দেড় মাসেও উদ্ধার হয়নি পদ্মার ক্যানেলে আটকে পড়া কুমিরটি

ব্রিট বাংলা ডেস্ক :: দেড় মাসেও উদ্ধার করা যায়নি পদ্মা নদীর ক্যানেলে আটকে পড়া সেই কুমিরটি। এতে ওই এলাকার বাসিন্দারা ‘কুমির আতঙ্কে’ দিন কাটাচ্ছেন।

তবে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন কুমির ধরতে খুব শিগগির আরেকটি অভিযান পরিচালনা করা হবে।

পাবনার সামাজিক বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকতা মাহবুবুর রহমান জানান, গত বর্ষার কোনো এক সময় পাবনা সদর উপজেলার চরকোমরপুরে পদ্মা নদীর ক্যানেলে আটকা পড়ে ৬ থেকে ৭ ফুট লম্বা একটি কুমির। গত নভেম্বর মাসের শেষ দিকে স্থানীয় জেলেরা মাছ শিকার করতে গিয়ে কুমিরটিকে দেখতে পায়। এর মধ্যে কুমিরের হাতে আহত হয় বেশ কয়েকজন জেলে। ফলে আতঙ্ক দেখা দেয় এলাকার মানুষের মধ্যে। এরপর দূর দূরান্ত থেকে উৎসুক মানুষ প্রতিদিনই ভিড় জমাতে থাকে কুমির দেখতে। স্থানীয়রা কুমিরটিকে উদ্ধারের দাবি জানায়।

তিনি জানান, পরে রাজশাহী বিভাগীয় বণ্যপ্রাণি সংরক্ষণ বিভাগকে কুমির উদ্ধারের জন্য চিঠি দেয় পাবনার সামাজিক বন বিভাগ। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর ক্যানেলে আটকে পড়া কুমির উদ্ধারে নামে বিশেষ টিম। তবে দিনভর চেষ্টা করেও ওই সময় দেখা মেলেনি কুমিরটির। এর পরদিন ভোর থেকে আবারও কয়েকদফা জাল ফেলে কুমিরটিকে ধরার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু এরপরও কুমিরটি ধরা সম্ভব হয়নি। ফলে হতাশ হয়ে ফিরে আসে উদ্ধারকারী দল।

ওই উদ্ধার অভিযানে অংশ নেন বণ্যপ্রাণি সংরক্ষণ বিভাগের রাজশাহী বিভাগীয় কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান, সামাজিক বন বিভাগ পাবনার বিভাগীয় কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান ও আইইউসিএন ঢাকার সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার সারোয়ার আলমের নেতৃত্বে একটি দল, কুমির বিশেষজ্ঞ মোস্তাক আহমেদ ও আদনান আহমেদ, পাবনা পুলিশের ১২ সদস্য বিশিষ্ট টিম ও দোগাছি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান।

বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকতা মাহবুবুর রহমান আরও জানান, উদ্ধারকারীরা ক্যানেলের দুই দিক থেকে ছাকনির মতো করে জাল ফেলে। সম্ভবত তখন কুমিরটি চুপ করে পানির তলায় মাটির সঙ্গে মিশে ছিল। সে জন্য কুমিরটি ধরা সম্ভব হয়নি।

তিনি আরও জানান, কুমির ধরতে আরো একটি উদ্যোগ নেওয়া হবে। সে জন্য কাজ চলছে। তবে এ সময়ে তিনি কুমিরটিকে বিরক্ত না করার পরামর্শ দেন।

তিনি বলেন, কুমিরকে কেউ যদি বিরক্ত না করে, তবে সে কারো ক্ষতি করবে না। মাঝ ক্যানেলে গোসল করা অথবা মাছ ধরা মানুষের জন্য ঝুকিপূর্ণ হবে। তবে কুমিরটি ডাঙায় এসে কারো ক্ষতি করবে না।

সামু মন্ডল নামের এক জেলে বলেন, গত দেড় মাস ধরে ওই ক্যানেলে মাছ ধরা বন্ধ। কুমিরটি ধরা না পরায় আমরা আরও ভয় পাচ্ছি। কুমির আতঙ্গে ঘুম হারাম হয়ে গেছে। সব সময় ভয় করে কুমিরটি কখন লোকালয়ে এসে পড়ে।

পাবনা সদর উপজেলার চরআশুতোষপুর গ্রামের আরমান আলী বলেন, এক সময় পদ্মার যে শাখা খালটি মাছ ধরা থেকে শুরু করে, কাপড় কাঁচা, বাসন মাজাসহ বিভিন্ন কাজে এলাকাবাসী ব্যবহার করতো, সে খালে এখন কুমির। ফলে আতঙ্কে বন্ধ হয়ে গেছে সব কাজ।

পাবনার জেলা প্রশাসক মো. জসিম উদ্দিন বলেন, আটকে পড়া কুমিরটি উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট সকলের সঙ্গে কথা হচ্ছে। খুব শিগগির কুমিরটি ধরতে কার্যকরী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরে কুমিরটি সংশ্লিষ্টদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

Leave a Reply

Developed by: TechLoge

x