যুক্তরাজ্য

বৃটিশ সরকারের ভুল সিদ্ধান্তে ব্রিটেনে করোনা ছড়িয়েছে : ঝরেছে ৪৬, ২৯৯টি প্রাণ

মো: রেজাউল করিম মৃধা ॥ বৃটেনে গত চব্বিশ ঘন্টায় করোনায় ৬৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছে আরো ৮শ ৯২ জন। এদিকে হোম অফিস সিলেক্ট কমিটি অভিযোগ করে বলেছে, বিমান বন্দরসহ সীমান্তগুলোতে যথা সময় কঠোরতা আরোপে সরকারের ব্যর্থতার ফলে করোনার উপসর্গ নিয়ে হাজার হাজার মানুষ বৃটেনে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়েছে। শুধু মার্চেই অন্তত ১০ হাজারের বেশি করোনা রোগি বৃটেনে প্রবেশ করেছে বলে হোম এফেয়ার্স সিলেক্ট কমিটির পর্যালোচনা রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।

করোনা মহামারী শুরুর পর ২৭শে জানুয়ারী থেকে, চীন,  ইরান এবং ইতালি থেকে বৃটেনে ফেরত নাগরকিদের কোয়ারেনটাইন আরোপ করেছিল ব্রিটেন। তবে ১৩ মার্চ থেকে ভ্রমনকারীদের জন্যে বাধ্যতামূলক সেল্ফ আইসোলিউশন বা কুরানটাইন গাইডলাইন প্রত্যাহার করা হয়। এরপর ২৩ শে মার্চ বৃটেনে লকডাউনের ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। আর ৮ জুন পুনরায় ব্রিটেনে ফেরত বিদেশীদের জন্য ১৪ দিনের কোয়ারেনটাইন বা সেল্ফ আইসলিউশন বাধ্যতামূলক করা হয়।

বৃটিশ সরকার করোনাভাইরাস মোকাবেলায় যে সব কারনে ব্যর্থ হয়েছে বলে মনে করছেন গবেষকরা। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল :
* ১৩ই মার্চ-২০২০। সরকার ঘোষনা করে স্টে হোম। এটাই সবচেয়ে বড় ভুল বলে মনে করছেন গবেষকরা। তাদের মতে, তখনই উচিত ছিলো পুরাপুরি লক ডাউনের। কেননা স্টে হোমকে কোন নাগরিকই তেমন গুরুত্ব দেয় নি। স্টে হোম এবং লক ডাউন এটা বুঝাতে না পারাই সরকারের সব চেয়ে বড় ভুল।
* এয়ারপোর্টগুলিতে ছিলো অবাধে যাতায়াতের ব্যাবস্থা ।
* ইউকের বর্ডারগুলি ছিল । কে এলো কে গেলো তার কোন তালিকা ছিলো না।
* প্রয়োজনে ঘরের বাইরে যাওয়া। এই সুযোগটি সব জনসাধারন লুফে নিয়েছে। ঘরে বন্দি না থেকে অবাধে ঘুরে বেড়িয়েছে।
* ১৪ দিনের কোয়ারেনটাইন তেমন কার্যকর হয় নাই। এখানেই সরকারের বেশী ব্যর্থ।
* ইউরোপ বা এশিয়া থেকে যাত্রীদের আসতে দেওয়া ছিলো সরকারের চরম ভুল।
* বিশেষ করে চায়না, ইরান, সাউথ কোরেয়া সহ অন্যান্য দেশের লোক আসার ফলেই করোনাভাইরাস মহামারি আঁকার ধারন করে।
* ট্রাভেল গাইড বা ট্রাভেলের সুনির্দিষ্ট নিয়ম ছিলোনা এবং এখনো নেই। নেই কোন কড়াকড়ির বালাই যার ফলে ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়েছে।
* আইসোলেশনে গুরুত্ব ও এর উপকারিতা জনগনের মাঝে তুলে ধরতে পারেনি সরকার।
* সামার টাইমে স্পেন সহ অন্যান্য দেশে ঘুরতে যেতে দেওয়া ও সরকারের আর একটি বড় ব্যার্থতা।
* লক ডাউনের পূর্বের ১০ দিন ছিলো সবচেয়ে মারাত্বক কিন্তু তখন সরকার কোন ভূমিকাই রাখেনি। সেই সময়ই বিভিন্ন দেশ থেকে ব্রিটেনে বিভিন্ন পথে বাইর থেকে লোক এসেছেন আর সাথে নিয়ে এসেছেন মরণঘ্যাতি করোনাভাইরাস ।
* মার্চের মাঝামাঝি বৃটিশ সরকার ছিল ঢিলেঢালা ভাবে গুরুত্বহীন। সেই সময়ই করোনাভাইরাসের প্রাদূরভাব ছিল বেশী। সেই সময় টের না পেলেও পরবর্তীতে হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে।
ঝরে গেছে এত গুলি তাঁজা প্রাণ।
* সরকারের শক্ত অবস্থান ছিলোনা । করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীরা অবাধে বাহিরে হাওয়া খেতে গিয়েছে। আর ভাইরাস বাতাসে ছডিয়েছে। এখানে আইসোলেশন বা কোরাইনটাইন কার্যকর করা জরুরী ছিলো কিন্তু সরকার করেনি।
* করোনাভা্ইরাস মহামারিতে সরকারী বিধিনিষেধ বা নিয়ম গুলি আরো পরিস্কার এবং জোরালো হওয়া উচিত ছিলো।
* প্রতিদিন ১ ঘন্টার জন্য শরীর চর্চা করার নিয়মটি কতটুকু কার্যকর হয়েছে না কি মরণ ফাঁদ সৃষ্টি হয়েছে তা সময়ই বলে দিবে?
বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেছেন, “করোনাভাইরাস মহামারিতে সিদ্ধান্ত নিতে সরকার কিছুটা বিলম্ব হলেও পরবর্তী কার্যক্রম গুলি সাহসিকতার সাথেই পালন করেছে”। তিনি আরো বলেন “জনসাধারন , এনএইচএস , সরকার সহ সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা করোনাভাইরাস মহামারি নিয়ন্ত্রন করতে পেরেছি,”।

সেপ্টেম্বরে স্কুল খোলা নিয়েও রয়েছে শংকা ও ভয়। যদিও এডুকেশন সেক্রেটারী গ্যাভিন উলিয়ামসন অভিবাবকদের আশ্বস্ত করছেন স্কুলে সন্তানদের পাঠানোর জন্য। তিনি বলছেন “স্কুলে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে সব ধরনের হাইজিং মেইন্টেইন করেই স্কুল পরিচালিত হবে । ছাত্র/ছাত্রীদের নিরাপত্তার দিকে সরকারের কঠোর ব্যাবস্থা আছে নির্বিঘ্নে সন্তানরা স্কুলে আসতে পারবে”।

সেকেন্ড ওয়েবের জন্য বৃটিশ সরকার পুরোপুরি ওয়াকিব হাল আছে। যে ভুল গুলি হয়েছে সে ধরনের ভুলের সম্ভবনা নেই।

এনএইচএস মনে করে, শুধু সরকার নয়, প্রশাসন, এনএইচএস সহ জনসাধারন সকলের সম্মিলিত সহযোগিতাই করোনাভাইরস সহ যে কোন দূর্যোগ বা মহামারি নিয়ন্ত্রন করা সম্ভব।

Related Articles

Back to top button