পোশাক শিল্পে বাংলাদেশ নিরাপদতম দেশ

ব্রিট বাংলা ডেস্ক :: নেদারল্যান্ডের দি হেগস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস কর্তৃক আয়োজিত “Sustainability, Transparency and Transformation of Apparel Industry of Bangladesh” শীর্ষক আলোচনা সভায় ডাচ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সিবিআই-CBI (উন্নয়নশীল দেশ থেকে আমদানি প্রবৃদ্ধিতে সহায়তাকারী ডাচ প্রতিষ্ঠান), মডিন্ট-MODINT (পোশাক এবং ফ্যাশন সামগ্রী উৎপাদনকারী, আমদানিকারক ডাচ ব্যবসায়ী সংগঠন), ইন্টারন্যাশনাল অ্যাপারেল ফেডারেশন, ফ্যাশন হাউজ, পোশাক উৎপাদনকারী ইন্ডাস্ট্রি ইত্যাদির প্রায় ৪০জন প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন। স্থানীয় সময় সোমবার এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশের তৈরী পোশাক খাতে কর্মরত ৪.৪ মিলিয়ন শ্রমিকদের জীবনমানের উন্নয়ন এবং এই খাতে বাংলাদেশের অর্জিত সাফল্য ও কিভাবে এর গুণগত মান আরও উন্নয়ন করা সম্ভব তা তুলে ধরার উদ্দেশ্যে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
বাংলাদেশের তৈরী পোশাকের জন্য ইউরোপ একটি বিশাল বাজার। প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল ফ্যাশন জগতে ইউরোপীয়ান বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান ধরে রাখা এবং আরও বিস্তার লাভের নিমিত্তে বাংলাদেশের পোশাক খাত যে সকল সমস্যা মোকাবেলা করছে, যেমন উন্নত প্রযুক্তির প্রয়োগ, প্রায়োগিক প্রটোকল, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা, গবেষণা এবং উদ্ভাবনা ইত্যাদি ক্ষেত্রে পোশাক শিল্পের ধারাবাহিকতা রক্ষার্থে বাংলাদেশের প্রাপ্য সাহায্য-সহযোগিতা নিয়ে এ সভায় আলোচনা হয়।
স্বাগত বক্তব্যে নেদারল্যান্ডে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত শেখ মুহম্মদ বেলাল বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের উন্নতিতে ডাচ ক্রেতা/ব্যবসায়ী এবং ফ্যাশন হাউজদের ধারাবাহিক সহযোগিতার জন্য এবং এই শিল্পের আরও উন্নয়নে অবদান রাখার জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
রাষ্ট্রদূত বেলাল মন্তব্য করেন যে, ডাচ তথা ইউরোপীয়ান ক্রেতাদের কার্যকর সহযোগিতামূলক সম্পর্ক বাংলাদেশের পোশাক খাতে বিদ্যমান সমস্যাসমূহ উৎকৃষ্ট উপায়ে সমাধানে ভূমিকা রাখবে। রানা প্লাজা দুর্ঘটনার প্রতি আলোকপাত করে রাষ্ট্রদূত বেলাল দুর্ঘটনা পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া এবং সহযোগিতা অব্যাহত রাখার জন্য ডাচ ব্যবসায়ীদের আহ্বানের জন্য প্রাক্তন ডাচ মন্ত্রী মিজ লিলিয়ান প্লুমেন-এর ভূমিকা কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন।
রাষ্ট্রদূত বেলাল মডিন্টের গঠনমূলক এবং উদ্ভাবনাময়ী ভূমিকায় সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, বিভিন্ন ডাচ বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রতিষ্ঠানের সাথে প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ক, প্রযুক্তি বিনিময় এবং নতুন ধারণা, যেমন ব্লকচেইন, অটোমেশন ইত্যাদি তুলে ধরার মাধ্যমে মডিন্ট বিজিএমইএ-এর দক্ষতা বৃদ্ধিতে এগিয়ে আসবে। বাংলাদেশ সরকার এই খাতের টেকসই উন্নয়ন ধরে রাখতে অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছে মর্মেও তিনি উল্লেখ করেন।
ডেনিম এক্সপার্ট লিমিটেড বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব মোস্তাফিজ উদ্দিন সভায় “Sustainability, Transparency and Transformation of Apparel Industry of Bangladesh” শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। জনাব মোস্তাফিজ তার প্রেজেন্টেশনে বিগত বছরগুলোতে এই খাতের অগ্রগতি এবং কিভাবে বিভিন্ন পরিবর্তনের মাধ্যমে এই অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে তা তুলে ধরেন। শ্রমিকদের নিরাপত্তা, টেকসই অগ্রযাত্রা, কর্মপরিবেশ এবং স্বচ্ছতার বিচারে বাংলাদেশের তৈরী পোশাক খাত সবচেয়ে নিরাপদ বলে জনাব মোস্তাফিজ মন্তব্য করেন। জনাব মোস্তাফিজ উপস্থিত শ্রোতাদের সামনে তৈরী পোশাক খাতে উৎপাদনমূল্য ও আমদানীমূল্যের তারতম্যকে ‘প্রাইস প্যারাডক্স’ বলে অভিহিত করেন, যেখানে বাংলাদেশ বিগত ৯ বছরে মজুরী বৃদ্ধি করেছে ২৬৩%, পক্ষান্তরে আমেরিকা এবং ইউরোপে তৈরী পোশাকের আমদানীমূল্য কমেছে যথাক্রমে ৬.৬৩% এবং ৭.৩৩%। তিনি পরামর্শ রাখেন যে এই ‘প্রাইস প্যারাডক্স’ যথাযথভাবে মূল্যায়িত না হলে টেকসই উন্নয়ন অর্জন সম্ভব নয়। জনাব মোস্তাফিজের প্রেজেন্টেশন শেষে প্রশ্ন-উত্তর পর্বে অংশগ্রহণকারীরা এই খাতের ভবিষ্যত এবং এর আরও উন্নয়ন বিষয়ক নানাবিধ প্রশ্ন/মতামত ব্যক্ত করেন। কোন কোন অংশগ্রহণকারী বাংলাদেশের পোশাক খাতে ‘অ্যাকর্ড’-এর আসন্ন সমাপ্তি বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। রাষ্ট্রদূত বেলাল এবং জনাব মোস্তাফিজ পোশাক খাতের ধারাবাহিক টেকসই উন্নয়ন, স্বচ্ছতা ইত্যাদি নিশ্চিতে বাংলাদেশ সরকারের গৃহীত কার্যক্রম তুলে ধরেন এবং আশ্বাস প্রদান করেন যে, তৈরী পোশাক শিল্প ও বাংলাদেশ সরকার নিজ সক্ষমতায় এই শিল্পের টেকসই উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।
অংশগ্রহণকারীরা বাংলাদেশ দূতাবাসের এধরণের আলোচনা অনুষ্ঠান আয়োজনের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং উল্লেখ করেন যে, এর মাধ্যমে তারা বাংলাদেশের তৈরী পোশাক খাতের বর্তমান অবস্থা, চাহিদা এবং এর ভবিষ্যত সম্ভাবনা সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভে সক্ষম হয়েছেন।

Leave a Reply

Developed by: TechLoge

x