সিলেট

আবারও আলোচনায় ফেঞ্চুগঞ্জের ভাইস চেয়ারম্যান সেলিনা

ফেঞ্চুগঞ্জ থেকে সংবাদদাতা :: সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সেলিনা ইয়াসমিন। কিছু দিন পর পর নানা কারণে আলোচনা, সমালোচনায় আসা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নিয়ে বিব্রত স্বয়ং উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান। সেলিনা ইয়াসমিন ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পরেই আলোচনা, সমালোচনা জন্ম দিয়েই যাচ্ছেন।

জানা যায়, ৫ নভেম্বর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে তার উচ্চবাক্যে বাকবিতন্ডার ঘটনা ঘটে মাইজগাঁও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সুফিয়ানুল করিমের সাথে। এ নিয়ে থানায় জিডিও দায়ের করেন সেলিনা ইয়াসমিন। জিডি নং ২৩৩।

এ ব্যাপারে চেয়ারম্যান সুফিয়ানুল করিম বলেন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আমাদের সভার সদস্যও নয় এমনকি আমন্ত্রিতও নয়। তিনি অবৈধভাবে প্রবেশ করে ঢালাও ভাবে চেয়ারম্যানদের চোর বুঝাতে চাইলে আমি প্রতিবাদ করি এতে তিনি ক্ষেপে যান।

মহিলা ভাইস ঐ সভার সদস্য বা আমন্ত্রিত নয় এটা স্বীকার করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এম. জাহিদুর রহমান ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম।

সৃষ্ট দ্বন্দ্ব সমাধানের আগেই বুধবার (৬ নভেম্বর) মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান তার নিজস্ব ফেইসবুক একাউন্টে একটি পোস্ট শেয়ার করেছেন। এটি নিয়ে মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। উপজেলাবাসীর উদ্দেশ্যে দেওয়া তার ফেইসবুক পোস্টে তিনি কয়েকটি কথা লিখেছেন যা জনপ্রতিনিধি হিসেবে অস্বাভাবিক।

তিনি লিখেছেন, ‘আমি করতে পারি না পৃথিবীতে এমন কাজ খুব কমই আছে’। আরেক জায়গায় তিনি লিখেন ‘আমার মেয়ের বাবা আগে বলতো পায়ের স্যান্ডেল এক হাতে নয় দুই হাতে রাখতে, কেউ উল্টাপাল্টা কিছু বললে কষে দুই গালে মারতে। পরে যা হয় তিনি দেখবেন!’

তিনি আরো লেখেন ‘আমি মুখ খারাপ করলে আমার জুড়ি মেলা ভার!’। আবার লিখেন ‘পৃথিবীর কোন বদ লোককে খুন করতেও তার হাত কাপবে না’।

পরবর্তীতে পক্ষে বিপক্ষে কমেন্ট আসলে তিনি এডিট করে খুন শব্দ বাদ দিয়ে শায়েস্তা শব্দ বসান (স্ক্রিনশট সংরক্ষিত)।

একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি ও জনপ্রতিনিধির এরকম কটু কথাগুলো মিশ্র প্রতিক্রিয়া ছড়াচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

পোস্টের মন্তব্য ঘরে আহাদ নামে একজন লিখেছেন ‘জানিনা কি হয়েছে তবে আপনার ভিতরে লুকিয়ে থাকা চরিত্র ফুটে উঠেছে!’

নুরুল খান লিখেছেন, ‘শক্তি প্রয়োগের চেয়ে বুদ্ধি প্রয়োগে ভাল ফল পাওয়া যায়।’

এ ব্যাপারে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সেলিনা ইয়াসমিনের সাথে যোগাযোগ করা হলেও তার অসৌজন্যমূলক আচরণ প্রকাশ পায়। তিনি বলেন, আমি উপজেলাবাসীকে আমার মনের কথা জানিয়েছি। কটু কথাগুলো ঠিক হলো কি না? এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার টাইমলাইন আমার অধিকার। এখানে কোনটা ঠিক কোনটা বেঠিক তা আমি নির্ধারণ করবো।

এখানেই শেষ নয় তিনি ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই নানান বিতর্ক জন্ম দিয়ে যাচ্ছেন।

এরআগে, তিনি ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে শপথ গ্রহণের দিনে উপজেলায় তার বক্তব্যের এক পর্যায়ে বলেন, ‘ফেঞ্চুগঞ্জের মানুষ ধর্ম মানে না’ এই বক্তব্যে কড়া সমালোচনার মুখে পড়েন সেলিনা ইয়াসমিন। এরপরে উনার গ্রাম এলাকার সরকারি গাছ চুরি হয়। এ ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা নেন তৎকালীন ফেঞ্চুগঞ্জ এসিল্যান্ড সঞ্চিতা কর্মকার। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে এসিল্যান্ডের সাথে আলাপ করেন সেলিনা ইয়াসমিন। আর সেই আলোচিত ভয়েস রেকর্ড ভাইরাল হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। আবারো আলোচনায় উঠে আসেন তিনি।

আবার কিছু দিন আগে ফেঞ্চুগঞ্জ থানা আয়োজিত জঙ্গি ও মাদক বিরোধী অনুষ্ঠানে সিলেট জেলা পুলিশ সুপারের সামনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সেলিনা ইয়াসমিন বলেন, ‘ফেঞ্চুগঞ্জে জঙ্গি নেই কিন্তু জঙ্গির শিকড় আছে’। উনার এ বক্তব্য উনাকে আবারো আলোচনায় নিয়ে আসে। সর্বশেষ গতকাল ইউপি চেয়ারম্যানের সাথে ঝগড়া! সার্বিক বিষয় নিয়ে বিব্রত চেয়ারম্যানরাও।

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, কি আর বলবো আমি বিব্রতবোধ করছি।

ঘটনার সময় উপস্থিত ফেঞ্চুগঞ্জ উত্তর কুশিয়ারা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আহমেদ জিলু বলেন, এ ব্যাপারে আমার মন্তব্য নেই। তবে এতটুকু বলি, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানগণ ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের মধ্যে মিল না থাকলে জনগণের জন্য কাজ করা সম্ভব নয়।

ঘিলাছড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান লেইস চৌধুরী ও সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কাজী বদরুদ্দোজাকে মোবাইল ফোনে পাওয়া না গেলেও উত্তর ফেঞ্চুগঞ্জ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বলেন, তিনি একটার পর একটা বিতর্ক জন্ম দিচ্ছেন যা শিক্ষিত মানুষ ও জনপ্রতিনিধি হয়ে ঠিক না। জনপ্রতিনিধি এধরণের আচরণ করলে সাধারণ মানুষ যাবে কোথায়?

ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান শহিদুর রহমান রুমান বলেন, আমাদের জনপ্রতিনিধিদের কাছে থেকে আমরা এই রকম ঘটনা প্রত্যাশা করিনা। আমি মনে করি জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে পরস্পরের প্রতি পরস্পরের শ্রদ্ধাবোধ থাকা উচিত। আর এই শ্রদ্ধাবোধ পরিবার থেকে শিক্ষা নিতে হয়।

Related Articles

Back to top button