ইউরোপে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দিল রাশিয়া!

ইউরোপে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে রাশিয়া। তবে গ্যাস সরবরাহ বন্ধে দেশটি পাইপলাইনের যন্ত্রাংশ মেরামত করাকে অজুহাত হিসেবে উল্লেখ করেছে।সোমবার (১১ জুলাই) সকাল থেকে ইউরোপে গ্যাস সরবরাহের মূল পাইপলাইন নর্ড স্ট্রিম-১ পাইপলাইন দিয়ে আর গ্যাস প্রবাহ করা হচ্ছে না বলে খবর দিয়েছে রুশ সংবাদমাধ্যম আরটি।নর্ড স্ট্রিম এর ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ১০ দিন পাইপলাইনে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চলবে। যতদিন এই রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চলবে, ততদিন এ পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে। তবে আশঙ্কা করা হচ্ছে ইউক্রেনকে অস্ত্র সরবরাহ করার কারণে দীর্ঘদিন পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখতে পারে রাশিয়া।এর আগে নেদারল্যান্ডের জ্বালানি মন্ত্রী রব ইয়েত্তেন বলেছিলেন, নর্ড স্ট্রিমের গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেলে এর প্রভাব পুরো উত্তর-পশ্চিম ইউরোপে পড়বে। রাশিয়া থেকে ইউরোপের অন্যান্য দেশে গ্যাস পাঠানোর জন্য আরও বড় কিছু পাইপলাইন রয়েছে, তবে সেগুলোতেও ধারাবাহিকভাবে গ্যাসের প্রবাহ কমছে।

বাল্টিক সমুদ্রের নিচ দিয়ে নর্ড স্ট্রিম ১ পাইপলাইনের মাধ্যমে বছরে ৫৫ বিলিয়ন ঘন মিটার (বিসিএম) গ্যাস রাশিয়া থেক জার্মানিতে প্রবাহিত হয়। এই পাইপলাইন দিয়ে ইউরোপের অন্যান্য দেশেও গ্যাস যায়।গত মাসে রাশিয়া নর্ড স্ট্রিমের মোট সক্ষমতার ৪০ শতাংশ প্রবাহ কমিয়ে দেয়। কারণ হিসেবে তারা জানায়, পাইপলাইনের একটি যন্ত্রাংশ বিকল হয়ে যাওয়ায় সেটি মেরামতের জন্য জার্মান সংস্থা সিমেনস এর কানাডা কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে, যেটি এখনও মেরামত হয়ে ফিরে আসেনি।অন্যদিকে কানাডা জানিয়েছে, মেরামত করা টারবাইনটি তারা ফিরিয়ে দেবে। একই সঙ্গে তারা জানায় রাশিয়ার জ্বালানি খাতের নিষেধাজ্ঞা আরও বাড়াবে।ইউরোপের দেশগুলোর আশঙ্কা, রাশিয়া রক্ষণাবেক্ষণের সময়সীমাকে দীর্ঘায়িত করবে, যাতে ইউরোপের গ্যাস সরবরাহ আরও বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। ফলে আসন্ন শীত মৌসুমে গ্যাসের সংরক্ষণের পরিকল্পনায় বিঘ্ন ঘটবে এবং ইতোমধ্যে চলতে থাকা গ্যাস সঙ্কট আরও ঘনীভূত হবে।জার্মান অর্থমন্ত্রী রবার্ট হাবেক দাবি করেন, রাশিয়ানরা সংস্কারের অজুহাত তুলে দীর্ঘ সময় ধরে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখতে পারে।রাশিয়া থেকে গ্যাসের প্রবাহ থেমে গেলে জার্মানির অর্থনীতিতে মন্দা দেখা দিতে পারে। বাভারিয়া রাজ্যের ভিবিডব্লিউ ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন থেকে পাওয়া তথ্য মতে, গ্যাস না পাওয়া গেলে জার্মানির অর্থনীতিতে বছরের দ্বিতীয়ার্ধে ১৯৫ বিলিয়ন ডলারের (১৯৩ বিলিয়ন ইউরো) সমপরিমাণ ক্ষতি হতে পারে।

Advertisement