‘এ যুগের ক্রিকেট খেলে না পাকিস্তান’

Posted on by

ব্রিট বাংলা ডেস্ক :: গত বিশ্বকাপের পর থেকে ক্রিকেট খেলার ধরনটাই বদলে গেছে। বিশেষ করে ব্যাটিং। ভারত, ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ডের মতো দলগুলো এখন নিয়মিতই ওয়ানডেতে ৩২৫-৩৫০ করে। কিন্তু পাকিস্তান এই জায়গায় পিছিয়ে। কেন? সাবেক অধিনায়ক ও ১৯৯২ বিশ্বকাপজয়ী পাকিস্তান দলের অন্যতম সদস্য আমির সোহেল মনে করেন, পাকিস্তান ক্রিকেট দল যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজেদের বদলাতে পারেনি। মোটকথা, পাকিস্তান খেলে পুরোনো দিনের ক্রিকেট।
দেশের হয়ে ৪৭ টেস্ট আর ১৫৬ ওয়ানডে খেলা সোহেলের কণ্ঠে এ ব্যাপারে ঝরেছে আক্ষেপই, ‘আমি খুবই চিন্তিত। পাকিস্তানি ক্রিকেটাররা যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে খেলতে পারছে না। তারা নিয়মিত একশ কিংবা এর বেশি স্ট্রাইকরেট নিয়ে খেলতে পারে না। অন্য দলের ক্রিকেটাররা যেখানে ঝুঁকিহীন শট খেলে দলের রান বাড়াতে পারে, সেখানে পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানরা ঝুঁকি নিয়ে ফেলে।’

নিজে ব্যাটসম্যান ছিলেন বলেই পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের দুর্বলতা কোথায় সেটি জানেন সোহেল, ‘বর্তমান সময়ে আপনি যদি ৩২৫ থেকে ৩৫০ রান করতে চান, তাহলে দলের দুই-তিনজন ব্যাটসম্যান যদি সেঞ্চুরি বা ফিফটি করতে গিয়ে বেশি বল খেলে ফেলে, তাহলে সমস্যা। প্রথম দশ ওভারের পাওয়ার প্লে’এর পূর্ণ সুবিধা নিতে হবে। সঙ্গে মাঝের ওভার গুলিতেও রান তোলার ব্যাপারে মনোযোগ দিতে হবে। এই জায়গায় পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের দুর্বলতা আছে।’
২০১৫ বিশ্বকাপের পর ভারত ও ইংল্যান্ডসহ বেশ কয়েকটি দলই নিজেদের খেলার ধরন পাল্টে ফেলেছে। এর সবচেয়ে উজ্জ্বল উদাহরণ ইংল্যান্ড। যে দলটি এক সময় রক্ষণাত্মক ক্রিকেটের জন্য সমালোচিত হতো, তারাই এখন খেলে ভয়ডরহীন ক্রিকেট। কিন্তু পাকিস্তান যুগের সঙ্গে তাল মেলাতে পারেনি দেখে হতাশ সোহেল। তিনি মনে করেন ১৯৯২ বা ১৯৯৯ বিশ্বকাপে পাকিস্তান যেভাবে খেলেছিল, সেটি ২০১৯-এ খেললে লাভ নেই, ‘গত বিশ্বকাপের পর থেকে ক্রিকেটে রান তোলার ব্যাপারটাই রাতারাতি পালটে গেছে। কিছু দল তো নিজেদের খেলার ধরনই সম্পূর্ণ পালটে ফেলেছে। আমার বোলিং আক্রমণ যথেষ্ট সমীহ জাগানিয়া, বেশ কয়েকজন ভালো স্পিনারও রয়েছে আমাদের। কিন্তু এ ধরনের টুর্নামেন্টে ভালো করার জন্য যে ধরনের ব্যাটসম্যান দরকার, তা আমাদের নেই। এ ধরনের টুর্নামেন্টে ভালো করার জন্য নিয়মিত বড় স্কোর করতে হবে।’

Leave a Reply

Developed by: TechLoge

x