কমিউনিটি

টাওয়ার হ্যামলেটসের ’এ সিজন অব বাংলা ড্রামা’ এবার অন লাইনে

১২ নভেম্বর থেকে ২১ নভেম্বর পর্যন্ত রাতে অনলাইনে মঞ্চায়িত হবে সব পারফর্মেন্স

লাইট – ক্যামেরা – এ্যাকশন!!! বরাবরের মতো এবারও শুরু হয়েছে এ সিজন অব বাংলা ড্রামা শীর্ষক বার্ষিক বাংলা নাট্যোৎসব, তবে উৎসবের ১৮তম আসরটি হচ্ছে ভিন্ন রূপে – ভার্চ্যূয়াল প্লাটফরমে আয়োজিত এই উৎসবের পরিবেশনাগুলো এবার দর্শকরা নিজেদের ঘরে বসেই উপভোগ করবেন।

আর্টস কাউন্সিল ইংল্যান্ডের কাছ থেকে পাওয়া আর্থিক সহায়তায় এবং কুইন মেরি ইউনিভার্সিটির সাথে পার্টনারশীপের ভিত্তিতে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের উদ্যোগে আয়োজিত এই মাসব্যাপি উৎসব সফল করতে এই আয়োজনের সাথে জড়িতদের সকলেই নিরন্তর পরিশ্রম, আবেগ ও ভালোবাসা দিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন।

এ প্রসঙ্গে মেয়র জন বিগস বলেন, ২০২০ সালের বাংলা নাট্যোৎসব ‘এ সিজন অব বাংলা ড্রামা’র শুরু হওয়াকে আমি স্বাগিত জানাই। এবারের পুরো উৎসবটিই অনলাইনে হওয়ায় হয়তো এটি কিছুটা ভিন্ন দেখাতে পারে, কিন্তু এটি বরাবরের মতোই অতীতের চেয়ে  বেশি সুসংহত ও সমৃদ্ধ হবে । এটি পারিবারিক প্রগতিশীলতা, বিস্তৃতি এবং মানবিক চেতনার শক্তি থেকে শুরু করে কোভিড-১৯ মহামারির কারণে শ্রেণি সংগ্রাম, কুসংস্কার ও ক্ষতিকর প্রভাব ও সামাজিক সচেতনতার বিষয়গুলোকে তুলে ধরবে। বরাবরের মতো, এই সাবর্জনীন এবং সমসাময়িক বিষয়গুলো সকল বয়সী দর্শকদের কাছে আবেদন রাখতে সক্ষম হবে বলে আমার বিশ্বাস।

ব্রিটিশ বাংলাদেশী কমিউনিটি সহ অন্যান্য অডিয়েন্সের জন্য নভেম্বরের ১০টি রাতে অনলাইনে মঞ্চায়িত হবে উৎসবের পারফর্মেন্সগুলো। ১২ নভেম্বর থেকে ২১ নভেম্বর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে এই ভার্চ্যূয়াল উৎসব।

কমিউনিটির সাথে নানা স্তরে সম্পৃক্ততার বিকাশ এবং স্থানীয় অভিজ্ঞতাকে তুলে ধরার মাধ্যমে কমিউনিটির দক্ষতাকে উদযাপনের মতো উপযুক্ত স্থান দিতে এই বাংলা নাট্যোৎসব অনুঘটক হিসেবে কাজ করে থাকে। উৎসবটি তার স্বাভাকি উদযাপন, পারফরমেন্স এবং আলোচনার বাইরেও যথেষ্ট পরিমাণে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পুঁজিকে একত্রিত করে। প্রয়োজনীয়তার কারণে এ বছর অরিজিনাল পারফর্মেন্স, আলোচনা ও ওয়ার্কশপগুলোকে ডিজিটাল ও অন্যান্য মিশ্র প্লাটফর্মে সরিয়ে নিতে হচ্ছে।

এর মধ্যে থাকবে, লাইভ স্ট্রিমড অর্থাৎ সরাসরি সম্প্রচারিত ইভেন্ট, আগে ধারনকৃত অনুষ্ঠান এবং সংক্ষেপিত পারফর্মেন্স, আন্তর্জাতিক রচনা প্রকল্প নিয়ে যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের তরুণদের মধ্যে অনলাইনে আলোচনা।

এবারের উৎসবের প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে, ‘কামিং অব এজ’, বা সময়ের আগমন যা উৎসবের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রতিফলিত হবে এবং ব্যক্তিক কিংবা শৈল্পিক অথবা রাজনীতি – নানা ক্ষেত্রে থাকতে পারে এর বিস্তৃত ব্যাখ্যা।

১২ নভেম্বর বিকাল ৫.১৫টায় উৎসবের উদ্বোধনী দিনে প্রিমিয়ার হবে ‘মুকুল এন্ড ঘেটো টাইগার্স এর ‘ডায়মন্ড বাবু’স বেঙ্গলি বায়েস্কোপ’, ১৩ নভেম্বর বেলা ২.১৫টায় অনুষ্ঠিত হবে প্যানেল ডিসকাশন ‘অল্ডগেইট ইস্ট – মাই নেইবারহুড এবং বিকাল ৫.১৫টায় প্রিমিয়ার হবে স্টেজক্রাফট থিয়েটার লন্ডন এর ‘স্বপ্নের ঠিকানা’, ১৪ নভেম্বর থিয়েটার সিলেট এর পরিবেশন ‘দ্যা ওল্ড ম্যান এন্ড দ্যা সী’ এবং আমরা থিয়েটার গ্রুপের ‘ডালভাত: আস টু বেঙ্গলি গার্লস’, ১৫ নভেম্বর ‘সাবালক গল্প’, থিয়েটার শাইন এর ‘নাথিং টু সে’, উদীচী শিল্পী গোষ্টি ইউকে সংসদ এর ‘অসময়: নট এ সুইটেবল টাইম’, ১৬ নভেম্বর স্বাধীনতা ট্রাস্টের উদ্যোগে বেঙ্গলি হিস্ট্রি ওয়াক, ১৭ নভেম্বর আলোকচিত্র শিল্পী কয়েছ মিয়ার ফটো প্রদর্শনী ‘এক্সিবিশন ট্যুর: লিভড ব্রুটালিজম’, ১৮ নভেম্বর ব্রিটিশ বেঙ্গলী পয়েট্রি কালেক্টিভ এর কামিং অব দ্যা এইজ পয়েট্টি, ১৯ নভেম্বর লাফবারা ইউনিভার্সিটির খাদ্য ও স্মৃতি নিয়ে বিশেষ পরিবেশনা, টামারিন্ড থিয়েটার কোম্পানীর ‘আমি কী ব্রিটিশ বেঙ্গলি?’, ম্যাসেজ কালচার গ্রুপের প্রথা/ক্লাস, ২০ নভেম্বর সোহায়া ভিশন এর ‘রিডিং অব লালন : হার্ট অব ম্যাডনেস’, বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের ‘নো ম্যানস্ স্কাই’, ২১ নভেম্বর আলী ক্যাম্বেল, টনি সিলি এবং সুদীপ চক্রোবর্তীর যৌথ পরিবেশনা ‘নর্মাল ওয়াজ নট ওয়ার্কিং’, এবং সব শেষ পরিবেশনা হচ্ছে ট্রিয়োআর্টস বাংলার ‘গুডবাই ফ্রেন্ডস’।

কেবিনেট মেম্বার ফর আর্টস এন্ড কালচার, কাউন্সিলর সাবিনা আখতার বলেন, বৈচিত্রময় প্রোগ্রাম নিয়ে ‘এ সিজন অব বাংলা ড্রামা’ শীর্ষক বাংলা নাট্যোৎসবটি এবার আরো উদ্দীপক ও আকর্ষনীয় হওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। সুতরাং, নিজের বাড়িতে সোফায় আরাম করে বসুন এবং উৎসবের সকল নাটক, আলোচনা, সেমিনার, ওয়ার্কশপগুলো উপভোগ করুন।

বিস্তারিত তথ্য জানতে ভিজিট করুন: www.towerhamlets.gov.uk/seasonbangladrama

 

Related Articles

Back to top button