আন্তর্জাতিক

৭৩ বছর পরেও কাশ্মীর দখল, ধ্বংসের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান!

ব্রিট বাংলা ডেস্ক :: জম্মু ও কাশ্মীরের ইতিহাসের সবচেয়ে অন্ধকারতম রাত ছিল ১৯৪৭ সালের ২১ ও ২২ অক্টোবরের মধ্যবর্তী রাতটি। ওই রাতে পাকিস্তান অঞ্চলটি দখল ও ধ্বংস করতে অপারেশন গুলমার্গ পরিচালনা করে। ওই ঘটনার ৭৩ বছর পেরিয়ে গেলেও পাকিস্তানের আকাঙ্ক্ষা এখনো আগের মতোই রয়ে গেছে। এখনো সে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান। এমনটাই বলছে ইউরোপীয় থিংকট্যাংক ইএফএসএএস।

ইউরোপীয় ফাউন্ডেশন ফর সাউথ এশিয়ান স্টাডিজের (ইএফএসএএস) ভাষ্যমতে, গুলমার্গে উপজাতির আক্রমণটি ছিল ভয়াবহ। তাদের আক্রমণে ৩৫ হাজার থেকে ৪০ হাজার মানুষ মারা যায়। এটিকে ইএফএসএএস জেকের ইতিহাসে এক ভয়াবহ চিহ্ন বলে আখ্যায়িত করেছে। রাতটিকে কাশ্মীরের পরিচয় মুছে ফেলার প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে চিহ্নিত করেছে ইএফএসএএস।

থিংকট্যাংকের মতে, মেজর জেনারেল আকবর খানের (যিনি সম্প্রতি একটি বইয়ে এ বিষয়ে কথা বলেছেন) কমান্ডের অধীনে অপারেশন গুলমার্গের চিন্তা করা হয়েছিল ১৯৪৭ সালের আগস্টের প্রথম দিকে। জেনারেল খান ছাড়াও সরদার শওকত হায়াত খান এই অভিযানের পরিকল্পনা ও নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তিনি ছিলেন আবার পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ঘনিষ্ঠ সহায়তাকারী।

শওকত পরে ‘দ্য নেশন দ্যাট লস্ট ইটস সোল‘ নামে একটি বইয়ে স্বীকার করে নিয়েছিল যে তাকে কাশ্মীর অভিযানের তত্ত্বাবধায়ক করা হয়েছিল। এই অভিযানের জন্য তৎকালীন অর্থমন্ত্রী গোলাম মুহাম্মদ পাকিস্তানের কোষাগার থেকে তিন লাখ রুপি দিয়েছিলেন।

ইউরোপীয় ফাউন্ডেশন ফর সাউথ এশিয়ান স্টাডিজ বলছে, কাশ্মীরে অভিযান চালানোর জন্য ১৯৪৭ সালের ২২ অক্টোবর তারিখটি নির্ধারণ করেন মেজর জেনারেল আকবর খান। ১৮ অক্টোবরের মধ্যে পুরো লস্করের সদস্যদের জেকে (জম্মু ও কাশ্মীর) সীমান্তের কাছে অ্যাবোটাবাদে মিলিত হওয়ার জন্য বলা হয়েছিল। তারা সবাই রাতের আঁধারের আড়ালে বেসামরিক বাস ও ট্রাকে করে গিয়ে সেখানে জড়ো হয়েছিলেন।

ইএফএসএএস বলছে, একটি পৌরাণিক কাহিনি পাকিস্তান এখনো বলে বেড়াচ্ছে। সেটি হলো উপজাতি আক্রমণকারীরা ছিল মুক্তিকামীদের। কাশ্মীরে তাদের জিহাদের ধর্মীয় শর্ত পূরণ করতে এসেছিল। কারণ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় জম্মুতে মুসলমানদের হত্যা করা হচ্ছিল। তবে বাস্তবতা হলো, তাদের আক্রমণে মুসলিমরাও রেহাই পাননি।

অনুপ্রবেশকারীরা ১৯৪৭ সালের ২৬ অক্টোবর বারামুল্লায় প্রায় ১১ হাজার মানুষকে হত্যা করে। শ্রীনগরে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা মোহরা বিদ্যুৎ কেন্দ্রটিকে ধ্বংস করে দেয়। জম্মু ও কাশ্মীরের প্রথম প্রধানমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহ ১৯৪৮ সালে জাতিসংঘে এই আক্রমণের বর্ণনা দিয়ে বলেছিলেন, আক্রমণকারীরা আমাদের ভূখণ্ডে হানা দিয়েছিল। হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করেছিল। বেশির ভাগ হিন্দু ও শিখ ছিল তাদের আক্রমণের শিকার। কিন্তু মুসলমানরাও ছিল। হাজার হাজার মেয়েকে অপহরণ করেছিল। আমাদের সম্পত্তি লুট করেছিল এবং আক্রমণকারীরা প্রায় আমাদের ‘গ্রীষ্মকালীন’ রাজধানী শ্রীনগরের গেটে পৌঁছে গিয়েছিল।

উপজাতিদের আক্রমণের পরিকল্পনাকারী এবং দুষ্কৃতীরা অবশ্যই কাশ্মীরি জনগণের প্রধান শত্রু ছিল এবং রয়ে গেছে। ১৯২৪ সালের ২২ অক্টোবর আক্রমণ শুরু হয়েছিল। আর জম্মু-কাশ্মীরের ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে অন্ধকার দিন হবে, বলছে ইউরোপীয় থিংকট্যাংক।

Related Articles

Back to top button