আহাদ চৌধুরী বাবু

প্রত্যেক প্রাণী মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে
 আল্লাহ্ তা’লা বলেন, ” কুল্লু নাফসিন যাইক্বাতুল মাউত” প্রত্যেক প্রাণী মৃত্যু স্বাদ আস্বাদন করবে। সুরা আলে ইমরান, আয়াত ১৮৫। মরণ ব্যাধি করোনার একচেটিয়া আগ্রাসী থাবায় বিধস্ত গোটা পৃথিবী ! পৃথিবীটা যেনো লাইফ সার্পোট মিশিনে ।

আজ তেইশে এপ্রিল, বৃহশপতিবার আমার নানী শাশুড়ীর দাফন কাজে অংশ নিলাম একটি নতুন অভিজ্ঞতা নিয়ে ফিরে লিখাটি ।

তিনি মারা যান মঙ্গলবার ! যদিও ব্রেইন ষ্টোকে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন l মাত্র একদিন আগে জানানো হয় তিনি মাইনর করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত এর পরের দিনই মৃত্যু বরণ করেন l পারিবারিক সিদ্ধান্তে আমার উপর দায়িত্বপড়ে ফিউনারেল এর ব্যবস্থা করার জন্য মহান আল্লাহর হাজারো শুকরিয়া এই কঠিন সময়ে সবার সাথে সমন্বয় করে ঘর থেকে উত্তম কাজটি করা সম্ভব হয়েছে l এবং এই কঠিন মূহুর্তে যার কারনে সহজ হয়েছে তিনি হলেন পূর্ব লন্ডনের ব্রিকলেইন ফিউনারেল সেন্টারের ডাইরেক্টার বন্ধু বড়ভাই পারভেজ কোরেশী ।

বিশেষ করে যিনি মৃত্যুবরণ করেছেন তিনি ওল্ডাহাম এর বাসিন্দা যদিও তিনি মারাযান লন্ডনে

তাই কবর দেওয়ার ক্ষেত্রে বাধ্যবাদকতা ছিলো।

ব্রিকলেইন ফিউনারেল সার্ভিস সর্বোচ্চ সেবা দিয়ে সবকিছূ সম্পাদন করে l সকাল নয়টায় গার্ডেন অব পিচ হেনল্ট্ এ পৌঁচে পূর্বের দেওয়া পাচ জনের লিষ্ট অনুসারে আমাদের প্রবেশ করতে দেওয়া হলো।

কয়েক মিনিটের অপেক্ষার পর গাড়ী করে লাশ নিয়ে যাওয়া হলো কবরের কাছাকছি ! আরো কয়েকটি লাশের দাফন চলছিলো !

গাইড বাধ্যবাদকতা গুলো বললেন। লাশের কফিনটি সামনে রাখা হলো। একজন ইমাম আসলেন জানাযার নিয়ম কানুন বললেন ।

আমরা উপস্থিত পরিবারের প্রতিনিধি সহ দায়িত্বরত কৰ্মকৰ্তা সহ দশ থেকে বারোজন দাঁড়ালাম তিনজন করে নামাজে জানাজাতে ।

জানাজা শেষে কবরস্থ করার জন্য কফিন থেকে লাশ বাহির করে দায়িত্বরতরা দশ মিনিটের মধ্যেই দাফন কাজটি শেষ করলেন ।

আমরা নিরব স্বাক্ষী পাচজন দুরে অবস্থান করছি ! দোয়া দুরুদ্ করা হলো ।

কিছুক্ষণ কবরের পাশে দাঁড়ালাম চারিদিকে নতুন কবর সারী সারী প্রায় কবর গত দুইতিন দিনের !

সবাই করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করেছেন। যদি সুযোগ না হতো যাওয়ার জানতামনা করোনার নির্দয় আচরনের সাক্ষী হয়ে ভূমিতে স্বজনদের কাঁদিয়ে চলে যাওয়া মানুষ গুলোর কথা যারা শেষ সময়ে বঞ্চিত ছিলেন এতো মায়ার পরিবারের মমতা থেকে ।

কবরের পাশে দাঁড়িয়ে চিন্তা করলাম সময়ের কাছে আমরা কতো অসহায় ! একটি ভাইরাসের কারণে নি্জেকে রক্ষার জন্য অনেকে গর্ভধারিণী মায়ের শেষ গোসলে ও অংশ নিতে পারবেননা।

কফিনে রাখা সাদা কাপড়ে ঢাকা মুখটিও শেষ বারের মতন দেখার ইচ্ছাটিও আজ মৃত !

করোনার দখলে সব ! কতোটুকু অসহায় আমরা আগে বিয়েতে ছিলো অতিথী নিয়ণ্ত্রন আইন l মসজিদ বা জানাযায় ও ছিলোনা সংখ্যার বিচার ।

মৃত্যুপুরীতে দাঁড়িয়ে ভাবছি আমাদের ক্ষমতার এবং বাহাদুরীর কথা ।

চিন্তা করছিলাম আপন মনে আমি এক অপরাধী কতোটুকু স্পর্ধা রাখি অন্ধকার কবরের পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার ।

পাপ আর দুঃখবোধ গুলো যখন তাড়িত করছে মনে হলো চল্লিশ কদম হাঁটার দূরত্বটা অনেক সময়ের l

অথচ আমাদের বাহাদুরী জীবনের প্রয়োজন মেটাতে মিথ্যাকে আলিঙ্গন করে জীবনের রঙ্গশালায় বেহুঁশ।

পার্থক্য শুধু এসেছি ধরণীতে কাপড়হীন !অথচ ফিরে যেতে হবে  এক টুকরো সাদা কাপড় নিয়ে

লেখক :আহাদ চৌধুরী বাবু  নির্বাহী সম্পাদক ব্রিট বাংলা 

Advertisement