প্রযুক্তি

যুক্তরাষ্ট্রে শিগগির নিষিদ্ধ হচ্ছে টিকটক : ট্রাম্প

ব্রিট বাংলা ডেস্ক : বিশ্বের দুই পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের বিরোধ ক্রমে বিস্তৃত হচ্ছে। গত মাসের সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র জানায়, দেশটি খুদে ভিডিও প্রকাশের জন্য চীনের তৈরি করা অ্যাপ ‘টিকটক’ নিষিদ্ধের কথা ভাবছে।

বিষয়টি নিয়ে আবারও কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার তিনি জানিয়েছেন, শনিবারের মধ্যে একটি নির্বাহী আদেশে সই করার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে চীনা জনপ্রিয় ভিডিও শেয়ারিং অ্যাপ টিকটককে নিষিদ্ধ করা হবে বলে।

টিকটক মানুষের ব্যক্তিগত যেসব তথ্য ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি বিবেচনায় এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন। এটি বেইজিংভিত্তিক কম্পানি বাইটড্যান্সের জন্য একটি চরম ব্যবসায়িক আঘাত হতে যাচ্ছে। কারণ এর আগে গত মাসে ভারতও টিকটক নিষিদ্ধ করে।

চীনের একমাত্র অ্যাপ হিসেবে বৈশ্বিকভাবে ব্যবসায়িক সাফল্য পাচ্ছে টিকটক। এরমধ্যে এমন নিষেধাজ্ঞার খড়গ টিকটকের জন্য মারাত্মক আঘাত হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে টিকটক নিষিদ্ধ হতে পারে এমন শঙ্কায় কম্পানিটি মার্কিন কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে সেখানকার মালিকানা বিক্রির করার কথা ভাবছিল।

শুক্রবার হোয়াইট হাউস, টিকটকের মালিকানা কম্পানি বাইটড্যান্স ও মাইক্রোসফট এর মধ্যে আলোচনার পর ট্রাম্পের এই ঘোষণা এসেছে। মাইক্রোসফট যুক্তরাষ্ট্রে টিকটকের মালিকানা কিনে নেওয়ার ব্যাপারেই কথা আলোচনা হচ্ছিল। কিন্তু রয়টার্স জানাচ্ছে, উভয় পক্ষ একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে।

রয়টার্স শনিবারের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, আলোচনা অব্যাহত থাকবে। ইতোমধ্যে পেশাজীবীদের সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম লিংকডইনের মালিকানা পাওয়া মাইক্রোসফট টিকটক কিনে নেওয়ার ক্ষেত্রে ফেসবুবক ইনকরপোরেশনসহ অন্যান্য আগ্রহী ক্রেতাদের তুলনায় কম নিয়ন্ত্রক বাধার মধ্যে পড়বে।

যুক্তরাষ্ট্রে মাসিক আট কোটি ব্যবহারকারী রয়েছে টিকটকের। কিন্তু টিকটককে নিষিদ্ধ করার ক্ষেত্রে ট্রাম্পের কেমন কর্তৃত্ব রয়েছে এ ব্যাপারে এখনও স্পষ্ট কোনো ধারণা পাওয়া যায়নি। এছাড়া এই ধারণাও পাওয়া যাচ্ছে নাযে নিষেধাজ্ঞাটি কীভাবে কার্যকর হবে এবং এতে করে টিকটক আইনি কোনো চ্যালেঞ্জে পড়বে কিনা।

এর আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও একই কথা জানান। তিনি বলেন, কেবল টিকটক নয়, যুক্তরাষ্ট্রে নিষিদ্ধ হতে পারে চীনের তৈরি করা সামাজিক যোগাযোগের অন্যান্য অ্যাপও।

ফক্স নিউজে এক সাক্ষাৎকার দেন পম্পেও। সেখানে উপস্থাপক লরা ইনগ্রাহাম জানতে চান, ‘টিকটকের মতো চীনের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো নিষিদ্ধের কোনো চিন্তাভাবনা যুক্তরাষ্ট্রের আছে কি না?’ জবাবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এটি নিয়ে অবশ্যই চিন্তাভাবনা করছি।’

Related Articles

Back to top button