যুক্তরাজ্য

লন্ডনব্রিজ হামলায় এক নিহতের পরিচয় প্রকাশ : উসমান খানের মামলা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক

ব্রিটবাংলা ডেস্ক : লন্ডন ব্রিজে শুক্রবারের ছুরিকাঘাতের ঘটনায় নিহত একজনের পরিচয় প্রকাশ করেছে পুলিশ। তার নাম জ্যাক ম্যারিট। ২৫ বছর বয়সী জ্যাক কেমব্রিজ ইউনির্ভাসিটি থেকে মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন। লন্ডন ব্রিজের পাশে ফিশমঙ্গার্স হলে অপরাধীদের পুনর্বাস সংক্রান্ত সেমিনারের আয়োজকদের একজন ছিলেন তিনি। এই সেমিনারেই অংশ নিতে এসেছিলেন ঘাতক ২৮ বছর বয়সী উসমান খান। জ্যাক ম্যারিটসহ অপর এক মহিলাকে ছুরিকাঘাতে হত্যার পর পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান সাজাপ্রাপ্ত অপরাধী উসমান খান।

লন্ডন ব্রিজ হামলাকারী উসমান খান

অপরাধী উসমান খান ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে ইলেক্ট্রিক ট্যাগ নিয়ে কারাগার থেকে মুক্তি পান। লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ হাউসে বোমা হামলার পরিকল্পনার অভিযোগে ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারীতে ৯ জনের একটি দলের সঙ্গে উলিচ ক্রাউন কোর্ট উসমান খানকেও ৮ বছরের জেলদন্ড দিয়েছিল। কিন্তু উসমান খান অর্ধেক সাজা ভোগের পর ইলেক্ট্রিক ট্যাগ নিয়ে কারাগার থেকে বের হন। এরপর বিবিসির সঙ্গে কথাও বলেন তিনি। দাবী করেছিলেন তিনি সন্ত্রাসী নয়। উসমান খান নিজেকে সংশোধনের চেস্টা করেছেন বলেও শনিবার জানিয়েছেন তার আইজনীজি।

লন্ডন ব্রিজে ছুরি দিয়ে হামলা : হামলাকারীসহ দু পথচারী নিহত (ভিডিও)

শনিবার সকালে স্টাফোর্ডশায়ারে উসমান খানের বাড়িতে বিশেষ অভিযান চালিয়েছে কাউন্টার টেরোজিম পুলিশ। তবে এখনো পর্যন্ত এই ঘটনার সঙ্গে দ্বিতীয় কোনো ব্যক্তির যুগসুত্রতা পায়নি পুলিশ। তবে শুক্রবারের ঘটনার পর বেশ গুরুত্বপূর্ন কিছু প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে লোকমুখে। তার মধ্যে অন্যতম প্রশ্ন হল, অন্যের জীবনের জন্যে বিপজ্জনক এবং ঝুঁকিপুর্ন থাকার পরেও একজন দন্ডপ্রাপ্ত অপরাধী কিভাবে/ জেল থেকে মুক্তি পেয়েছিল? আর ইলেক্ট্রিক ট্যাগ শরীরে থাকার পরেও অপরাধ সংশোধনের একটি সেমিনারে এসে কিভাবে সে ছুরিকাঘাতে দুজনকে হত্যা করতে পারলো?
উসমান খানের মুক্তির বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলেও। লেবার এমপি ইভেট কোপার অভিযোগ করে বলেছেন, ইমপ্রেশনমেন্ট ফর পাবলিক প্রোটাকশন সংক্ষেপে আইপিপি’র বিষয়ে সরকারকে আগেই সতর্ক করা হয়েছিল। অন্যদিকে হোম সেক্রেটারী প্রীতি পাটেল বলেছেন, এই আইনটি করা হয়েছিল ২০০৮ সালে লেবার সরকারের আমলে। তখন হোম সেক্রেটরী ছিলেন ডেভিড ব্ল্যাঙ্কেট। কিন্তু ২০১২ সালে লিবডেম-টোরি সরকার এই আইন বাতিল করে। আর উসমান খানের মামলাটি এই আইন বাতিলের আগের।
এদিকে শনিবার সকালে লন্ডন ব্রিজে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। সঙ্গে ছিলেন হোম সেক্রেটারী প্রীতি পাটেল এবং মেট পুলিশ কমিনার ক্রাসিডা ডিক। এ সময় প্রধানমন্তী বলেছেন, উসমান খানের মামলার মধ্য দিয়ে ব্রিটেনের বর্তমান সাজা প্রদানের পদ্ধতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে। অর্ধেক সাজাভোগের পর শর্ত  সাপেক্ষে বিপজ্জনক অপরাধীদের মুক্তি প্রদানের বিষয়টি পর্যালোচনা করা জরুরী বলে উল্লেখ করেন তিনি। অন্যদিকে লেবার লিডার জেরেমি করবিন বলেছেন, উসমান খানের মামলাটির পুনতদন্ত হওয়া জরুরী। তাহলেই জানা যাবে, কিভাবে কি হয়েছে।
এদিকে শুক্রবারের লন্ডনব্রিজের মর্মান্তিক ঘটনার পর শনিবার লন্ডনে সব রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী ক্যাম্পেইন স্থগিত রাখা হয়। তবে রাজনৈতিক দলের নেতারা, হতাহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি পুলিশ এবং এম্বুলেন্স সার্ভিসের প্রসংশা করেছেন।

Related Articles

Back to top button