উইন্ডরাশ ক্যালেঙ্কারী : হোম অফিসের ইউটার্নে আশার আলো ছড়াচ্ছে

ব্রিটবাংলা রিপোর্ট : উইন্ডরাশ জেনারেশন নিয়ে বিপাকে পড়ার পর ইমিগ্রেশন নীতিতে কিছুটা নমনীয় হতে শুরু করেছে হোম অফিস। উইন্ডরাশ ক্যালেঙ্কারীর পর অবৈধ ইমিগ্র্যান্ট ধরার লক্ষ্যে পূর্ব ঘোষিত প্রায় ৭০ মিলিয়ন ব্যাংক একাউন্ট পরীক্ষা-নীরিক্ষার পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছেন নতুন হোম সেক্রেটারী সাজিদ জাভিদ। এছাড়াও উইন্ডরাশ জেনারেশনের সিটিজেনশীপ আবেদন ফাস্ট ট্র্যাকে এবং ফ্রিতে করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
এদিকে ১০ বছরের বেশি সময় ধরে ইউকেতে থাকা ইলিগ্যাল ইমিগ্র্যান্টদের এমনেস্টি এবং কঠোর ইমিগ্রেশন নীতি পরিবর্তনের দাবীতে পৃথক দুটি অনলাইন পিটিশনে স্বাক্ষর সংগ্রহ করা হচ্ছে। সংশ্লিস্টরা মনে করছেন, বিভিন্ন কমিউনিটি এবং প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে স্বতস্ফুর্ত চাপ প্রয়োগ করলে নড়তে পারে হোম অফিস।


গত এপ্রিলে কমনওয়েলথ সামিত না হলে হয়তো হোম অফিসের উইন্ডরাশ জেনারেশন ক্যালেঙ্কারীর ঘটনা আড়ালেই থেকে যেতে। ইমিগ্র্যান্ট কমিউনিটির সঙ্গে বর্তমান সরকারের চরম বৈরিতার এই গোপন বিষয়টি ধরা পড়ার পর কিছুটা ইউটার্ন করেছে হোম অফিস। বৃহস্পতিবার উইন্ডরাশ জেনারেশনের সিটিজেনশীপ আবেদন ফাস্ট ট্র্যাকে এবং ফ্রিতে করার ঘোষণা দেন হোম সেক্রেটারী। তারো আগে ইলিগ্যাল মাইগ্র্যান্ট ধরার জন্যে প্রায় ৭০ মিলিয়ন কারেন্ট একাউন্ট চেক করার পরিকল্পনা থেকেও সরে আসার ঘোষণা দেন নতুন হোম সেক্রেটার সাজিদ জাভিদ। সাবেক ২০১৬ সালের ইমিগ্রেশন আইনে জিপি এবং ব্যাংক ম্যানেজারদের উপর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, ইলিগ্যালদের ধরার।

এদিকে ইমিগ্রেশন নীতি নিয়ে বর্তমান সরকারের ভেতরেই ভিন্ন মত রয়েছে। দশ বছরের বেশি সময় ধরে যারা ইউকেতে ইলিগ্যাল হিসেবে রয়েছে, যাদের কোনো ধরনের অপরাধের সঙ্গে কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই, তাদেরকে এমনেস্টি দেওয়ার পক্ষে বিভিন্ন সময় কথা বলেছেন বর্তমান ফরেন সেক্রেটারী বরিস জনসন। একই দাবীতে একটি অনলাইন পিটিশনেও স্বাক্ষর সংগ্রহ করা হচ্ছে। অন্যদিকে ব্রিটিশ বাংলাদেশী কারী শিল্পকে রক্ষার তাগিদে কঠোর ইমিগ্রেশন নীতি পরিবর্তনের দাবীতেও একটি অনলাইন পিটিশনে স্বাক্ষর সংগ্রহ চলছে। এই ক্যাম্পেইনটি শুরু করেছে বাংলাদেশ ক্যাটারার্স এসোসিয়েশন সংক্ষেপে বিসিএ। ব্রিটিশ বাংলাদেশী কারি ইন্ড্রাষ্ট্রি বর্তমানে চরম সংকটে আছে। এই সংকটের অন্যতম একটি কারণ হল বর্তমান সরকারের কঠোর ইমিগ্রেশন নীতি। তাই এই পিটিশনে যতো বেশি স্বাক্ষর হবে ততো বেশি লাভ হবে কারি শিল্পের। যেহেতে হোম অফিস এখনো একটু চাপের মধ্যে আছে এবং ব্রেক্সিটে পরে কমনওলেথ ভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গেই ব্রিটেন আবার সখ্যতা গড়ার চেষ্টা করবে তাই এই দুটি পিটিশনেই স্বাক্ষর করার সবার দায়িত্ব এবং কর্তব্য বলেও মনে করা হচ্ছে।


উল্লেখ্য ২০১০ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ইমিগ্যান্ট কমিউনিটির প্রতি হোস্টাইল পলিসি আরোপ শুরু করে টোরি সরকার। ভেনে বোর্ড টানিয়ে ইলিগ্যাল মাইগ্র্যান্টদের ইউকে ত্যাগের আহ্বান, ইলিগ্যাল ইমিগ্র্যান্টকে জায়গা দিলে বা কাজ দিলে ল্যান্ডলর্ডের উপর জরিমানা আরোপ, ইলিগ্যাল ইমিগ্র্যান্ট ধরার জন্যে জিপি এবং ব্যাংকারদের কাজে লাগানোর পরিকল্পনা সবই হয়েছে এই টোরি সরকারের আমলে। আর বর্তমান হোম সেক্রেটারী সাজিদ জাভিদ এবং সদ্য পদত্যাগি হোম সেক্রেটারী এম্বার রাডের আগে সেই ২০১০ সাল থেকে টোরির হোম সেক্রেটারী ছিলেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী থেরিজা মে। প্রধানমন্ত্রী থেরিজা হোম সেক্রেটারী থাকা অবস্থায় প্রায় ৫৮ হাজার নন-ইউ স্টুডেন্টকে স্বদেশে ফেরত পাঠানো হয় টোয়িক ইস্যুতে। পরবর্তীতে আদালতে এই সিদ্ধান্তটিও বারবার ভুল প্রমাণিত হয়েছে।

Advertisement