সিলেট সিলেটে দ্বিতীয় দিনেও জম-জমাট নৃত্যোৎসব

Posted on by

সিলেট অফিস :: বর্ণাঢ্য আয়োজন আর বর্ণিল পরিবেশনায় জম-জমাট নৃত্যশৈলীর নৃত্যোৎসব। বৃহস্পতিবার সিলেটের রিকাবীবাজারস্থ কবি নজরুল অডিটোরিয়ামে ৫ দিনব্যাপী এ উৎসবের যাত্রা শুরু হয়।

শুক্রবার ছিল উৎসবের দ্বিতীয় দিন। প্রথম দিনের মতো এদিনও সংস্কৃতিমনা সিলেটবাসী প্রতিটি পরিবেশনা উপভোগ করেন।

এদিন বিকেল ৫টায় অডিটোরিয়ামের মুক্তমঞ্চে প্রথমপর্বে ছিল নৃত্যশৈলীর পরিবেশনা। তাদের অনবদ্য পরিবেশনায় বসন্তের বিকেলটা দারুন উপভোগ্য হয়ে উঠে।

এরপর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় শুরু হয় দিনের প্রধান আকর্ষন। শচিন দেব বর্মনের সেই অমর গান
‘তাকধুম তাকধুম বাজে বাংলাদেশের ঢোল’র সাথে এ পর্বের উদ্বোধনী নৃত্য পরিবেশন করে নৃত্যশৈলীর শিল্পীরা।

পরে বিভিন্ন জেলা থেকে আগত নাচের সংগঠনগুলো একের পর এক মনকাড়া পরিবেশনায় মাতিয়ে রাখেন উপস্থিত দর্শকদের।

একাডেমি ফর মনিপুরী কালচার অ্যান্ড আর্টর (এমকা) পরিচালানায় নৃত্যরঙ’ পরিবেশন করে প্রেম ও দ্রোহের কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘আলগা করোগো খোঁপার বাঁধন’ গানের সাথে নৃত্য।

হবিগঞ্জ নৃত্যশিল্পী সংস্থার ‘মন দে, যৌবন দে’ এবং মৌলভীবাজারের সপ্তসর সংগীত বিদ্যাপীঠের শিল্পীরা পরিবেশন করে বসন্তের গানের সাথে নাচ।

প্রতিটি পরিবেশনা শেষে নৃত্যশৈলীর পক্ষ থেকে বিভিন্ন জেলা থেকে আগত শিল্পীদের স্মারক ও সম্মাননা প্রদান করা হয়।

দ্বিতীয় দিনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল একক ও দ্বৈত পরিবেশনা। রুপদালোক, রাজশাহীর মনিপুরী তান্ডব নৃত্যে দর্শকদের করতালিতে বারবার মুখরিত হয়েছে অডিটোরিয়াম।

এছাড়া কোলকাতা থেকে প্রশিক্ষিত কত্থক নৃত্যশিল্পী এস এম হাসান ইশতিয়াক ইমরানের একক পরিবেশনাও দর্শকদের দারুন আলোড়িত করে ।

মঞ্চে নৃত্য পরিবেশনের পর এমন আয়োজনের জন্য তিনি নৃত্যশৈলীকে বিশেষ ধন্যবাদ জানান।

দিনের শেষ পরিবেশনা ছিল ঢাকার নন্দন কলাকেন্দ্রের নৃত্যনাট্য মহুয়া।

সিলেট সিটি কর্পোরেশন, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, ভারতীয় সহকারী হাইকমিশন, সিলেট জেলা পরিষদ ও সিলেট সিক্সারের সার্বিক সহযোগিতায় এ উৎসবের আয়োজক সিলেটের নৃত্যশৈলী।

শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় কবি নজরুল অডিটোরিয়াম মঞ্চে আসনগ্রহন করেন সম্মানিত অতিথি বৃন্দ।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেটের জেলা প্রশাসক এম কাজী এমদাদুল ইসলাম, জেলা ক্রীড়াসংস্থার সাধারণ সম্পাদক মাহিউদ্দিন সেলিম, নৃত্য গুরু শরমিলা বন্দ্যোপাধ্যায়সহ অনেকে।

আলোচনাসভায় সভাপতিত্ব করেন ড. সুপ্রিয় চক্রবর্তী।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক কাজী এমদাদুল ইসলাম বলেন, এ ধরনের আয়োজন সুস্থ সংস্কৃতি বিকাশে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা ক্রীড়াসংস্থার সাধারণ সম্পাদক মাহি উদ্দিন সেলিম।

এছাড়াও শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন নৃত্য গুরু শরমিলা বন্দ্যোপাধ্যায়।

উল্লেখ্য, সিলেটে এই প্রথম দুই বাংলার নাচের শিল্পীদের নিয়ে এমন বিশাল আয়োজন।

Leave a Reply

Developed by: TechLoge

x