার ৫৩১ জন। একইসময় কোয়ারেন্টিন থেকে ছাড় পেয়েছেন দুই হাজার ৯০০ জন। আর এ পর্যন্ত কোয়ারেন্টিনে গেছেন মোট তিন লাখ ৯৩ হাজার ৮৫৪ জন। আর এ পর্যন্ত কোয়ারেন্টিন থেকে ছাড় পেয়েছেন তিন লাখ ৩০ হাজার ৭৭১ জন। ছাড়ের পর বর্তমানে হোম এবং প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে আছেন ৬৩ হাজার ৮৩ জন।

সারা দেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনের জন্য প্রস্তুত ৬২৯টি প্রতিষ্ঠান। এর মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে ৩১ হাজার ৯৯১ জনকে সেবা প্রদান যায় বলে জানানো হয় বুলেটিনে।

বুলেটিনে আরো জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের স্বাস্থ্য বাতায়ন এবং আইইডিসিআর’র হটলাইনে কল এসেছে এক লাখ ৯০ হাজার ৩৮৮টি। এ নিয়ে এ পর্যন্ত ফোনকল গ্রহণ করা হয়েছে এক কোটি ৬০ লাখ ৫২ হাজার ৯৫৪টি। এসব কলে সবাইকে স্বাস্থ্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

প্লাটফর্ম মুক্তপাঠ-এ অনলাইনে সেবা দেওয়ার জন্য গত ২৪ ঘণ্টায় যুক্ত হয়েছেন আরো দুইজন চিকিৎসক। এ নিয়ে এই বিভাগে বর্তমানে মোট প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চিকিৎসকের সংখ্যা ১৬ হাজার ৪৭৪ জন। এ ছাড়া বর্তমানে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে হটলাইনে চার হাজার ২১৭ জন চিকিৎসক স্বাস্থ্য পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন বলে জানানো হয় বুলেটিনে।

Related Articles

Back to top button