তিন দিনব্যাপি লন্ডন বেঙ্গলি ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল শুরু

Posted on by

লন্ডন, ১১ এপ্রিল: বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্যদিয়ে শুরু হলো লন্ডন বেঙ্গলি
ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল। ১১ এপ্রিল বৃহস্পতিবার পূর্ব লন্ডনের সাংস্কৃতিক
পীঠস্থান রিচমিক্স সেন্টারে মহা সমারোহে পর্দা উঠে এ ফ্যাস্টিভ্যালের।
অতিথিদের লাল গালিচায় অভ্যর্থণা জানানোর মধ্যদিয়ে হয় অনুষ্ঠানের সূচনা।
সাংস্কৃতিপ্রেমীদের পাশাপাশি বিভিন্ন অঙ্গণের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা এতে
যোগ দেন।
লন্ডন বেঙ্গলি ফেস্টিভ্যালের এটি চতুর্থতম আয়োজন। ফেস্টিভ্যারের
প্রতিষ্ঠাতা মুনসুর আলী বলেন, বাঙালি অভিবাসিদের অভিজ্ঞতা, সংগ্রাম এবং
তাদের বক্তব্য যুক্তরাজ্যের বৃহত্তম পরিসরে তুলে ধরার লক্ষ্যে লন্ডন
বেঙ্গলি ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল যাত্রা শুরু করে। সাধারণ বাংলাদেশ কিংবা
কলকতার বাংলা চলচ্চিত্র নির্মাতারা যুক্তরাজ্যের দর্শকদের কাছে তাদের
কাজগুলো উপস্থাপনের সুযোগ পান না। লন্ডন বেঙ্গলি ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল তাদের
জন্য প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করে।


তিন দিনব্যাপী এই বাংলা চলচ্চিত্র উৎসবের শুরুতে প্রদর্শিত হয় প্রাণ
বাঁচাতে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের
মানবেতর জীবনের গল্প নিয়ে তৈরি প্রামাণ্যচিত্র ‘ব্লোসম ফ্রম অ্যাশ’। এই
প্রদর্শনির মধ্যদিয়েই আলোচিত এই প্রামাণ্যচিত্রের অভিষেক ঘটলো। লন্ডন
বেঙ্গলি ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের উদ্বোধনী এই প্রদর্শনিতে যোগ দিতে বাংলাদেশ
থেকে ছুটে আসেন ‘ব্লোসম ফ্রম অ্যাশ’ এর লেখক ও পরিচালক নোমান রোবিন।
প্রায় দেড় ঘণ্টার এ প্রামাণ্যচিত্রে বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর
বর্তমান দুঃসহ জীবনের বাস্তবতা ‍তুলে ধরা হয়। সেইসঙ্গে শত শত বছর ধরে
বর্তমান মিয়ানমার সহ ভারতবর্ষে ক্ষমতার পালাবদল এবং রাখাইন অঞ্চলে
রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বসতির গড়ে উঠার ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে এই
প্রামাণ্যচিত্রে। এতে প্রাসঙ্গিক তথ্য-উপাত্ত আর নিখুঁত পরিবেশনার
মাধ্যমে রোহিঙ্গা সংকটের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট উঠে এসেছে সবিস্তারে ।
সাম্প্রতিক সময়ে লাখ লাখ রোহিঙ্গার মাতৃভূমি ছেড়ে পালিয়ে আসার গল্পের
পাশাপাশি বাংলাদেশে তাঁদের আশ্রিত জীবনের করুণ কাহিনি দর্শকদের হৃদয়ে দাগ
কাটে। দর্শকদের অনেকেই রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর এমন দুর্দশার চিত্র দেখে
আবেগঘণ অভিব্যক্তি প্রকাশ করেন। এমন জীবনভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র দেখার
সুযোগ করে দেয়ায় তাঁরা লন্ডন বেঙ্গলি ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের আয়োজকদের
ধন্যবাদ জানান। দর্শকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন প্রামাণ্যচিত্রটির
পরিচালক নোমান রোবিন।


উদ্বোধনী পর্বে লন্ডন বেঙ্গলি ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের প্রতিষ্ঠাতা মুনসুর
আলী বলেন, বাংলা ভাষা ও বাংলা চলচ্চিত্র সংস্কৃতিকে তুলে ধরার লক্ষ্যেই
এই ফ্যাষ্টিভ্যালের আয়োজন। বাংলা ও বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছে এমন
যেকোনো চলচ্চিত্র তাঁরা এই উৎসবে প্রদর্শণ করেন। সফলভাবে চতুর্থবারের মত
এই ফ্যাস্টিভ্যালের আয়োজন করতে পারায় তিনি সহযোগী সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা
জানান।
অতিথির বক্তব্যে যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনার
জুলকার নাইন বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণের্থীদের আশ্রয় দেয়ার প্রেক্ষাপট তুলে
ধরেন। বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের মানুষ রোহিঙ্গাদের সাহায্যে সর্বোচ্চ করছে
জানিয়ে তিনি বলেন, এ সংকট মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে পাশে চায়
বাংলাদেশ।
ক্যানারি ওয়ার্ফ গ্রুপের সেক্রেটারি জন গারউড বলেন, টাওয়ার হ্যামলেটসে
বাংলাদেশিদের শক্ত অবস্থান রয়েছে। কমিউনিটির যে কোনো উদ্যোগে তাঁরা পাশে
থেকে আনন্দ পান। কেননা স্থানীয় কমিউনিটিকে নিয়েই ক্যানারি ওয়ার্ফ গ্রুপ
এগিয়ে যেতে চায়।
টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের স্পীকার কাউন্সিলার আয়াস মিয়া আয়োজকদের
ধন্যবাদ জানান।
১৩ এপ্রিল শনিবার পর্য্যন্ত চলবে এবারের উৎসব। ফ্যাস্টিভেলের দ্বিতীয় দিন
১২ এপ্রিল শুক্রবার বিকাল ৩টায় প্রদর্শিত হবে ‘দ্য হি উইদাউট হিম’।
একইদিন বিকাল ৫টায় রেইনবো জেলি। আর শেষ দিন ১৩ এপ্রিল বিকাল ৫টায়
প্রদর্শিত হবে কলকাতার দেয়ালি মুখার্জি পরিচালিতে আলোচিত শর্টফিল্ম ‘তিন
মুহুরত’। এদিন উৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠানে পরিচালক দেয়ালি মুখার্জি উপস্থিত
থাকবেন এবং তাঁকে নিয়ে অনুষ্ঠিত হবে প্রশ্নোত্তর পর্ব। সবগুলো প্রদর্শণী
পূর্ব লন্ডনের রিচমিক্স সিনেমা হলে অনুষ্ঠিত হবে।
লন্ডন বেঙ্গলি ফিল্ম ফ্যাস্টিভ্যাল আয়োজনের সমন্বয়ক হিসেবে আছেন দিলরুবা
ইয়াসমিন রুহী। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিটি
অব লন্ডন করপোরেশনের শেরিফ লিজ গ্রিন, গ্রেটার লন্ডন অথোরিটির সাবেক
মেম্বার মুরাদ কুরেশী প্রমুখ।

Leave a Reply

Developed by: TechLoge

x