বাংলাদেশ

রত্নার মৃত্যু দেশের সম্পদের নিষ্ঠুর অপচয়

শোকে স্তব্ধ বন্ধুরা

ব্রিট বাংলা ডেস্ক : বীরপ্রতীক খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা বাবার সন্তান রেশমা নাহার রত্নাও ছিলেন যোদ্ধা মানসিকতার। দুর্গম পর্বত জয়ের নেশা পেয়ে বসেছিল তাঁকে। পবর্তারোহনের মতো কষ্টসাধ্য ক্রীড়ার চ্যালেঞ্জ ছাড়াও সামাজিক, অর্থনৈতিক নানা প্রতিবন্ধকতার সঙ্গে লড়েই তিনি এগিয়ে যাচ্ছিলেন। দৌঁড়, সাইক্লিং এর সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। পাশাপাশি তিনি একটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকও ছিলেন। ৩৩ বছর বয়সী রত্না দেশকে দিতে পারতেন অনেক কিছুই। এমন একজন মানুষের সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুকে দেশের সম্পদের নিষ্ঠুর অপচয় বলে মনে করছেন তার বন্ধু, শুভাকাঙ্খিরা।

জানা গেছে, আজ শুক্রবার সকালে রাজধানীর হাতিরঝিলে ২১ কিলোমিটার দৌঁড় শেষ করে নিজের সাইকেল চালিয়ে মিরপুরের পাইকপাড়ায় নিজের সরকারী কোয়ার্টারে ফিরছিলেন রত্না। একটি ম্যারাথনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি। সকাল ৯টার দিকে তিনি জাতীয় সংসদ ভবন ও চন্দ্রিমা উদ্যানের মাঝের রাস্তায় পৌঁছান। চন্দ্রিমা উদ্যানের সেতুর কাছাকাছি পৌঁছানোর পর একটি মাইক্রোবাস তাকে চাপা দেয়। পথচারীরা তাকে উদ্ধার করে সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিত্সক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
রত্নার লাশ দেখতে সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভীড় জমান দেশের খ্যাতিমান বেশ কয়েকজন পবর্তারোহী। এভারেস্ট বিজয়ী নিশাত মজুমদার, মীর শামসুল আলম বাবু, হোমায়েদ ইশহাক মুন, শায়লা বিথী, জয়নব শান্তু, ইয়াসমিন লিসা, শামীম সাব্বিরসহ আরও বেশ কয়েকজন হাসপাতালে ছুটে আসেন।
এভারেস্ট বিজয়ী নিশাত মজুমদার বলেন, ‘এ ধরনের একটি তাজা প্রাণের ঝরে যাওয়া খুবই কষ্টের। এটাকে আমি হত্যা মনে করি। রত্না দেশের সম্পদ ছিলেন। তার মৃত্যু দেশের জন্যই ক্ষতি।’
ভারতের নেহেরু মাউন্টিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে রত্নার সঙ্গে বেসিক কোর্স করেন পবর্তারোহী শায়লা বিথী। তিনি বলেন, ‘রত্না আপুর মানসিক দৃঢ়তা ছিল অনেক প্রবল। তিনি কোনো প্রতিকূলতাতেই দমে যেতেন না। হার মেনে তিনি বারবার উত্তরণের চেষ্টা করতেন। তার এই বিষয়গুলো আমাদের অনুপ্রেরণা দিত।’
রত্না শিক্ষকতা করতেন নিউমার্কেটের পাশে আইয়ুব আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। স্কুলটির প্রধান শিক্ষক সাইদা আক্তার বলেন, ‘গত রাতেই মেসেঞ্জার গ্রুপে রত্নার সঙ্গে কথা হয়। তিনি শনিবার স্কুলে আসতে চেয়েছিলেন। স্কুলের শিক্ষার্থীদের কাছে তিনি খুবই জনপ্রিয় ছিলেন। এতো কম বয়সে তার এভাবে চলে যাওয়া মেনে নিতে পারছি না।’
আজ দুপুর ১২টার দিকে সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে গিয়ে দেখা যায়, রত্নার মরদেহ একটি ট্রলিতে রাখা আছে। তার মাথার অংশে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন। শরীরের উপরের অংশ রক্তে ভিজে আছে।
হাসপাতালে উপস্থিত রত্নার একাধিক বন্ধু জানান, আইয়ুব আলী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রত্না প্রায় ৬ বছর ধরে শিক্ষকতা করছেন। তিনি এতদিন ফার্মগেট ও আশেপাশের এলাকাতেই থাকতেন। গত মার্চে তিনি মিরপুর পাইকপাড়ায় সরকারি বাসা বরাদ্দ পান। মাস খানেক আগে ওই বাসায় নিয়মিত থাকতে শুরু করেন রত্না। গত জুলাইলয়ে নিজের জন্মদিন উপলক্ষে একটি সাইকেল কেনেন রত্না। তিনি সেই সাইকেল নিয়েই ঢাকায় চলাফেরা করতেন। এই সাইকেলটিকেই আজ ঘাতক গাড়িটি চাপা দেয়।
হাসপাতালে রত্নার ভাগ্নে জাকারিয়া বলেন, ‘রত্না খালারা ৪ বোন ও তিন ভাই। উনার বাবা আফজাল হোসেন বীরপ্রতিক খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা। ওনারা নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের ধূপাদহ গ্রামে থাকেন।’

Related Articles

Back to top button