যুক্তরাজ্য

নভেম্বর থেকে ফারলো’র বিকল্প স্কীম ব্রিটেনে

মো: রেজাউল করিম মৃধা ॥  কভিড ১৯ বা করোনাভাইরাস মহামারিজনিত কারনে যে সকল কর্মচারী পুরোপুরি কাজে ফিরতে পারছেন না তাদের জন্য সরকার এবং চাকুরিদাতা সংস্থাগুলি বেতনের ভর্তুকি দিতে নতুন স্কীম ঘোষণা করেছেন চ্যান্সেলর ঋষি সোনাক।
ফার্লু স্কিমের পরিবর্তে জবস সাপোর্ট স্কিমের মাধ্যমে বেতনের কমপক্ষে ৭৭ শতাংশ দেয়া হবে। এই স্কিমের মাধ্যমে কর্মচারীদের চাকুরি রক্ষা করতে চেস্টা করছে সরকার। বৃহস্পতিবার পার্লামেন্টে চ্যান্সেলার বলেছেন, এটি শীতকালিন অর্থনৈতিক পরিকল্পনার অংশ বিশেষ।

আগামী ৩১ অক্টোবর বন্ধ হবে ফার্লু স্কিম। ফলে তিন মিলিয়নের বেশি কর্মচারী তাদের চাকুরী হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে। এটি ব্রিটেনের মোট কর্মচারীদের ১২ শতাংশ। চাকুরী বাজারের ধ্বস থামাতে আগামী নভেম্বর থেকে ৬ মাসের জন্য নতুন স্কীম ঘোষণা করা হয়েছে।

স্কীমে যা থাকছে :

১/ এই প্রকল্পের আওতায় যারা নিয়মিত কর্ম ঘন্টার চেয়ে (পার্ট টাইম) কম সময় কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন তাদের ভূর্তুকি দেয়া হবে।
২/ এটি সে সকল কর্মচারীদের ক্ষেত্রে প্রযোয্য হবে যারা তাদের কাজের এক তৃতীয়াংশ কর্মঘন্টা কাজ করার সুযোগ পাচ্ছেন ।
৩/ নিয়োগকর্তা প্রতিষ্ঠান যতটুকু সময় কর্মচারীকে দিয়ে কাজ করাবেন সেই সময়ের বেতন তারা পরিশোধ করবেন।
কর্মচারীরা যত ঘন্টা কাজ করতে পারবেনা তার জন্য সরকার এবং নিয়োগকর্তা প্রত্যেকে মিলে বাকী এক তৃতীয়াংশ বেতন পরিশোধ করবে। এক্ষেত্রে সরকার সর্বোচ্চ ৬৯৭.৯২ পাউন্ড দিবে।
৪/ সকল ছোট এবং মাঝারি আকারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এই স্কিমের জন্য যোগ্য হবে। আর বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের টার্নওভার কমে গেলে তারাও উপযুক্ত হবে।
৫/ এ স্কিম সমস্থ ইউকের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রযোয্য হবে, যদি তারা পূর্বে ফার্লু স্কিমে নাও থাকে।
৬/ নতুন স্কীমের মাধ্যমে সরকার প্রায় ৩০০ মিলিয়ন পাউন্ড প্রতি মাসে ভর্তুকি দিবে।
৭/ এদিকে হসপিটালিটি (রেস্টুরেন্ট) এবং পর্যটন সেক্টরের জন্য ভ্যাট কাটের সময় আগামী মার্চ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে।

গত ১৫ জুলাই থেকে এই সেক্টরের ভ্যাট ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশে আনা হয়। এটি আগামী ১২ জানুয়ারী থেকে পূর্বে অবস্থায় ফিরে যাওয়ার কথা থাকলেও আগামী মার্চ পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে।

এই করোনাভাইরস মহামারিতে বৃটেন সরকার দেশের অর্থনৈতিক চাকা স্বচল করতে আন্তরিক ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। নতুন এই স্কীমের ফলে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ও শ্রমিকদের কর্মসংস্হান দুটোই অভ্যহত থাকবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Related Articles

Back to top button