সিলেট থেকে ছড়াচ্ছে মরণনেশা!

Posted on by

সিলেট অফিস :: সিলেটকে ঘিরে রেখেছে ভারত। সিলেটের তিন দিকেই আছে ভারত সীমান্ত। এই সীমান্ত সুযোগকে কাজে লাগাচ্ছে মাদক চোরাকারবারিরা। তারা মায়ানমার থেকে মরণনেশা ইয়াবা নিয়ে আসছে ভারত সীমান্তে। ফাঁক গলে সেই মরণনেশা ঢুকছে সিলেটে। এরপর তা ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে সারাদেশে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, মায়ানমার থেকে ইয়াবা পাচারের ‘নিরাপদ রুট’ ছিল চট্টগ্রামের কক্সবাজার, টেকনাফ, উখিয়া প্রভৃতি এলাকা। তবে সাম্প্রতিক সময়ে মাদকের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক অভিযান শুরু করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এ অভিযানে চট্টগ্রামের দিকে বিশেষ নজর ছিল র‌্যাব ও পুলিশের। ওই এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে নিহত হন বেশ কিছু ‘মাদক ব্যবসায়ী’। এর ফলে মাদকের কারবারিদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক।

সূত্র জানায়, নিজেদের নিরাপত্তার বিষয়টি চিন্তা করে মাদক চোরাকারবারিরা মায়ানমার থেকে বাংলাদেশে ইয়াবা পাচারের জন্য ‘নিরাপদ রুট’ হিসেবে বেছে নেয় সিলেট সীমান্তকে। বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে গেল কয়েক মাস ধরে সিলেটের জকিগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে ইয়াবা ঢুকছে। এরপর সিলেট থেকে এই মরণনেশা ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে দেশের বিভিন্ন স্থানে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মায়ানমার থেকে ভারতের মণিপুর, ইম্ফল ও শিলচর হয়ে ইয়াবার চালান দেশটির করিমগঞ্জে আসে। করিমগঞ্জের আব্দুল্লাহপুরে ইয়াবার কারখানা গড়ে তোলা হয়েছে বলেও একাধিক সূত্র থেকে জানা গেছে।

করিমগঞ্জ সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার উল্টোদিকে অবস্থিত। ইয়াবার চালান করিমগঞ্জ থেকেই জকিগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ঢুকে। জকিগঞ্জ উপজেলার খলাছড়া ইউনিয়নের লোহারমহল, সুলতানপুর ইউনিয়নের অজরগাঁও, ইছাপুর, সুলতানপুর, সহিদাবাদ ও ভক্তিপুর, জকিগঞ্জ ইউনিয়নের সেনাপতিরচক, মানিকপুর ও ছবড়িয়া, বারঠাকুরী ইউনিয়নের লাড়িগ্রাম ও ছালেহপুর এবং কসকনকপুর ইউনিয়নের বলরামেরচক এলাকা দিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে ঢুকে ইয়াবা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ভারত থেকে আসা ইয়াবার চালান সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে সিলেট শহরে আনতে আগে জকিগঞ্জ-শ্যাওলা-সিলেট রুট ব্যবহার করতো মাদক কারবারিরা। তবে ওই রুটে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তল্লাশি জোরদার হওয়ায় বর্তমানে রুট পাল্টে ফেলেছে তারা। মাদক কারবারিরা বর্তমানে জকিগঞ্জ-কালিগঞ্জ-সিলেট ও জকিগঞ্জ-আটগ্রাম-সিলেট রুট ব্যবহার করে শহরে ইয়াবার চালান নিয়ে আসছে। এরপর বিভিন্ন কৌশলে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ইয়াবার চালান ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে।

জানা গেছে, অতি সম্প্রতি সিলেট নগরীর একটি হোটেল কক্ষ থেকে সাড়ে ৫শ’ পিস ইয়াবাসহ আটক হন জকিগঞ্জ পৌর যুবলীগের সদস্য শাহরিয়ার রহমান অমিত। তিনি জকিগঞ্জ থেকে ইয়াবা নিয়ে এসেছিলেন। তার কাছ থেকে ইয়াবা যাচ্ছিল ঢাকার গাজীপুরের শামীম নামের এক মাদক কারবারির কাছে।

এ প্রসঙ্গে সিলেট মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার আজবাহার আলী শেখ সিলেটভিউকে বলেছিলেন, ‘সিলেট নগরীর দরগাহ গেইটস্থ হোটেল হলি গেইট থেকে অমিতকে আটক করা হয়েছিল। তিনি জকিগঞ্জ থেকে ইয়াবা নিয়ে এসেছিলেন। ঢাকার গাজীপুরের শামীম নামের একজনের কাছে ইয়াবা সরবরাহ করতেন অমিত।’

সূত্র মতে, সিলেট শহরে ইয়াবার চালান আসার পর বিভিন্ন মারফতে তা ছড়িয়ে দেয়া হয়। এজন্য কখনো ইয়াবা বহনকারী বাসে, কখনো ট্রেনে নির্দিষ্ট গন্তব্যে যান। কখনো ইয়াবার চালান নিতে দেশের অন্যান্য স্থান থেকে মাদক ব্যবসায়ীরা সিলেটে আসে। সিলেটের বিভিন্ন হোটেলে চালান নিয়ে অপেক্ষায় থাকে এখানকার কারবারিরা। ইয়াবার চালান পাঠাতে অনেক সময় কুরিয়ার সার্ভিসও ব্যবহার করা হয় বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে সিলেটের সদ্য বিদায়ী পুলিশ সুপার মো. মনিরুজ্জামান সিলেটভিউকে বলেন, ‘পুলিশের অভিযানে প্রায়ই ইয়াবাসহ মাদক কারবারিরা ধরা পড়ছে। তখন প্রতীয়মান হয়, জকিগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে ইয়াবা আসছে। তবে মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের জিরো টলারেন্স রয়েছে।’

বিজিবি সিলেট সেক্টরের কমান্ডার কর্ণেল মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের সতর্কতার কারণে প্রায়ই ইয়াবার চালান ধরা পড়ে। কয়েক মাস আগেও সীমান্তে ৬২ হাজার পিস ইয়াবার চালান ধরা পড়ে। সতর্কতা হিসেবে জকিগঞ্জ শুল্ক স্টেশন দিয়ে আসা পণ্যের কনটেইনার ও বক্স তল্লাশি করা হয়।’

Leave a Reply

Developed by: TechLoge

x