মনু নদীর খনন প্রকল্প শুরু হয়নি, মেয়াদ শেষের দিকে

বিশেষ সংবাদদাতা :: কাজের সময় শেষ হয়ে যাচ্ছে, কিন্তু এখনও শুরুই হয়নি মৌলভীবাজার ও কুলাউড়া অংশের মনু নদের খননের কাজ। নির্ধারিত মেয়াদে বিআইডব্লিউটিএ কাজ শুরু না করায় একে কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলা এবং গাফিলতি বলে মনে করছেন মনু পাড়ের স্থানীয় বাসিন্দারা। আগামী বর্ষা মৌসুমের আগে কাজ শেষ না হলে এই প্রকল্পের কাজ করা সম্ভব হবে না। অথচ এখন পর্যন্ত এই কাজের ব্যাপারে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বঙ্গ ড্রেজার লিমিটেড এর কোন তৎপরতা দেখা যাচ্ছে না।

জানা যায়, বন্যা প্রবণ এলাকা মৌলভীবাজার ও কুলাউড়া অংশের মনু নদের ২৩ কিলোমিটার নাব্যতা বৃদ্ধির লক্ষে ২৩ কোটি ৯০ লাখ ৪০ হাজার টাকার প্রকল্প গ্রহণ করে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়াধীন বিআইডব্লিউটিএ। ২০১৮ সালের ফেব্র“য়ারিতে কাজ শুরু হয়ে ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে কাজটি শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখনও তা শুরু হয়নি। পরিবেশবাদীরা মনে করছেন, কাজ না করিয়েই টাকা হাতিয়ে নেয়ার অসৎ উদ্দেশ্যে পরিলক্ষিত। তাই মেয়াদ শেষ হবার সময় এসে গেলেও এখনও কাজ শুরু করেনি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। কারণ বর্ষা মৌসুমে পানি চলে আসলে প্রমাণ করা যাবে না যে কাজ হয়েছে নাকি হয়নি।

মৌলভীবাজারে বিআইডব্লিউটিএ এর স্থানীয় অফিস না থাকায় দীর্ঘদিন মনু খননের তথ্য লোকচক্ষুর আড়ালেই থেকে যায়। তবে স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে বিআইডব্লিউটিএ এর পক্ষ থেকে নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহমান মন্ডল স্বাক্ষরিত একটি চিঠি তাদের কাছে আসে গত বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি। চিঠিতে উল্লেখ করা হয় বিআইডব্লিউটিএ এর একটি প্রকল্পের আওয়তায় ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মনু নদী ড্রেজিংয়ের কাজ শুরু হবে এবং শেষ হবে ২০১৯ সালে ১৮ ফেব্রুয়ারি ওই কাজে বিআইডব্লিউটিএ এর পক্ষ থেকে স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডে কাছে সহযোগিতা চাওয়া হয়। সেই চিঠির পর প্রায় ১ বছর পেরিয়ে গেলেও আর কোনো যোগাযোগ করা হয়নি। এদিকে সরেজমিনে মনু নদের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে কোথাও ড্রেজিংয়ের কাজ দেখা যায়নি। তবে কুলাউড়া উপজেলা অংশের শরীফপুর ইউনিয়ন ও হাজিপুর ইউনিয়নের কটারকোনা ব্রিজের পাশে দুটি ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করতে দেখা গেছে। বালু উত্তোলনের কারণে প্রতিরক্ষা বাধ হুমকির পাশাপাশি রেলওয়ে ব্রিজ ও সওজের একটি ব্রীজ হুমকির মুখে পড়বে।

এ ব্যাপারে পাউবো মৌলভীবাজার অফিসের পক্ষ থেকে স্থানীয় থানায় একটি সাধারণ ডায়রি করা হয়েছে। মনু পাড়ের বাসিন্দা হাজিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল বাছিত বাচ্চু কালের কণ্ঠকে বলেন, কুলাউড়া উপজেলার টিলাগাঁও, পৃথিমপাশা, হাজিপুর ইউনিয়ন তথা মৌলভীবাজার জেলাকে বন্যাকবলিত এলাকা ঘোষণা করার জোর দাবি জানাচ্ছি।

বিআইডব্লিউটিএ যদি যথাসময়ের মধ্য কাজ শেষ না করে তবে এতদ অঞ্চলের কয়েক লক্ষাধিক মানুষ আবারো ভয়াবহ বন্যার আশংকায় রয়েছেন।

মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী রনেন্দ্র শংকর চক্রবর্তী কালের কণ্ঠকে বলেন, নদী খনন কাজ তাদের দায়িত্বের মধ্যে পড়েনা। আমাদের কাছে সহযোগিতা চেয়ে ২০১৮ সালের প্রথম দিকে চিঠি দিলেও এরপর আর কোনো যোগাযোগ করেনি বিআইডব্লিউটিএ। আমরা সহযোগিতার জন্য প্রস্তুত ছিলাম, বর্তমানে কি করা হচ্ছে প্রকল্পটি কোনো অবস্থায় আছে পাউবো অবগত নয়।

বিআইডব্লিউটিএ এর সহকারী প্রকৌশলী সমিরন পাল কালের কণ্ঠকে বলেন, গত বছর মে মাসে কাজ শুরু করতে গিয়েও করা যায়নি বালু মহল ইজারাদারদের কারণে এর পর পরই আসে বন্যা। নানাভাবে কাজটি বাধাপ্রাপ্ত হয়েছে। নদী খননেন জন্য ৪টি ড্রেজার বসানো হয়েছে। চলতি বছরের ২৫ মে পর্যন্ত কাজের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।

মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক মোঃ তোফায়েল ইসলাম মঙ্গলবার বিকেলে কালের কণ্ঠকে বলেন, বিআইডব্লিউটিএ নদী খনন কাজ শুরু না করায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গত সপ্তাহে পাউবো, বিআইডব্লিউটিএ, পৌর মেয়র ও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে জরুরী সভা আহবান করে তাদেরকে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছি।

Leave a Reply

Developed by: TechLoge

x