যুক্তরাজ্য

করোনা সংকটে হাততালি মিললেও উপেক্ষিত হচ্ছে এনএইচএস স্টাফদের বেতন বাড়ানোর দাবী

মো: রেজাউল করিম মৃধা ॥ কভিড-১৯ বা করোনাভাইরাস মহামারিতে ব্রিটেনের চিকিৎসা সেবায় এন এইচ এস যে সেবা দিয়েছে তা বিশ্বে বিরল। নিজেদের জীবন বাজি রেখে রোগীর সেবা দিয়েছেন। করোনা রোগীর সেবা দিতে গিয়ে, এন এইচ এসের ডাক্তার, নার্স, স্টাফ সহ অন্যান্য কর্মকর্তা কর্মচারী মিলে এ পর্যন্ত ৬৮০ জন মারা গেছেন। তারপরও নিজেদেরকে দায়িত্ব থেকে এক পা পিছু হটেনি।

গত মার্চ মাস থেকে এ পর্যন্ত প্রতি বৃহস্পতিবার রাত ৮ টায় এনএইচএস স্টাফদের জন্য দু মিনিট নিরবতা পালন সেই সাথে হাততালি দিয়ে তাদের কাজের স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে।দেওয়া হচ্ছে উৎসাহ ।

কিন্তু এনএইচএস স্টাফরা বলছেন, “শুধু হাততালি নয় আমাদের বেতন বাড়াতে হবে”। এই দাবী নিয়ে অক্সফোর্ড স্ট্রিট, সেন্ট্রাল লন্ডন, ম্যানচেস্টার, ব্যারমিংহ্যাম, ব্রিস্টলসহ বিভিন্ন স্থানে আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে।

শতকরা ১৫ পারসেন্ট বেতন বাড়ানো দাবিতে আন্দোলন ইউনিট বলছে, সরকার যদি শতকরা ১৫ পারসেন্টের দাবী মেনে নেয় তবে ভালো আর যদি দাবী না মানে তবে সমস্যা আরো বেড়ে যাবে। শুধু হাততালি দিয়ে সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে না।

২০১০ সালের বেতনের স্কেল এখনও চলছে। যদিও প্রতি ৩ বছর পরপর বেতন বাড়ানোর নিয়ম রয়েছে। সরকার সেদিকে নজর না দিয়ে হাততালি দিয়েই খুসি রাখতে চাচ্ছে। এটা আর সম্ভব নয়।

ফিজিওথেরাপিস্ট নার্স আলিয়া বাট বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের সেবা দিয়েছেন নিজের জীবন বাজি রেখে। বরিস জনসন সুস্থ্য হলেও আলিয়া বাট এখন জীবন মৃত্যুর সাথে পান্জা লড়ছেন। এখন তার সেবা দেওয়ার মত কেই নেই। তিনি নিজের ন্যায্য বেতনও পাচ্ছেন না।

আর এক সিনিয়র এনএইচএস ওয়ারকার জর্ডান রিভেরা বলেন,” দীর্ঘ ৬ মাস এনএইচএস ফ্রন্ট লাইনে কাজ করে আজ নিজেই অসুস্থ্য হয়ে পরে আছি। তিনি বলেন, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এমন কঠিন কাজ করে যদি ভালো বেতন না পাওয়া যায় তবে সেটা সত্যিই দু:খের”।

দি ডিপার্টমেন্ট অফ হেল্থ এ্যান্ড সোসাল কেয়ারের দাবী প্রতি তিন বছর পর পর অবশ্যই বেতন বাড়াতে হবে।

দি ইনডিপেন্ডেন্ট এনএইচএস পে রেভিনিউ বডি বলছে, অতি দ্রুত এনএইচএস স্টাফদের দাবী সরকারের মেনে নেওয়া উচিত। হাততালি সাথে রিএওয়ার্ড হিসেবে বেতন বৃদ্ধি সরকারের জন্য মঙ্গলজনক।

জি এম বি ইউনিয়ন এনএইচএস স্টাফদের সুযোগ সুবিধা আদায়ে সৌচ্ছার ভূমিকা রাখছে। সরকার যদি এনএইচএস স্টাফ, ডাক্তার, নার্সদের দাবী না নেমে নেয় তবে যদি করোনার দ্বিতীয় দফায় আসে তখন সরকার মহা সংকটে পরতে পারে বলে সতর্ক করেছে ইউনিয়ন।

Related Articles

Back to top button