মতামত

মুক্তিযুদ্ধের ‘ড্রেস রিহার্সাল’ যেন না ভুলি ‘

৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান

।। তোফায়েল আহমেদ।। বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে ‘৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের মতো এত বড় আন্দোলন হয়েছে বলে আমার মনে পড়ে না। ভাষা আন্দোলন, শিক্ষা আন্দোলন এক ভিন্ন প্রেক্ষাপট। কিন্তু ৬ দফা দেওয়ার পরে বঙ্গবন্ধুকে যখন ফাঁসিকাষ্ঠে ঝুলানোর সব পরিকল্পনা আইয়ুব খান গ্রহণ করেছিলেন, তখনই এই আন্দোলন আমরা করেছিলাম। যে আন্দোলনের ফলে আসাদ, মতিউর, মকবুল, রুস্তম, আলমগীরসহ অনেক শহীদের রক্তের বিনিময়ে গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল। কেন জানি না, প্রতি বছরই এই দিনগুলো আমাদের জাতীয় জীবনে ফিরে আসে ঠিকই; কিন্তু যেভাবে এই দিনগুলো স্মরণ করার কথা, সেভাবে আমরা পালন করি না।

এই তো সেদিন আমি জাতীয় জাদুঘরে গিয়েছিলাম। দেখলাম, সেখানে ‘৬৯-এ শহীদ আসাদ, মতিউর, মকবুল, রুস্তম, আলমগীর, এমনকি ১৫ ফেব্রুয়ারি ক্যান্টনমেন্টে শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক, ড. শামসুজ্জোহার ছবি নেই! খুব কষ্ট পেয়েছি। যে কারণে বন্ধু-বান্ধবের সহযোগিতায় আমার জন্মস্থান ভোলার বাংলা বাজারে স্বউদ্যোগে ‘স্বাধীনতা জাদুঘর’ প্রতিষ্ঠা করেছি। যেখানে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, বঙ্গভঙ্গ থেকে শুরু করে ভাষা আন্দোলন, ‘৫৪-এর যুক্তফ্রন্টের নির্বাচন, ‘৬২-এর শিক্ষা আন্দোলন, ‘৬৬-এর ৬ দফা আন্দোলন, ‘৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান এবং ফাঁসির মঞ্চ থেকে জাতির পিতাকে মুক্ত করে ২৩ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে ১০ লক্ষাধিক লোকের সামনে বঙ্গবন্ধুকে কৃতজ্ঞ জাতির পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞচিত্তে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি দেওয়া হয়েছিল; সেসব স্মৃতি সেই জাদুঘরে স্থান পেয়েছে। আমরা একদিন চলে যাব। কিন্তু স্বাধীনতার পূর্বলগ্নে যে আন্দোলন হয়েছিল, যা ছিল মহান মুক্তিযুদ্ধের ড্রেস রিহার্সাল- সেই আন্দোলনটি আমাদের স্মৃতির পাতা থেকে মুছে যাবে, এটা হতে পারে না। সে কারণেই ‘স্বাধীনতা জাদুঘর’ প্রতিষ্ঠা করেছি। কেউ যদি পরিদর্শনে যায় স্বাধীনতার পরিপূর্ণ ইতিহাস এখানে পাবে। এই ডিজিটাল জাদুঘরটি ২০১৮-এর ২৫ জানুয়ারি মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ উদ্বোধন করেন।

বঙ্গবন্ধু যখন ৬ দফা দেন, আমি তখন ইকবাল হলের ভিপি। ইকবাল হলে বসেই ৬ দফার পক্ষে আমরা আন্দোলনের পরিকল্পনা গ্রহণ করি। আমার ৩১৩ নম্বর কক্ষে প্রায়শই থাকতেন শ্রদ্ধেয় নেতা শেখ ফজলুল হক মনি, সিরাজুল আলম খান ও আবদুর রাজ্জাক। ৬ দফা দিয়ে বঙ্গবন্ধু আমাদের বলেছিলেন, ‘সাঁকো দিলাম স্বাধিকার থেকে স্বাধীনতায় উন্নীত হওয়ার জন্য।’ অর্থাৎ এই ৬ দফার সিঁড়ি বেয়ে তিনি স্বাধীনতায় পৌঁছবেন।

৬ দফা দেওয়ার পর বঙ্গবন্ধু দেশব্যাপী ঝটিকা সফর করে ৩২টি জনসভা করেন এবং বিভিন্ন জেলায় বারবার গ্রেপ্তার হন। শেষবার নারায়ণগঞ্জ থেকে সভা করে ঢাকা আসার পর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। বঙ্গবন্ধুকে গ্রেপ্তারের পর ‘৬৬-এর ৭ জুন আমরা সর্বাত্মক হরতাল পালন করেছিলাম। ‘৬৮-এর ১৭ জানুয়ারির শেষ এবং ১৮ জানুয়ারির প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধুকে কারামুক্তি দিয়ে জেলগেটেই আবার গ্রেপ্তার করা হয়। আমরা এই গ্রেপ্তারের বিরুদ্ধে মিছিল করি। আমার সৌভাগ্য, ওইদিনই ডাকসুর ভিপি হয়েছিলাম। কারাগারে বসে বঙ্গবন্ধু চিঠি লিখে বিশ্বস্ত এক কারারক্ষীর মাধ্যমে পাঠিয়েছিলেন। চিঠিতে লিখেছিলেন, ‘স্নেহের তোফায়েল, তুই ডাকসুর ভিপি হয়েছিস, এ কথা শুনে খুব ভালো লেগেছে। বিশ্বাস করি, এবারের এই ডাকসু বাংলার মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করবে।’

‘৬৮-এর ১৯ জুন আগরতলা মামলার বিচার যেদিন শুরু হয়, সেদিন থেকে আমরা জানতাম, আইয়ুব খান বঙ্গবন্ধুকে মৃত্যুদণ্ড দেবে। কারণ স্বৈরশাসক আইয়ুব খান উপলব্ধি করেছিল, সবাইকে বশে আনা যায়; কিন্তু শেখ মুজিবকে বশে আনা যায় না। ‘৬৯-এর ১৭ জানুয়ারি যে আন্দোলন আমরা শুরু করেছিলাম, যে আন্দোলনের ফলে বঙ্গবন্ধু ফাঁসিকাষ্ঠ থেকে মুক্তি লাভ করেন, সেদিন যদি এই আন্দোলন না হতো, সেদিনের শহীদরা যদি জীবন বিলিয়ে না দিত, তাহলে তো আমরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে মুক্ত করতে পারতাম না। বঙ্গবন্ধুর ফাঁসি হলে বাংলাদেশ স্বাধীন হতো না। যে আন্দোলন জাতীয় মুক্তিসংগ্রামের ইতিহাসে এত বড় ভূমিকা পালন করেছে, সে আন্দোলন যখন কম আলোচিত হয়, তখন তা মনোকষ্টের কারণ হয় বৈকি! আমরা জাতির পিতার কাছে কৃতজ্ঞ। যখনই প্রসঙ্গ উঠত, তখনই এমনকি ঐতিহাসিক ৭ মার্চের বক্তৃতায় তিনি ১৯৬৯-এর আইয়ুববিরোধী আন্দোলনের কথা উল্লেখ করেছেন।

‘৬৯-এর ৪ জানুয়ারি ডাকসুসহ ৪টি ছাত্র সংগঠনের সমন্বয়ে ঐতিহাসিক ১১ দফার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘সর্বদলীয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ’। ডাকসু ভিপির কক্ষে বসেই আমরা ১১ দফার ভিত্তিতে গণআন্দোলনের পরিকল্পনা গ্রহণ করি। আজ যখন স্মৃতিকথা লিখছি বারবার মনে পড়ছে ‘৬৯-এর ১১ দফা আন্দোলনের প্রণেতাদের- ছাত্রলীগ সভাপতি প্রয়াত আবদুর রউফ ও সাধারণ সম্পাদক খালেদ মোহাম্মদ আলী; ছাত্র ইউনিয়ন (মতিয়া গ্রুপ) সভাপতি প্রয়াত সাইফউদ্দিন আহমেদ মানিক ও সাধারণ সম্পাদক সামসুদ্দোহা; ছাত্র ইউনিয়ন (মেনন গ্রুপ) সভাপতি মোস্তফা জামাল হায়দার ও সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল্লাহ এবং এনএসএফের একাংশের সভাপতি প্রয়াত ইব্রাহিম খলিল ও সাধারণ সম্পাদক ফখরুল ইসলাম মুন্সীর কথা। এই ছাত্রনেতাদের প্রত্যেকেই ছিলেন খ্যাতিমান ও বড় নেতা। আমি ডাকসুর ভিপি হিসেবে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ও মুখপাত্রের দায়িত্ব পালন করি; সঙ্গে ছিলেন ডাকসুর জিএস নাজিম কামরান চৌধুরী।

‘৬৯-এর ১৭ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কলাভবনের বটতলায় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের প্রথম সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে ১৪৪ ধারা জারি। সভাপতি হিসেবে আমার দায়িত্ব ছিল সিদ্ধান্ত দেওয়ার। ১৪৪ ধারা ভঙ্গের সিদ্ধান্ত জানিয়ে মিছিল নিয়ে রাজপথে এলাম। পুলিশ বাহিনী ক্ষিপ্রগতিতে আমাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। ছাত্রলীগের সভাপতি আবদুর রউফ ঘটনাস্থলে আহত হন। পরদিন ১৮ জানুয়ারি পুলিশি নির্যাতনের প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সফল ছাত্র ধর্মঘট পালিত হয়। ১৯ জানুয়ারি রোববার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকলেও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় খোলা ছিল। আমরা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মিছিল শুরু করি, পুলিশ গুলি চালায়। গুলিবিদ্ধ হয়ে লুটিয়ে পড়ল ছাত্রলীগের কর্মী আসাদুল হক। তাৎক্ষণিকভাবে পরদিন বটতলায় সমাবেশের কর্মসূচি দিই। ২০ জানুয়ারি সভাপতির আসন থেকে বিস্ময়ের সঙ্গে লক্ষ্য করি, বটতলার পরিসর যেন জনসমুদ্র। ১৪৪ ধারা ভঙ্গের ঘোষণা দিয়ে বলি, ‘যতদিন শেখ মুজিবসহ সব রাজবন্দিকে মুক্ত করতে না পারব, ততদিন আন্দোলন চলবে। স্বৈরশাসক আইয়ুব-মোনায়েম শাহির পতন না ঘটিয়ে বাংলার ছাত্রসমাজ ঘরে ফিরবে না।’ মুহূর্তে ফুঁসে উঠল জনতা। কোথায় গেল ১৪৪ ধারা! লাখো মানুষের ঢল রাজপথে। আমাদের মিছিল যখন আগের কলাভবন, বর্তমান মেডিকেল কলেজের সামনে, তখন খালেদ মোহাম্মদ আলী, আসাদুজ্জামান ও আমি একসঙ্গে ছিলাম। গুলি আসাদুজ্জামানের বুকে বিদ্ধ হয়। আমি আর খালেদ আসাদকে মেডিকেল কলেজে নেওয়ার পথে আমাদের হাতের ওপরেই তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। একজন শহীদের শেষ নিঃশ্বাসটি আমি স্পষ্ট শুনতে পাই। শহীদ মিনার চত্বরের সমাবেশে শহীদ আসাদের রক্তাক্ত শার্ট সামনে রেখে বলি, ‘আসাদের এই রক্ত আমরা বৃথা যেতে দেব না।’ শহীদ মিনার থেকে শোক মিছিল নিয়ে পল্টনে গিয়ে ২১ জানুয়ারি অর্ধদিবস হরতাল ও পল্টনে সমাবেশ ঘোষণা করি।

২১ জানুয়ারি পূর্বঘোষিত হরতালের কর্মসূচি পালনকালে চারদিক থেকে স্রোতের মতো মানুষের ঢল নামে পল্টন ময়দানে। মাইক, মঞ্চ কিছুই ছিল না। পল্টনে চারাগাছের ইটের বেষ্টনীর ওপর দাঁড়িয়ে আমাকে বক্তব্য রাখতে হয়। বক্তৃতার পর ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের পক্ষে তিন দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করি :২২ জানুয়ারি শোক মিছিল, কালো ব্যাজ ধারণ, কালো পতাকা উত্তোলন। ২৩ জানুয়ারি সন্ধ্যায় মশাল মিছিল, পরে কালো পতাকাসহ শোক মিছিল। ২৪ জানুয়ারি দুপুর ২টা পর্যন্ত হরতাল।

২৪ জানুয়ারি হরতাল চলাকালে একজন মন্ত্রীর বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা। কিছুক্ষণের মধ্যে ইপিআর ও পুলিশ যত্রতত্র গুলি চালাতে থাকে। সে গুলিতেই নিহত হয়ে শহীদদের তালিকায় যুক্ত হয় মতিউর, মকবুল, আনোয়ার, রুস্তম, মিলন, আলমগীরসহ আরও অনেক নাম। ঢাকার নবকুমার ইনস্টিটিউটের দশম শ্রেণির ছাত্র মতিউর রহমানের পকেটে এক টুকরো কাগজে নাম-ঠিকানাসহ লেখা ছিল। কারফিউর মধ্যে আমরা মতিউরের লাশ নিয়ে গেলাম ন্যাশনাল ব্যাংক কলোনিতে। মতিউরের মা আঁচলে চোখ মুছে বললেন, ‘মনে রেখো, যে জন্য আমার ছেলে রক্ত দিয়েছে, সেই রক্ত যেন বৃথা না যায়।’ শহীদ মতিউরের আত্মত্যাগ আমরা বৃথা যেতে দিইনি।

‘৬৯-এর ২৪ জানুয়ারি প্রবল গণআন্দোলন-গণবিস্টেম্ফারণের মধ্য দিয়ে ঢাকা নগরীর মানুষ রাজপথে নেমে এসে গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত করল। বাংলাদেশে বহু আন্দোলন হয়েছে। কিন্তু ১৭ থেকে ২৪ জানুয়ারি মাত্র ৭ দিনের মধ্যে নিরস্ত্র বাঙালি জাতি এক কাতারে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ঐতিহাসিক যে গণঅভ্যুত্থান সৃষ্টি করেছিল, তার তুলনা আজও কঠিন। ২১ ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবসে পল্টনের মহাসমুদ্রে প্রিয় নেতা শেখ মুজিবসহ আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় আটক সবার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম প্রদান করি। সমগ্র দেশ গণবিস্টেম্ফারণে প্রকম্পিত হয়। জনরোষের ভয়ে ২২ ফেব্রুয়ারি আইয়ুব খান সব রাজবন্দিকে বিনাশর্তে মুক্তি দিলে দেশজুড়ে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়।

২০২০ সাল জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী। ১০ জানুয়ারি থেকে ক্ষণগণনা শুরু হয়েছে। ‘মুজিববর্ষ’ পালন উপলক্ষে বঙ্গবন্ধুর জীবনে প্রতিটি অধ্যায় যথাযথ মর্যাদায় ঐতিহাসিকভাবে তুলে ধরা জরুরি। একদা ইতিহাস বিকৃত করার অপচেষ্টা হয়েছিল। আগামীতে কেউ যাতে ইতিহাস বিকৃতি করতে না পারে, সে জন্য ‘৪৮ ও ‘৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ‘৫৪-এর যুক্তফ্রন্টের নির্বাচন, ‘৬২-এর শিক্ষা আন্দোলন, ‘৬৬-এর ৬ দফা আন্দোলন, ‘৬৯-এর ১১ দফা আন্দোলন, ‘৭০-এর নির্বাচন এবং ‘৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধে ১৬ ডিসেম্বর বিজয় অর্জন, ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতার পরিপূর্ণতা- সব বিষয় আমাদের জাতীয় মুক্তির ইতিহাসে যথাযথ গুরুত্ব সহকারে উল্লেখ থাকা প্রয়োজন।

২০ জানুয়ারি আসাদের রক্তের মধ্য দিয়ে যে আন্দোলন রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল, সে আন্দোলনের সফল পরিণতি- বঙ্গবন্ধুকে ফাঁসি দেওয়ার আইয়ুব খানের ষাড়যন্ত্রিক পরিকল্পনাকে বানচাল করে ‘৬৯-এর ২২ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধুকে নিঃশর্তভাবে ফাঁসির মঞ্চ থেকে মুক্ত করে ২৩ ফেব্রুয়ারি ১০ লক্ষাধিক লোকের বিশাল জনসমুদ্রে গণসংবর্ধনা দিয়ে বাঙালি জাতি কৃতজ্ঞচিত্তে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করেছিল। সেই সভায় দাঁড়িয়ে জনসমুদ্রের উদ্দেশে স্বভাবসুলভ কণ্ঠে কৃতজ্ঞচিত্তে তিনি বলেছিলেন, ‘ভাইয়েরা আমার, তোমরা যারা রক্ত দিয়ে জীবন দিয়ে আমাকে কারাগার থেকে মুক্ত করেছো, যদি কোনদিন পারি নিজের রক্ত দিয়ে আমি সেই রক্তের ঋণ শোধ করে যাবো।’ তিনি একা রক্ত দেননি, ‘৭৫-এর ১৫ আগস্ট সপরিবারে রক্ত দিয়ে বাঙালি জাতির রক্তের ঋণ তিনি শোধ করে গেছেন। সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ও কর্মসূচি নিয়ে জাতির পিতা সংগ্রামের পথে এগিয়ে ছিলেন। তাঁর দুটি লক্ষ্য ছিল-এক. বাংলাদেশের স্বাধীনতা; দুই. ক্ষুধামুক্ত-দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা কায়েম করা। একটি তিনি সফলভাবে সমাপ্ত করেছেন। দ্বিতীয়টি তাঁরই সুযোগ্যকন্যা শেখ হাসিনা বাংলার মানুষের গণরায় নিয়ে চতুর্থবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হয়ে দক্ষতা, সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে বাস্তবায়ন করে চলেছেন। আজ ভাবতে ভালো লাগে, জাতীয় মুক্তিসংগ্রামের যে রক্তঝরা পথ ধরে আজকের এই স্বাধীন ও সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ, সেসব কিছু অর্জনের ড্রেস রিহার্সাল ‘৬৯-এর মহান গণঅভ্যুত্থান, যা ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা আছে এবং থাকবে চিরদিন।

আওয়ামী লীগ নেতা; সংসদ সদস্য; সভাপতি, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি, জাতীয় সংসদ

Related Articles

Back to top button