ভালোবাসা দাও,ফিরিয়ে নিওনা

সাহিদুর রহমান সুহেল

এবারের বিশ্বকাপে প্রবাসী অন্য সবার মতো হাজারো প্রতিকূলতা জয় করে মাঠে বসে প্রিয় বাংলাদেশকে সাপোর্ট করে যাচ্ছি ৷ হাজারো প্রতিকূলতা মানে,এই প্রবাসীরা ব্যক্তিগত,পারিবারিক,পরিবার থেকে দূরে অবস্থান,কর্ম এবং বাসস্থান,প্রবাসে দেশীয় অসুস্থ রাজনীতির চর্চাকে মনের গহীনে লুকিয়ে রেখে সাকিব-তামিমের একটি চার/ছয়ে সকল সুখ খুঁজে নেয় ৷স্টেডিয়ামে যারা হাজির হয় তাদের আনন্দ উল্লাস দেখে আমার মনে
হয়েছে প্রবাসীদের সকল দুঃখ জয় করে চলেছে
ম্যাশের ক্যাপেটেন্সি, সাকিব ঝড়,ফিজের কাটার,মিরাজের স্পিন,সাইফুদ্দিনের আউটসুইং,লিটনের পুল,তামিমের কাভার ড্রাইভ,মুশির সুইপশটে সব না পাওয়ার বেদনাকে চিরদিনের ছুটি দিয়ে স্টেডিয়ামে বসা ৷

স্টেডিয়ামে বসা অধিকাংশ মানুষগুলোকে দেখে কি মনে হয় এরা রেস্টুরেন্টে কর্মস্থলে আগুনকে পানি মনে করে জয়করে দু- তিনদিনের উপার্জিত অর্থ একটি ম্যাচে ব্যয় করে প্রিয় বাংলাদেশকে সাপোর্ট করার জন্য ৷

জোয়ান-বুড়া নেচেছেন চার-ছয়ের সাথে তালে-তালী বাজাইয়া !
৭১ মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের পর ক্রিকেট ছাড়া জাতিকে আর কোনো কিছু একসাথে আনন্দে উদ্ধেলিত করতে পারেনি ৷

আমি ফেসবুক সহ সকল যোগাযোগ মাধ্যমকে চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি সর্বশেষ টনটনে বিজয়ের পর আবারো প্রমান হলো এক মাত্র ক্রিকেট পারে বাংলাদেশ সহ বিশ্বের আনাচে-কানাছে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা সকল বাংলাদেশিকে কোনো শ্রেণী বিন্যাস কিংবা কোনো স্বার্থ না খুঁজে এক ছাতার তলে এক এবং অভিন্ন বাংলাদেশী ৷

যারা আমাদের প্রতিটা বিজয়ের উল্লাসকে সীমা অতিক্রম বলছেন তাদেরকে বলছি বিশ্ব মঞ্চে প্রিয় বাংলাদেশকে নিয়ে আরেকটি নিৰ্ভেজাল মঞ্চ আমাকে দিন ?

আপনারা আমাদের ভালোবাসা ও বাংলাদেশকে ছোট করে দেখছেন বলে এমন করে বলছেন ৷
আরো কিছু ফেক ভালোবাসা রয়েছে আমি অবাক হয় মাশাফি শুধুমাত্র রাজনীতিতে জয়েন করায় ২০০১ সাল থেকে ২০১৯ সালের ভালোবাসা ফিরাইয়া নিলেন ?

পাকিস্তান দলে কিন্তু নেতৃত্বের দলা-দলি শুরু হয়েগেছে !

মাশরাফি যেদিন থাকবেনা সেদিন বুজবেন নেতৃত্ব কি জিনিস ! আবার আপনারা “..আমার যত্নে গড়া ভালোবাসা দে ফিরাইয়া দে..গানটি ভাইরাল করেন ?একজন সাকিব প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে দুয়া নেয় বলে আপনাদের কটূক্তিতে তার স্ত্রী ও সন্তান রেহাই পাই না ৷ মাশরাফিকে ইতিমধ্যে অনেকে সেরা স্বার্থপর ভুঁড়িওয়ালা ক্যাপ্টেন আখ্যায়িত করেছেন ৷ এই মানুষগুলোকে দুদিন আগেও ভালোবাসার সব উপমায় সাজিয়েছেন ৷

অথচ ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকার হেডলাইন ছিল “সাকিবই কি সর্বকালের সেরা অলরাউন্ডার “?সাকিব যদি খারাপ খেলতো মাশরাফির মতো ওকে ট্রল করা আরম্ব হতো ৷ আপনারা যারা ভালোবাসা তারা তাড়ি ফিরাইয়া নেন আপনারা দেশকে কি দিয়েছেন ?
আগামীকাল আবারো যাচ্ছি নোটিংহামে,আরো ভালোবাসা দিতে .সামনে অনেক লম্বা পথ ….ধাপে ধাপে যেতে হবে বহুদূর….আবেগকে রাখতে হবে নিয়ন্ত্রন আর..ভিন্ন ভিন্ন ধাপের জন্য ভিন্ন ভিন্ন পরিকল্পনা
হারি বা জিত সহজে ভালোবাসার হাল ছাড়বোনা ! ফিরতি যাত্রা পথ আমার স্থির সমান ভালোবাসার পথ ৷

লেখক: সাহিদুর রহমান সুহেল

ক্রীড়া সংগঠক ও সংবাদ কর্মী

Leave a Reply

Developed by: TechLoge

x