১৪ বছর জেল খেটে সংশোধন হলেন জাহাঙ্গীর, পাশে প্রশাসন

Posted on by

ব্রিট বাংলা ডেস্ক :: অপরাধ করলে শাস্তি ভোগ করতে হয়। এটাই নিয়ম। আবার শাস্তি ভোগের পর ভালো হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরেও যাওয়া যায়। মানুষের ইচ্ছেটাই হলো এখানে বড়। তবে অনেক সময় সেই ইচ্ছায় নানা বাধা আসে। প্রায় ক্ষেত্রে অপরাধীরা ফিরেও আসতে পারে না। নানা সংকোচে পিছিয়ে থেকে তারা জীবনের হাল ছেড়ে দিয়ে ধুকে-ধুকে মরে। জেল খাটার পর ভালো হয়ে মা-বাবা বোনকে নিয়ে আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আকুতিও বিরল।

জাহাঙ্গীর নামের এক তরুণ দীর্ঘ ১৪ বছর কারা ভোগের পর ভালো হয়ে যাওয়ার দৃঢ় সংকল্প ব্যক্ত করে সবাইকে চমকে দিয়েছেন। তাই সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক আবদুল আহাদও তার দিকে হাত বাড়িয়ে দিলেন।

নারী নির্যাতন মামলায় কিশোর বয়সে জেলে ঢুকেন জাহাঙ্গীর। ১৪ বছরের শাস্তি হয়। ইচ্ছে পোষণ করেন কারাভোগ শেষে জীবনটা কাটাবেন ভালোর পথে। জাহাঙ্গীর স্বাভাবিক জীবনে ফিরে বাবা-মা ও একমাত্র ছোট বোনকে নিয়ে চলার জন্য কর্মসংস্থানের খোঁজ করছিলেন জেলে থেকেই। তার ইচ্ছার শুভক্ষণ অবশেষে ধরা দিলো গত বৃহস্পতিবার। ওই দিন সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসনের নিয়মিত গণশুনানিতে এমনই কথা জানান, দিরাই উপজেলার দাউদপুর এলাকার মো. আব্দুল খালেকের ছেলে মো. জাহাঙ্গীর আলম।

তিনি দীর্ঘ ১৪ বছরের কারাভোগ শেষে গত ৯ জুলাই মুক্তি পান। গণশুনানিতে জাহাঙ্গীর জানান, বর্তমানে তার কোনো কর্মসংস্থান নেই। কিন্তু কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতে ইচ্ছা তার। তার কথা শুনে ক্ষুদ্র ব্যবসা করার জন্য ২০ হাজার টাকার চেক প্রদান করলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ শরীফুল ইসলাম সহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।

২০ হাজার টাকার চেক পেয়ে জাহাঙ্গীর আলম জেলা প্রশাসককে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘স্যার আমাকে যে সহযোগিতা করলেন তা আমি কোনোদিন ভুলব না। আমার জীবন থেকে ১৪টা বছর হারিয়ে গেলো। যা আর ফিরে আসবে না। এখন ঘরে মা-বাবা ও একমাত্র বোন রয়েছে। বাকি জীবনটা সৎ পথে কাটাব। আমি এই টাকা দিয়ে একটি চা-পানের দোকান দেব। সেখান থেকে যা আয় হবে তা দিয়েই সংসার চালাব।’

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ বলেন, ‘জাহাঙ্গীর কারাগারেও আমাকে জানায় সে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চায়।’ তিনি বলেন, ‘যদি কোনো মানুষ অপরাধের রাস্তা ছেড়ে ভালোর পথে আসতে চায় তাকে অবশ্যই সাহায্য করা হবে।’

জেলা প্রশাসক জানান, জাহাঙ্গীরের বাবা-মাকে নিয়ে বসবাসের জন্য একটি ঘরও দেওয়া হবে। তিনি জাহাঙ্গীরের ব্যবসার সার্বক্ষণিক তদারকির জন্য দিরাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) অনুরোধ করেছেন। অনেকেই মনে করেন জাহাঙ্গীর সমাজের জন্য উদাহরণ হয়ে থাকবেন।

Leave a Reply

More News from জাতীয়

More News

Developed by: TechLoge

x