করোনা

১০৫ দিন ভেন্টিলেশনে মৃত্যু-লড়াই, শেষে জীবন জয়ী ফাতিমা

ব্রিট বাংলা ডেস্ক : বিশ্বজুড়ে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ৬ লক্ষ ছাড়িয়েছে। এ পর্যন্ত মোট ৬ লক্ষ ৮ হাজার ৯৭৮ জন করোনা রোগীর মৃত্যু হয়েছে এই ভাইরাসের জেরে। গত ২৪ ঘণ্টায় বিশ্বে নতুন করে করোনা-আক্রান্ত ২৬ লক্ষের কাছাকাছি। এর মধ্যেই মিরাকল ঘটল ইংল্যান্ডে। করোনায় আক্রান্ত হয়ে ১৩০ দিন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন ৩৫ বছরের ফতিমা ব্রিডল। ১০৫ দিন ভেন্টিলেশনে থাকার পর এখন তিনি অনেকটাই সুস্থ। নিজে থেকে শ্বাস নিতে পারছেন। এবার তিনি দ্রুত বাড়ি ফিরবেন বলে জানা গিয়েছে।
৪০ দিন কোমায় ছিলেন ফাতিমা। মুখের মধ্য দিয়ে টিউব ঢুকিয়ে স্যালাইন মিশ্রন দিয়ে তার ফুসফুস পরিষ্কার করা হয়।ইংল্যান্ডের স্বাস্থ্য সচিব ম্যাট হ্যানকক জানিয়েছেন, ফতিমার সুস্থ হওয়ার তিনি খুশি। ফাতিমার স্বামী, প্রাক্তন সেনা কর্মী ট্রেসি ব্রিডল সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তার স্ত্রী মেডিক্যাল মিরাকল। এভাবে এতদিন ভেন্টিলেশনে থাকার পর এভাবে সুস্থ হয়ে ওঠা অসাধারণ ব্যাপার।
১২ মার্চ ফতিমাকে সাউদাম্পটন জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তারপর থেকে অসুস্থ বোধ করছিলেন। তার স্বামী ট্রেসি ব্রিডলের শরীরে প্রথম করোনা আক্রান্ত হন। এর পর আক্রান্ত হন তিনি। এরপরই ফতিমাকে ভরতি করা হয় হাসপাতালে। বেশ কয়েকদিন ধরে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হলেও তা কাজ করেনি। মার্চ মাসের ১৮ তারিখ তাকে ইনটেনসিভ কেয়ারে দেওয়া হয়। করোনা সঙ্গে একই সঙ্গে নিউমোনিয়া ও সেপসিসে আক্রান্ত হয়ে পড়েছিলেন। দীর্ঘ ৪০ দিন যাবৎ কোমায় ছিলেন ফতিমা। মুখের মধ্য দিয়ে টিউব ঢুকিয়ে স্যালাইন মিশ্রন দিয়ে তার ফুসফুস পরিষ্কার করা হয়। এপ্রিলের শেষে তার করোনা সেরে যায় কিন্তু নিউমোনিয়ার চিকিৎসা চলতে থাকে। পরের মাস থেকে ভেন্টিলেটর সাপোর্টও কমিয়ে দেওয়া হয়।
কিছুদিন পর ফাতিমার স্বাস্থ্যে লক্ষ্যণীয় উন্নতি হয়, নিজে থেকে শ্বাস নেওয়ার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায় ৪০ শতাংশ। এপ্রিলের শেষে তার করোনা সেরে যায়। এর পর চলে নিউমোনিয়ার চিকিৎসা। ১০৫ দিন ভেন্টিলেশনে থাকার পর এখন তিনি অনেকটা সুস্থ বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। আগের থেকে বেশি কথা বলতে পারছেন, ওয়াকার নিয়ে হাটতেও পারছেন। নিজে থেকে ৭০ শতাংশ শ্বাসও নিতে পারছেন। বাড়ি ছেড়ে হাসপাতালে রয়েছেন চার মাস। তবে, এবার তিনি দ্রুত বাড়ি ফিরতে চান।

Related Articles

Back to top button