সাহিত্য

একুশের বই মেলায় আসছে প্রবাসী কবি সৈয়দ এনাম আহমেদের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘এক বিন্দু ভালোবাসার টানে’

ব্রিটবাংলা ডেস্ক : যুক্তরাজ্য প্রবাসী কবি এবং বার্কিং অ্যান্ড ড্যাগেনহ্যাম কাউন্সিলের সাবেক কাউন্সিলর সৈয়দ এনাম আহমেদের দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘এক বিন্দু ভালোবাসার টানে’ প্রকাশিত হচ্ছে অমর একুশের বইমেলায়।

বাবুই প্রকাশনী থেকে মোরশেদ আলম হৃদয় গ্রন্থটি প্রকাশ করেছেন। প্রচ্ছদ এঁকেছেন মাহমুদুর রহমান। গ্রন্থটির মুল্য ধরা হয়েছে ১৬০ টাকা। কবি সৈয়দ এনাম আহমেদের লেখা সর্বমোট ৫৬টি কবিতা স্থান পেয়েছে গ্রন্থটিতে। মেলার প্রথম দিন থেকে ৩২৩ নম্বর স্টলে গ্রন্থটি পাওয়া যাবে।

কবি পরিচিতি :

সৈয়দ এনাম আহমেদ। ডাক নাম উজ্জ্বল। জন্ম ১৯৭৯ সালে হবিগঞ্জ জেলা শহরের অদূরবর্তী দিগল বাগ গ্রামের ফকির হাটিতে। পিতার নাম সৈয়দ মোস্তফা আহমেদ এবং মাতার নাম শাহিনা আহমেদ। নানাবাড়ি বাহুবল উপজেলার মুগকান্দি গ্রামে। শৈশব ও কৈশোর কাটে মাধবপুর উপজেলার জগদীশপুর চা বাগানে। বর্তমানে কবি লন্ডনে বসবাস করছেন।

কবির লেখালেখি শুরু বাংলাদেশে নব্বই দশকের শুরুর দিক থেকে। ছাত্র জীবনে এক সময় নিয়মিত কবিতা লিখতেন ছোট কাগজ, স্থানীয় এবং জাতীয় পত্রিকাতে। পাশাপাশি ছিল সাংবাদিকতাও। সর্বপ্রথম প্রকাশনায় হাতেখড়ি ১৯৯৮ সালে শহরের স্বর্ণালী ক্লাবের সাহিত্য সংকলন ‘স্বর্ণালী’ সম্পাদনার মধ্য দিয়ে। তিনি হবিগঞ্জ সরকারী বৃন্দাবন কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রী সম্পন্ন করেন। সেখানে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক কর্মকান্ডে। কলেজের ছাত্রছাত্রী ও বন্ধু-বান্ধবদের নিয়ে গড়ে তুলেছিলেন ‘কথক ক্যাম্পাস থিয়েটার’ নামক একটি সংগঠন। ১৯৯৯ সালে সম্পাদনা করেন কথক সাহিত্য প্রকাশনা ‘বহ্নি’’। নিয়মিত সম্পাদনা করতেন কলেজের পাক্ষিক দেয়াল পত্রিকা ‘দেয়ালিকা’। এছাড়াও, হবিগঞ্জে বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র’র বইপড়া কর্মসূচী, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, প্রথম আলো বন্ধুসভা, খেয়া থিয়েটারসহ আরও অনেক সংগঠনের সাথে জড়িত ছিলেন কবি।

২০০৩ সালে ঢাকা কলেজে বাংলায় স্নাতকোত্তর পড়াকালীন সময়ে কবি পাড়ি জমান যুক্তরাজ্যে। লেখাপড়া ও কর্মব্যস্ততায় বেশ কিছুদিন থেমেছিল লেখালেখি। অনিয়মিত ভাবে লিখেছেন লন্ডন ও বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত বিভিন্ন বাংলা পত্রিকা, বই ও সাহিত্যের কাগজে। লেখালেখি প্রকাশনার মাঝে নওরোজ সাহিত্য সম্ভার (নসাস) থেকে সংযোজনের গল্প সংকলন ‘রুষ্টরুদ্রের প্রলয়ভ্রুকুঞ্চন’ (২০০৪), কবিতা সংকলনে অতিথি প্রকাশনীর‘কাব্যস্নান’ (২০০৫) ও প্রবাস প্রকাশনীর ‘তৃতীয় বাংলার কবিতা’ (২০০৫), এবং ছোট কাগজ ‘ভূমিজ’, ও ‘শব্দপাঠ’ উল্লেখযোগ্য।

কবি লন্ডন মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি থেকে আইন ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক (এল এল বি ল’ উইথ ইন্টারন্যাশনাল রিলেশন্স) বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রী (২০১৫) এবং লিগ্যাল প্র্যাকটিস কোর্স (এল পি সি) বা সলিসিটার্স ট্রেনিং কোর্স (২০১৭) এর উপর স্নাতকোত্তর ডিপ্লোমা অর্জন করেন। একই ইউনিভার্সিটিতে তিনি ছাত্র সংসদে নির্বাচিত হয়েছিলেন, এবং চাকুরীও করেছিলেন কিছুদিন। পরবর্তীতে, কুইন মেরি ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন থেকে হিউম্যান রাইটস ল’র উপর মাস্টার অব ল’স (এল এল এম) (২০১৯) সম্পন্ন করেন।

কবিতা লেখার পাশাপাশি রাজনীতিতেও সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন তিনি। ২০১৩ সালে প্রথম বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন লন্ডনের বার্কিং অ্যান্ড ড্যাগেনহাম কাউন্সিলে। পরপর দু’বার নির্বাচিত হবার পর ২০১৮ সালে নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে চাকুরিতে মনোনিবেশ করেন।

সময় পেলে কবি দৌড়াতেও ভালোবাসেন। লন্ডন ম্যারাথন, ব্রাইটন ম্যারাথন, রয়্যাল পার্ক হাফ ম্যারাথনসহ অনেক প্রতিযোগিতায় তিনি দৌড়েছেন। দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে লন্ডনস্থ বিভিন্ন চ্যারিটি সংগঠনের জন্য মাঝে মাঝে অর্থ সংগ্রহও করেন।

কবির প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘ভালোবাসাহীন যায় লাম্পট্য’র সারাদিন’ প্রকাশিত হয় ২০০০ সালের একুশে বইমেলায়, বিশাকা প্রকাশনী থেকে। তখন ব্যাপক সারা জাগিয়ে ছিল কাব্যগ্রন্থটি। সুদীর্ঘ বিশবছর পর প্রকাশিত এই দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘এক বিন্দু ভালোবাসার টানে’, যার প্রতিটি কবিতা অতীতে বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকা ও সাহিত্য সংকলনে প্রকাশিত হয়েছে।

Related Articles

Back to top button