ইট আউট-হেল্প আউট স্কীমে প্রাণ ফিরে পেয়েছে নর্থাম্পটনশায়ারের কারি ইন্ডাষ্ট্রি

এহসানুল ইসলাম চৌধুরী শামীম ॥ করোনা ভাইরাসের বৈশ্বিক মহামারিতে ব্রিটিশ কারি ইন্ডাস্ট্রিতে খুব খারাপ সময় যাচ্ছে। এই সংকটকালীন সময় কাটিয়ে উঠার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ইট আউট টু হেল্প আউট স্কীম চালু করা হয়েছে। এতে করে ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি সাধারন জনগন ও উপকৃত হচ্ছেন।
স্কীম অনুযায়ী প্রত্যেক ব্যক্তি দশ পাউন্ড পর্যন্ত ছাড় পাচ্ছেন।এতে করে দেখা গেলো পরিবারের সকলেই মিলে রেষ্টুরেন্ট অথবা ফার্স্ট ফুড রেস্টুরেন্টে খেতে গেলে একটি ভালো পরিমান অর্থের ছাড় পাচ্ছেন। যার দরুন মানুষের মধ্যে বাইরে খাওয়ার প্রবনতা বেড়ে গেছে। সরকার সোম বার থেকে বুধবার এই তিন দিন ছাড় দেওয়াতে রেষ্টুরেন্টগুলোতে উপচে পড়া ভীড় লক্ষ করা যায়।


সাধারনত রেস্টুরেন্টগুলোতে শুক্র ও শনিবার ভীড় হওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু ইট আউট হেল্প আউটের স্কীম ঘোষণার পর সোম থেকে বুধবার আগের তুলনায় কাস্টমারের সংখ্যা খুব বেশী বেড়েছে। অন্যান্য দিন এমনকি শুক্রবার ও শনিবার ভালো ব্যবসা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ীরা। রেষ্টুরেন্ট ব্যবসয়ায় জড়িত ব্যবসায়ী সরকারের এই স্কীম থেকে লাভভান হওয়ার সাথে সাথে কারী ইন্ডাস্ট্রিকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করার চেষ্টা করছেন।
নর্থাম্পটনের তামারিনড রেষ্টুরেন্টের মালিক, সেলিব্রেটি সেফ টিপু রহমান বলেন, “আমরা খুব ভালো ব্যবসা করে যাচ্ছি। সব সময় ফুল বুকিং থাকে। উপচে পড় ভীড় থাকার কারনে আমরা অনেককে খাওয়ার জায়গা দিতে পরছি না।”

রাসডেনের হায়াম পেরিস এলাকার স্পিপাইস লাউঞ্জ রেষ্টুরেন্টের মালিক মনসুর আহমদ বলেন, “ইট আউট টু হেল্প আউট স্কীম সরকারের সময় উপযোগী উদ্যোগ। প্যানডামিকে রেষ্টুরেন্টে সহ সব ধরনের ব্যবসা ধস নেমে এসেছিলো। সরকারের এ স্কিম চালুর ফলে সব ধরনের ব্যবসায় আবারও প্রানের সঞ্চালন গঠেছে। এর মাধ্যমে জনগন ও ব্যবসায়ীরা উপকৃত হবেন বলে মনে করি।“

ওয়েলিংবরা রোডের কবাবিস গ্রিল হাউসের শেফ সোহেল আহমদ বলেন, “ সরকার সোম, মংগল ও বুধবার যে স্কিম চালু করেছে সে কারনে আমরা খুব ভালো ব্যবসা করছি।আমরা সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখতে গিয়ে মানুষরে জায়গা দিতে পারছি না। আমরা যদি সব সময় ভালো খাবার দিতে পারি তাহলে এ স্কিম শেষ হলও আমরা ভালো ব্যবসা করতে পারবো ইনশাআল্লাহ।”
রতওয়েল এর টেস্ট অফ ইন্ডিয়া রেষ্টুরেন্টে র মালিক মুসা খান বলেন, “সোম বার থেকে বুধ বার আমরা খুব ভালো ব্যবসা করছি। কিন্ত শুক্র ও শনি বার ভালো ব্যবসা করতে পারছি না।
ভুজন রসিক বাঙালী সহ সকলেই নিজ ঘরে হউক অথবা রেষ্টুরেন্টে হউক খেতে ভালো বাসেন। সরকারের ইট আউট টু হেল্প আউট স্কীমে বিশেষ ছাড় থাকায় সকলেই বিভিন্ন রেষ্টুরেন্টে গুলিতে খেতে যাচ্ছেন। এতে করে করোনা মহামারী কালীন সময়ে মৃত প্রায় রেষ্টুরেন্টগুলো আবারও জীবন পেতে শুরু করছে। ব্রিটেনের কারি ইন্ডাস্ট্রি এই দুর্যোগে সরকারের এই স্কীমের কারনে অর্থনৈতিক চাকা সচলের সাথে সাথে নিজেদের অবস্থানও সুদৃঢ করার সুযোগ এনে দিয়েছে ব্যবসায়ীদের।

Advertisement