যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বাংলাদেশিদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি

ব্রিট বাংলা ডেস্ক :: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে এবার স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ছিল বাংলাদেশি আমেরিকানদের। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী পদক্ষেপের জবাব দিয়েছেন তারা ব্যালটের মাধ্যমে।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে বাংলাদেশিদের মত অন্যান্য অভিবাসীরাও সোচ্চার ছিলেন। প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করে বাংলাদেশি অধ্যুষিত কুইন্স, ব্রঙ্কস ও ব্রুকলিনের ভোটকেন্দ্রগুলোতে সকাল থেকেই লম্বা লাইন ছিল। অতীতের কোনো নির্বাচনে বাংলাদেশি ভোটারদের নির্বাচন নিয়ে এতো আগ্রহ লক্ষ্য করা যায়নি।

২০১৬ সালের নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী নীতির কারণে বাংলাদেশিসহ অন্যান্য অভিবাসীরা ব্যাপক সঙ্কটময় সময় অতিবাহিত করছিলেন। আর এ কারণে তারা মধ্যবর্তী নির্বাচনে এই দিনটির জন্যই যেন অপেক্ষায় ছিলেন। নিউইয়র্ক রাজ্য ডেমোক্রেট অধ্যুষিত এলাকা হলেও কোনো প্রকার ঝুঁকি নিতে চাননি প্রবাসীরা। আর এ কারণে সকাল ৬টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হয় এবং তা শেষ হয় রাত ৯টায়। এ প্রতিবেদক সন্ধ্যা ৬টায় জ্যামাইকার থমাস এ. এডিসন স্কুলকেন্দ্রে গিয়ে দেখতে পান, বাইরে মুষলধারে বৃষ্টি হলেও ভেতরে নারী-পুরুষের দীর্ঘ লাইন।

জ্যামাইকার বাসিন্দা নাতাশা জানান, সকালে অফিসের কাজে ব্যস্ত ছিলেন। কাজ শেষ করে ভোট কেন্দ্রে এসেছেন। এবারের ভোট গুরুত্বপূর্ণ বলেই তিনি ভোট দিতে এসেছেন বলে জানান।

জ্যামাইকা বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস সোসাইটির প্রধান উপদেষ্টা ও রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী এবিএম ওসমান গণি জানান, তিনি বিকালেই ভোট দিয়েছেন। এখন এসেছেন তার ছেলে ভোট দিয়েছে কী না তা জানান জন্য। ওসমান গণি জানান, তিনি সারাদিন জ্যামাকাইর বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রের সামনে ছিলেন। ভোটারদের ভোটদানে উদ্বুব্ধ করেছেন। মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোট খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ট্রাম্পের ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী পদক্ষেপের জবাব দিতে হবে ব্যালটের মাধ্যমে।

হাউজ ও সিনেট ছাড়াও মধ্যবর্তী নির্বাচনে নিউইয়র্কে রাজ্য গভর্নর, লেফটেন্যান্ট গভর্নর, স্টেট অ্যাটর্নি জেনারেল, স্টেট কম্পট্রোলার, স্টেট সিনেট ও অ্যাসেম্বলির নির্বাচন হয়েছে। রাতে ফলাফলে অধিকাংশ পদে ডেমোক্রেট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের (হাউজে) নিয়ন্ত্রণ পাওয়ায় দারুণ খুশি যুক্তরাষ্ট্রের প্রবাসী বাংলাদেশিরা। সন্ধ্যা থেকে তারা ভোটের ফল জানার জন্য টিভির সামনে বসে ছিলেন। সিনেটের নিয়ন্ত্রণ না পেলেও হাউজে নিয়ন্ত্রণ পাওয়ায় ট্রাম্পের ক্ষমতা অনেকাংশে হ্রাস পাবে বলে মনে করছেন না।

নিউইয়র্ক সিটির কমিউনিটি বোর্ডের সদস্য ও ডেমোক্রেট লিডার ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার মনে করেন, নির্বাচনে ডেমোক্রেটদের বিজয়ী করতে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ব্যাপক প্রচার চালানো হয়েছিল। এ কারণে ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মত। তিনি বলেন, নির্বাচনে ভোট প্রদান নিয়ে অনেকের মধ্যে অনীহা রয়েছে। অনেকে মনে করেন, তার একটি ভোট না দিলে কী এসে যায়। কিন্তু একটি ভোটই সব হিসাব পাল্টে দিতে পারে। আমরা এবার এটা সবাইকে বোঝানোর চেষ্টা করেছি। এ কারণে সর্বত্রই বাংলাদেশিদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি ছিল। তিনি বলেন, দিনভর বৃষ্টি ছিল। কিন্তু বৃষ্টি ভোটারদের ঘরে আটকে রাখতে পারেনি। আর দিন শেষে আমাদেরই জয় হয়েছে।

কুইন্স ডেমোক্রেটিক লিডার অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী জানান, হাউজের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখন থেকে যা ইচ্ছা তাই করতে পারবেন না। বরং ক্ষমতাসীনরা কোনো বিল উত্থাপন করলে তা হাউজের অনুমোদন নিতে হবে। ফলে ট্রাম্প অভিবাসনবিরোধী কোনো পদক্ষেপ নিলে তা হাউজের অনুমোদন পাবে না।

অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী বলেন, রিপাবলিকানরা সিনেটে এবং ডেমোক্রেটরা হাউজের সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সরকার ব্যবস্থায় ‘চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স’ তৈরি হলো। এটাকে বলা হয় ‘সেপারেশন অব পাওয়ার।’ আর সেপারেশন অব পাওয়ার হচ্ছে সবচয়ে শক্তিশালী সরকার ব্যবস্থা। তবে আর যা-ই হোক, ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী নীতির ফলে যুক্তরাষ্ট্রে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল, মঙ্গলবারের নির্বাচনের ফলাফলে তার অবসান ঘটবে বলে অনেকেই মনে করছেন।

Leave a Reply

Developed by: TechLoge

x