প্রতিহিংসা নয় ভালোবাসা

Posted on by

।। ফারজানা ইসলাম লিনু।।
প্রতিশোধ আর প্রতিহিংসার কারণে পৃথিবী নামক গ্রহ বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠছে দিন দিন। বিশ্বমানবতাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বর্ণবাদী ও ধর্মান্ধ সন্ত্রাসীদের আক্রোশে একে একে কলংকিত হচ্ছে বিশ্বের শান্তিপূর্ণ স্থানগুলো।

ইতিহাসের জগন্যতম হিংসাত্মক হত্যাকান্ড ঘটিয়ে শান্তিপূর্ণ দেশ নিউজিল্যান্ডকে এবার কলংকিত করা হলো।
আটাশ বছর বয়সী শ্বেতাংগ এই ভয়ংকর মুসলিম বিদ্বেষী মসজিদকেই বেছে নেয় মুসলিম নিধনের মোক্ষম জায়গা হিসেবে। যেখানে অতি সাধারণ নিরীহ মুসলমানরা জুম্মার নামাজের জন্য জড়ো হয়েছিল। দুর্ধর্ষ এই সন্ত্রাসী অর্ধশত মানুষকে নৃশংসভাবে খুন করে
বীরের বেশে ঠান্ডা মাথায় বেরিয়ে যায়।

হামলার সময় নিজের ফেইসবুকে সেটি প্রচার করে শ্বেতাঙ্গ সন্ত্রাসী

গণমাধ্যমের কল্যানে এই খবর পৌছাতে সময় লাগেনা বিশ্বের আনাচে কানাচে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও সংবাদ মাধ্যমে চোখ আটকে থাকে আমাদের। বাড়তি দুশ্চিন্তায় আমাদের কপালে ভাঁজ পড়ার কারণ নিউজিল্যান্ড সফররত আমাদের জাতীয় ক্রিকেট দল।

ভয়াবহ এই সন্ত্রাসী হামলাস্থলের অতি কাছেই ছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অবস্থান । সংবাদ সম্মেলনের কারণে ক্রিকেটারদের মসজিদে যেতে দেরি হয়। তাইতো বিদেশের মাটিতে অরক্ষিত নিরাপত্তার মধ্যে থাকা আমাদের ক্রিকেটাররা অল্পের জন্য রক্ষা পান।
স্বজন হারানো মানুষের বুকফাঁটা আর্তনাদের মাঝে আমাদের জন্য এ এক বিরাট সান্ত্বনা।

সৌভাগ্যক্রমে বেঁচে যান আমাদের টাইগাররা

মানবতার বিরুদ্ধে হুমকিস্বরূপ এই বর্ণবাদী হামলার বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক নিন্দার ঝড় উঠেছে প্রতিবারের মতো। মর্মাহত বিশ্বনেতারা ক্রমাগত শোক জানিয়ে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করছেন।

যদিও বিশ্ব গণমাধ্যমের মৌনতা ও পক্ষপাতদুষ্টতা চোখে পড়ার মতো। নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্ট চার্চের সন্ত্রাসী হামলার সংবাদ প্রচারে বেশ সাবধানতা অবলম্বন করছে বিশ্বের প্রথম সারির প্রতিটা মাধ্যমগুলো। কারণ বিশ্বজুড়ে মুসলমানরা আজ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত।

এইসব সন্ত্রাসী সংগঠন গঠনের পেছনে বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলোর কুট রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাল রয়েছে তা কারো অজানা নয়।

গত শতকে সংঘটিত দুই দুইটি বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে বিশ্ব রাজনীতি দ্রুত বদলাতে থাকে। উপনিবেশিক শাসন থেকে বেশির ভাগ দেশ মুক্ত হলেও যুদ্ধবাজ দেশগুলোর কুটকৌশলের কাছে পুরো বিশ্ব একে একে জিম্মি হয়ে পড়ে। ঠান্ডা যুদ্ধ বা স্নায়ু যুদ্ধের ঝড়ো বাতাসে দুলতে থাকে বিশ্ব রাজনীতি।

চলমান স্নায়ুযুদ্ধের প্রেক্ষিতে বিশ্ব আজ দ্বিধা বিভক্ত। শক্তিমান দেশগুলো নিজেদের শক্তি প্রতিষ্ঠা করতে উগ্র জাতীয়তাবাদ ও ধর্মান্ধতাকে প্রশ্রয় দিয়ে বিশ্বকে ঠেলে দিচ্ছে প্রচন্ড অনিশ্চয়তার দিকে।

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান অর্থনীতির দিকেও এইসব স্বার্থান্ধ যুদ্ধপিপাসুদের শ্যূনদৃষ্টি। তেলের দখল নিতে একের পর এক সন্ত্রাসী গোষ্ঠী তৈরী করছে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের হাতিয়ার হিসেবে।

অক্ষমতা ও অজ্ঞানতার অন্ধকারে নিমজ্জিত উগ্র সন্ত্রাসীরা তাদের ফাঁদে পা দিয়ে প্রতিশোধের নেশায় মত্ত হয়ে ধর্মকেই বেছে নিয়েছে সর্বাগ্রে।

একের পর এক সংগঠিত সন্ত্রাসী কর্মকান্ড মোকাবেলায় বিশ্ব মুরব্বিয়ানরা কিন্তু বেশ তৎপর। সন্ত্রাস দমনের নামে গৃহীত পদক্ষেপে বিশ্বব্যাপী সাধারণ মানুষের উপর দমন পীড়ন হচ্ছে বেশি। সহিংসতা দমনের সফলতা প্রচারে এ এক অভিনব পন্থা বটে।

ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়িয়ে সন্ত্রাস প্রতিরোধে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছেন নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী।

যদিও বিশ্বের শান্তিপ্রিয় সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। কোন সন্ত্রাসী হামলায় শান্তিপ্রিয় সাধারণ মানুষের অকুণ্ঠ সমর্থন থাকেনা। তারপরও ঘৃনিত সন্ত্রাসী নয় নিরপরাধ সাধারণ মানুষকেই ঘৃনা, হিংসা ও দমন পীড়নের শিকারে পরিণত হতে হয়।

হাতে গোনা সন্ত্রাসীদের কোন দেশ নেই জাতীয়তা নেই, নেই কোন ধর্মীয় পরিচয়। পরিচয় একটাই তারা সন্ত্রাসী।
ঘৃনা আর প্রতিহিংসার জন্ম যেখান থেকেই হউক না কেন অগনিত শান্তিপ্রিয় মানুষের ভালোবাসায় কেন বদলে যায়না এই গ্রহ।

লেখক : ফারজানা ইসলাম লিনু, কলামিস্ট।

Leave a Reply

Developed by: TechLoge

x