মতামত

‘উপেক্ষিত পল্লী’র দিকে গভীর মনোযোগ

ড. আতিউর রহমান

ঐতিহাসিকভাবেই আমাদের পল্লী এলাকা উপেক্ষিত। রবীন্দ্রনাথ পূর্ব বাংলায় এসেছিলেন জমিদার হিসেবে। পূর্ব বাংলার কৃষকদের দুরবস্থা দেখে তিনি ‘উপেক্ষিত পল্লী’র উন্নয়নের জন্য নানা উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন যে, গ্রামকে এমন উপেক্ষা করে নগরকেন্দ্রিক সভ্যতাকে টিকিয়ে রাখা যাবে না। তাঁর নিজের ভাষায়, ‘অন্নের উৎপাদন হয় পল্লীতে, আর অর্থের সংগ্রহ চলে নগরে।… প্রথমে উৎপাদন করে বহুলোকে, শহরে উৎপাদন ও ভোগ করে অল্প সংখ্যক মানুষ; অবস্থার এই কৃত্রিমতায় অন্ন এবং ধনের পথে মানুষের মধ্যে সকলের চেয়ে প্রকাণ্ড বিচ্ছেদ ঘটেছে। ওই বিচ্ছেদের মধ্যে যে সভ্যতা বাসা বাঁধে তার বাসা বেশিদিন টিকিতে পারে না। গ্রীসের সভ্যতা নগরে সংহত হয়ে আকস্মিক ঐশ্বর্যের দীপ্তিতে পৃথিবীকে বিস্মিত করেছিল, কিন্তু নগরে একান্ত কেন্দ্রীভূততার শক্তি স্বল্পায়ু হয়ে বিলুপ্ত হয়েছে।’ (রবীন্দ্রনাথ, উপেক্ষিত পল্লী, রর চতুর্দশ খণ্ড, পৃ. ৩৭১)। আর সে জন্যই তিনি তাঁর জমিদারি এলাকাকে তাঁর নিজের সৃষ্টির আনন্দপ্রবাহের অংশীদার করে ‘পল্লীর শুস্কচিত্তভূমিকে অভিষিক্ত’ করতে কার্পণ্য করেননি। পাশাপাশি সুস্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, ‘নিজের পাঠশালা, শিল্প শিক্ষালয়ের, ধর্মগোলা, সমবেত পণ্যভাণ্ডার ও ব্যাংক স্থাপনের জন্য পল্লীবাসীদের শিক্ষা সাহায্য ও উৎসাহ দান করতে হবে। এমনি করে দেশের পল্লীগুলি আত্মনির্ভরশীল ও বূ্যহবুদ্ধ হয়ে উঠলেই আমরা রক্ষা পাব।’ (‘সমবায় নীতি’, রবীন্দ্র রচনাবলি, চতুর্দশ খণ্ড, পৃ. ৩১৯)।

আরেক শ্রেষ্ঠ বাঙালি, আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানও ছিলেন গ্রামীণ দুঃখী মানুষগুলোর দুঃখে একইরকম কাতর। কৃষকের জন্য ছিল গভীর দরদ ও পক্ষপাতিত্ব। তাই তিনি বলেছেন, ‘আমার চাষীরা হলো সবচেয়ে দুঃখী ও নির্যাতিত শ্রেণী এবং তাদের অবস্থার উন্নতির জন্য আমাদের উদ্যোগের বিরাট অংশ অবশ্যই তাদের পিছনে নিয়োজিত করতে হবে।’ রবীন্দ্রনাথ যেমন মনে করতেন কৃষির উন্নতি কেবল কৃষকের একার কাজ নয়, বিদ্বান ও বিজ্ঞানীকেও তাদের সঙ্গে যুক্ত হতে হবে, ঠিক তেমনি বঙ্গবন্ধুও কৃষকের উন্নয়নে কৃষিবিজ্ঞানী ও শিক্ষিতজনকে তাদের পাশে গিয়ে দাঁড়ানোর জন্য বারবার উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন। অনেক কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছিলেন। কৃষি গবেষকদের মর্যাদা বাড়িয়ে ছিলেন। ঐতিহ্যের এই ধারাবাহিকতায় তাই বঙ্গবন্ধুকন্যাও গ্রামীণ মানুষের পাশে থাকবেন, সেটিই তো স্বাভাবিক। তার দেওয়া নির্বাচনী ইশতেহার-২০১৯ তাই লক্ষ্য করি, ‘আমার গ্রাম-আমার শহর :প্রতিটি গ্রামে আধুনিক নগর সুবিধা সম্প্রসারণ’-এর অঙ্গীকার। এই প্রতিশ্রুতির আলোকেই এবারের বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রীর হয়ে প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেছেন, সব বৈশিষ্ট্য ঠিক রেখেই ‘গ্রাম হবে শহর’। তিনি জানান, নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে গ্রাম পর্যায়ে কৃষিযন্ত্র, সেবাকেন্দ্র ও ওয়ার্কশপ স্থাপন করা হবে। এছাড়া পল্লী এলাকায় উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, অবকাঠামো স্থাপন, আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার সুযোগ তৈরি, নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ বাড়ানো, কম্পিউটার ও দ্রুতগতির ইন্টারনেট সুবিধা দেওয়া হবে।

নিঃসন্দেহে সরকার বিগত এক দশকে পল্লীর অবকাঠামো এবং সামাজিক উন্নয়নে ব্যাপকভাবে নজর দিয়েছে। কৃষি উন্নয়নে বেশি করে ভর্তুকি ও নীতি সমর্থন দেওয়ার কারণেই আমরা কৃষির অনেক উপখাতে উদ্বৃত্ত। আর সে কারণে কৃষিপণ্যের মূল্য সমস্যা সৃষ্টি হয়। ঘাটতি নয় উদ্বৃত্তের এই সংকট মোকাবেলার জন্যও সরকার যথেষ্ট তৎপর। তবুও কৃষকদের বেশ খানিকটা ক্ষোভ ও হতাশা যে বিদ্যমান, সে কথা অস্বীকার করার উপায় নেই। সরকারপ্রধানও এ বিষয়ে সচেতন রয়েছেন। আজকের গ্রামবাংলায় অভূতপূর্ব এক জাগরণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। গ্রামীণ অর্থনীতিও বেশ চাঙ্গা। বিশেষ করে অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থায়নের (ব্যাংকের গ্রামীণ শাখা, মোবাইল ও এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রমের কল্যাণে) প্রভাবে গ্রামে ব্যবসা-বাণিজ্য অনেকটাই গতিময়। দ্রুত অভ্যন্তরীণ ও প্রবাসী রেমিট্যান্সের কারণে গ্রামীণ অর্থনৈতিক চাহিদা বেড়েই চলেছে। গ্রামে তাই কর্মসংস্থানের পরিমাণ বেড়েছে। পাশাপাশি খুদে ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সংখ্যাও বাড়ছে। এসব কারণে গ্রামের মানুষের শহরের সুবিধা পাওয়ার আকাঙ্ক্ষাও বেড়েছে। সেই চাহিদার আলোকেই এবারের বাজেট ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে।

তবে নানা সরকারি-অসরকারি অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মসূচি বাংলাদেশের গ্রামীণ এলাকায় অনেক দিন ধরেই সচল রয়েছে। হালে তাদের সক্রিয়তা আরও বেড়েছে। বাংলাদেশের নীতিনির্ধারকরা ‘উপেক্ষিত পল্লী’ এলাকায় উন্নয়নের পক্ষে ইতিমধ্যেই বড় ধরনের অঙ্গীকারে আবদ্ধ। ‘আমার বাড়ি আমার খামার’, পল্লী সঞ্চয় ও ক্ষুদ্রঋণের নানা সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ, বিস্তর কৃষিঋণ এবং র্আর্থিক অন্তর্ভুক্তির নানা আয়োজনের সুফল গ্রামবাংলা এরই মধ্যে পেতে শুরু করেছে। তাছাড়া গ্রাম পর্যায়ে আরও অধিক সংখ্যক খুদে উদ্যোক্তা তৈরি করার লক্ষ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নেতৃত্বে সরকারের বিভিন্ন বিভাগ ও মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে বড় আকারের ‘পল্লী সঞ্চয় ও ক্ষুদ্রঋণ’ নীতিমালা তৈরি করেছে সরকার। প্রতিটি বিভাগে একটি অতিদরিদ্র উপজেলায় অচিরেই পাইলট প্রকল্প চালু করার জন্য বাজেট বরাদ্দও দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া সরকার পল্লী অবকাঠামো উন্নয়নের নানা উদ্যোগ হাতে নিয়েছে। ‘পল্লী জনপদ’ নামের আধুনিক আবাসন তৈরির একটি কর্মসূচিও হাতে নেওয়া হয়েছে। নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১০০ কোটি টাকা। নতুন উদ্যোক্তা তৈরির জন্য একশ’ কোটি টাকার যে বিশেষ তহবিলের প্রস্তাব করা হয়েছে বাজেটে, তার হিস্যাও নিশ্চয় পাবে গ্রামীণ তরুণ-তরুণীরা। ঠিকঠাকমতো এসব বরাদ্দ ব্যয় করতে পারলে নিশ্চয় উন্নত গ্রাম তৈরি করা সম্ভব।

এ কথা ঠিক, গ্রামে এরই মধ্যে দ্রুতগতির ব্রড ব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবস্থা, ডিজিটাল সেন্টার, বিভিন্ন ধরনের ব্যাংকিং সেবাকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। আজকাল রেমিট্যান্সের অর্থ দিয়ে গ্রামে শুধু অগোছালোভাবে বাড়ি তৈরি করা হয় না। মাছ চাষ, ফল চাষ, কৃষি চাষ, ভ্যান কেনা, কুটির শিল্প ও দোকান দেওয়ার মতো নানা অর্থনৈতিক উদ্যোগে এই অর্থ খরচ হচ্ছে। প্রবাসে থাকা তরুণরা দেশে ফিরে শহরের সুবিধা প্রত্যাশা করে। তাই ব্যক্তিগত উদ্যোগে গ্রামে উন্নত স্যানিটেশন ব্যবস্থা, রেফ্রিজারেটর, টেলিভিশন, গৃহস্থালি নানা আধুনিক পণ্যের জোগান বেড়েছে। আর স্মার্টফোন, ইন্টারনেট, বিউটি পার্লার, বিনোদন ও পর্যটন সেবারও বিস্তার ঘটেছে। একই সঙ্গে গ্রামে মেয়েদের লেখাপড়ার সুযোগও বেড়েছে। স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসার সংখ্যা বেড়েছে। এবারের বাজেটে এমপিও কর্মসূচি পুনরায় চালুর আশ্বাসে এসব প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন ও শিক্ষকদের কর্মসংস্থান দুই-ই নিশ্চিত হতে যাচ্ছে। এখন শুধু খেয়াল রাখতে হবে, একটি সুষ্ঠু মাস্টার প্ল্যানের অধীনে যেন গ্রামীণ অবকাঠামোগুলো নির্মাণ করা হয়। ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা পরিষদ এ ক্ষেত্রে সমন্বয়ের দায়িত্ব নিতে পারে। গ্রামেও যেন বিশৃঙ্খল নগরায়ণের অপচ্ছায়া না পড়ে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

এ সমন্বয় জাতীয় পর্যায়েও হতে হবে। শুধু আমলাতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় গ্রামীণ অবকাঠামো ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বাজেটের অর্থ খরচ করলে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য পূরণ হবে না। এই প্রক্রিয়ায় ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত নগরায়ণ বিশেষজ্ঞ, গ্রামীণ উন্নয়নে অভিজ্ঞ আর্থ-সামাজিক বিশেষজ্ঞ, প্রকৌশলী, সামাজিক উদ্যোক্তা, এনজিও নেতৃত্ব, শিক্ষক, সমাজকর্মী, নারী উদ্যোক্তা ও কর্মীদের যুক্ত করার প্রয়োজন রয়েছে। দেশটা আমাদের সবার। তাই গ্রামীণ উন্নয়নে সব পর্যায়ের উৎসাহী অংশীজনকে সংযুক্ত রাখা গেলে পরিকল্পিত উপায়েই সবার প্রত্যাশা অনুযায়ী আমরা কাঙ্ক্ষিত মানের গ্রামীণ উন্নয়ন সম্পন্ন করতে পারব। আমরা গ্রামের নৈসর্গ ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বজায় রেখেই নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে চাই। সে জন্য গ্রামীণ উন্নয়নকে কয়েকটি অগ্রাধিকারসাপেক্ষে সবাই মিলে নিশ্চিত করতে চাই।

প্রথম, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদকেন্দ্রিক পরিকল্পিত শহর ও উপশহর গড়তে হবে। দ্বিতীয়, গ্রোথ সেন্টারগুলোতে উপযুক্ত নাগরিক সেবা প্রদানের জন্য পূর্বপরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন রূপরেখা তৈরি করে এগোতে হবে। আগামীর শহর হিসেবে এগুলোর বেড়ে ওঠা নিশ্চিত করতে হবে। পরিবেশসম্মত নগরায়ণ এ পর্যায়েও নিশ্চিত করতে হবে। তৃতীয়, প্রত্যেক গ্রামে অথবা কয়েকটি গ্রাম মিলে একটি ক্লাস্টার বা গুচ্ছ গড়ে তোলা অথবা প্রতি ইউনিয়নে অন্তত একটি ধান সংগ্রহের জন্য সাইলো স্থাপন করা যেতে পারে। সেখানে ধান শুকানোর ব্যবস্থা থাকবে। চতুর্থ, প্রতিটি গ্রামকে ‘স্মার্ট’ গ্রাম হিসেবে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারে উৎসাহী করার জন্য ব্যক্তি খাত ও সরকারি প্রতিষ্ঠানকে উৎসাহী করতে হবে। পঞ্চম, সরকারের কাবিখা কর্মসূচির আওতায় এখন অনেক গ্রামের রাস্তায় সোলার বাতি সরবরাহ করে গ্রামীণ পরিবেশ আলোকিত ও নিরাপদ করা হয়েছে। এই কর্মসূচির বিপুল প্রসার প্রত্যাশা করছি। পিপিপির আওতায় এ কাজ সম্পন্ন করা হচ্ছে।

ষষ্ঠ, সোলার মিনিগ্রিড, সোলার ইরিগেশন পাম্প কর্মসূচি চালু করে অনেক বিচ্ছিন্ন গ্রামের চেহারাই বদলে ফেলা হচ্ছে। সরকারি-বেসরকারি সহযোগিতার আলোকে ব্যক্তি ও অলাভজনক প্রতিষ্ঠান সরকারের সঙ্গে মিলে এসব কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন করছে। এমন কর্মসূচির ব্যাপক প্রসার ঘটলে সবুজ গ্রামোন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।

সপ্তম, বেশ কিছু উপজেলায় কয়েকজন উৎসাহী নারী ও পুরুষ উদ্যোক্তা জৈব সার, জৈব গ্রাম, সমন্বিত কৃষি খামার, তথ্যপ্রযুক্তি কেন্দ্র, মোবাইল ও এজেন্ট ব্যাংকিং কেন্দ্র পরিচালনা করে আগামী দিনের সবুজ গ্রামীণ জনপদ গড়ে তোলার সম্ভাবনাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। এসব উদ্যোগ থেকে আমরা শিখতে পারি এবং আগামীর স্মার্ট গ্রামবাংলা গড়ার জন্য বাজেট বরাদ্দের উদ্যোগ নিতে পারি।

অষ্টম, উত্তরবঙ্গ ও কুমিল্লা রফতানি উন্নয়ন অঞ্চল গড়ে ওঠার পর আশপাশের গ্রামের মানুষের আয়-রোজগার প্রচুর বেড়েছে। এর আশপাশে নানা ব্যবসায়িক উদ্যোগ গড়ে উঠেছে। ব্যাপকহারে কর্মসংস্থানের সুযোগ বেড়েছে। নারীর ক্ষমতায়ন বাড়ছে। তাই সারাদেশেই প্রতিটি জেলায় অন্তত একটি করে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা গেলে গ্রামবাংলায় কর্মসংস্থান ও নয়া খুদে উদ্যোক্তা গড়ে ওঠার নয়াদিগন্ত উন্মোচিত হবে।

নবম, গ্রাম পর্যায়েই নানা প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে প্রবাসী কর্মীদের প্রশিক্ষিত করে আমরা বিদেশে পাঠাতে পারি। বিজিএমইএ অনুরূপ কিছু প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করেছে। ওই প্রশিক্ষিত কর্মীরা গার্মেন্ট খাতেও ভালো বেতন পাচ্ছে। তাই প্রশিক্ষণের সুযোগকে আরও প্রসারিত করা যেতে পারে। বিশেষ করে চরাঞ্চল, নদীভাঙনকবলিত এলাকায় এমন উদ্যোগ খুবই অর্থবহ হবে।

দশম, সবশেষে বলা যায়, নানা দিক দিয়েই আজ আর গ্রাম ও শহরকে আলাদা করা যাচ্ছে না। এই সংযুক্তির আরও প্রসার ঘটাতেই প্রধানমন্ত্রীর এই নয়া উদ্যোগ। ধীরে ধীরে আমরা ‘অকিঞ্চিৎকরতা’র ছাপ ডিঙিয়ে আধুনিক জনপদ গড়ে তুলছি। পুরো দেশটাকেই আধুনিক ও উন্নত করতে চাইছি। ব্যক্তি খাত, অ-সরকারি খাত ও সরকার মিলেই আমরা সমৃদ্ধ, অগ্রসরমান ও মানবিক অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়তে চাই। সেই বাংলাদেশে গ্রামবাংলা, এমনকি চর, হাওর ও উপকূলও উপেক্ষিত থাকবে না। বিশেষ করে ‘মুজিববর্ষে’ বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীজুড়েই আমরা দারিদ্র্যমুক্ত ও ক্ষুধামুক্ত আরেক বাংলাদেশের জয়গান করব। সেই প্রত্যাশাই করছি।

অর্থনীতিবিদ ও সাবেক গভর্নর বাংলাদেশ ব্যাংক
dratiur@gmail.com

Related Articles

Back to top button