সিলেট

ওসমানীনগরে সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার যন্ত্রনায় অতিষ্ঠ স্কুলের শিক্ষকরা

সিলেট অফিস :: সিলেটের ওসমানীনগরে প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগে কর্মরত এক সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দূর্নীতি অভিযোগ উঠেছে। সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সানাউল হক সানি এ উপজেলায় যোগদানের পর থেকে নানা অনিয়ম ও বির্তকিত ঘটনা সৃষ্টি করায় শিক্ষকের হাতে লাঞ্চিত হওয়ারও ঘটনা ঘটেছে। তবে ওই শিক্ষা কর্মকর্তার অনিয়ম ও বিতর্কিত কর্মকান্ডের ঘটনা নিয়ে গত ৩১ অক্টোম্বর সিলেট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর প্রদানকৃত লিখিত অভিযোগের তদন্ত চলছে বলে সংশ্লিষ্ট অফিস সূত্রে জানা গেছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা সানাউলহক ছানি ওসমানীনগরে যোগদানের পর থেকে বিদ্যালয় পরিদর্শনের নামে শিক্ষকদের কাছ থেকে অর্থিক সুবিধা আদায়ে মেতে উঠেছেন। বিদ্যালয় পরিদির্শনে গেলে তাকে দুপুরের লাঞ্চ করাতে হয়। পরিদর্শনে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে খাবারের আয়োজন করে রাখার জন্য বলে রাখেন তিনি। ওই সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তাকে মাসুহারা প্রদান করে উপজেলার একাধিক শিক্ষকরা সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ে উপস্থিত না থেকেও নিয়মিত বেতন ভাতা উত্তোলন করে যাচ্ছেন বলে সূত্র জানায়। সম্প্রতি সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা সানাউল হক সানি একটি বিদ্যালয় পরিদর্শনে গিয়ে বিভিন্ন অনিয়মের অজুহাত দেখিয়ে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষককের কাছে টাকা দাবি করেন।

পরবর্তীতে শিক্ষকরা তাঁর কথামতো টাকা প্রদানে অনিহা প্রকাশ করায় তিনি এ বিদ্যালয়ের নানা বিষয় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের আইডি থেকে স্ট্যাাটাস দেন। স্ট্যাাটাসটি প্রকাশ পাওয়ার পর জৈনক্য শিক্ষক তাকে আশালিন ভাষায় গালিগালাজ ও লাঞ্চিত করেন। স্ট্যাাটাস দেয়ায় চাকুরীবিধি লঙ্গন করেছেন বিষয়টি বুঝতে পেরে শিক্ষকের সাথে আপোষে নিস্পত্তি করেন। শিক্ষকদের এক মাসিক সভা চলাকালিন সময়ে নারী শিক্ষকদের ইঙ্গিত করে অশালীন মন্তব্য করা নিয়ে সচেতন মহলের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড় উঠে। পরর্তীতে এ উপজেলায় কর্মরত ওপর এক সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে মন্তব্য প্রদানকারী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের হাতে পায়ে ধরে বিষয়টি সুরাহ করেন।

উপজেলার তিলা পাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরী (কাম নৈশ্য প্রহরী) ফরহাদ আহমদের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়ে সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকের স্বাক্ষর জাল করে বেতন ভাতা উত্তোলনের ব্যবস্থা করে দেন। এ ব্যপারে ওই বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে দপ্তরী ফরহাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বরাবর রেজুলেশনের ফোটোকপিসহ লিখিত অভিযোগ প্রদান করলেও ওই কর্মকর্তার গোপন সেল্টারে সংশ্লিষ্ট দপ্তরীর বিরুদ্ধে এখনো কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

গত দুই মাস থেকে দপ্তরী ফরহাদ কর্মরত বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকলেও দৈনিক হাজিরা খাতায় ফরহাদের বিদ্যালয়ে উপস্থিত নিশ্চিত করার দাবি নিয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে চাপ প্রয়োগ করছেন। ওই লিখিত অভিযোগটি আপোষে নিষ্পত্তি ও দপ্তরীরর মাসিক বেতন বিলের কাগজে স্বাক্ষর করে দেবার জন্য বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও একাধিক সদস্যদের বিভিন্ন মাধ্যমে চাপ প্রয়োগসহ দেখে নেয়ারও হুমকি প্রদান করছেন বলে অভিযোগে প্রকাশ রয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সংশ্লিষ্ট একাধিক শিক্ষকসহ ও নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানায়,সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা ছানাউল হক ছানির অনিয়মের কারনে নিরিহ শিক্ষকদের হয়রানী পোহাতে হচ্ছে। সদ্য যোগদানকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা তার এসব অনিয়মের প্রশ্রয় না দেয়ায় বর্তমানে ক্ষোদ উপজেলা শিক্ষা অফিসের অনান্য কর্মরতদের সাথে তিনি অশালিন আচরণসহ নানা অযুহাতে অফিসিয়াল কাজকর্মে অসযোগিতা ও ইচ্ছামতো অফিসে যাওয়া আসা করছেন। চলতি বছরের সমাপনি পরিক্ষার উত্তরপত্র নিজের কমিশন প্রাপ্ত নিদিষ্ট প্রেসে ছাপাতে না দেয়ায় বিভিন্ন ভাবে অফিস সংশ্লিষ্টদের ফাঁসানোর চেষ্ঠাসহ পরিক্ষায় চলাকালিন সময়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করায় পায়তারায় লিপ্ত রয়েছেন।

লিখিত অভিযোগকারীদের মধ্যে আব্দুল আহাদ, নজরুল ইসলামসহ অনেকেই বলেন, দূনীতিবাজ কর্মকর্তা ছানির সেল্টারে দপ্তরী ফরহাদ স্বাক্ষর জ্বাল করে বেতন ভাতা উত্তোলন করে নিয়েছে। গত দুই মাস ধরে ওই দপ্তরী বিদ্যালয়ে অনুপস্থিতি অশালিন আচরণের বিষয়ে আমরা তাকে অবগত করলেও তিনি কর্ণপাত করেননি।

উল্টো ওই শিক্ষা কর্মকর্তা অনৈতিক সুবিধা আদায়ের মাধ্যমে দপ্তরী ফরহাদের পক্ষাবলম্ভন করে হাজিরা খাতায় দপ্তরী ফরহাদের বিদ্যালয়ে উপস্থিনি নিশ্চিত করাসহ এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য না করার জন্য প্রধান শিক্ষককে চাপ প্রয়োগ করছেন। দপ্তরীর বিরুদ্ধে দাখিলকৃত অভিযোগ তুলে আনার জন্য কমিটির সভাপতিসহ সদস্যদের চাপ প্রয়োগ ও দেখে নেয়ার হুমকি প্রদান করেছেন।

অভিযুক্ত সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সানাউল হক সানি অভিযোগগুলি অস্বীকার করে বলেন,এসব মিথ্যা আমি শুধুমাত্র চা ছাড়া কারো কাছ থেকে কিছুই খাই না।এটা আমার উধ্ধর্তন কর্মকর্তারাও জানেন। আর বর্তমানে ওই দপ্তরীর বেতন বন্ধ রয়েছে।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা চলতি দ্বায়িত্ব আব্দুল মুমিন মিয়া বলেন,উধ্ধতর্ন কর্তৃপক্ষের কাছে এব্যাপারে দাখিলকৃত অভিযোগটির বিষয়ে আমার জানা নেই। তবে ওই সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অফিস কর্মরত অনান্যদের সাথে অশালিন আচরনের যে অভিযোগ তা ঠিক নয়,আর সমাপনি পরিক্ষা বানচাল করার প্রশ্নই উঠে না। তবে কেউ সমাপনি পরিক্ষায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চাইলে অবশ্যই তাৎক্ষনিক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে জানান তিনি।

সিলেট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বায়েজীদ খান এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, অভিযোগটির তদন্ত চলছে। তদন্তে প্রমাণ পাওয়া গেলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Related Articles

Back to top button