শুরুতেই বলি প্রচলিত কথা – কান নিয়ে গেল চিলে
ভালমত সেটা গাঁথিয়া গিয়াছে হুজুগে বাঙালি দিলে
নিজেতে বাঁচিলে পিতাশ্রীর নাম বুঝে সেটা ষোলআনা
চাচা হে আপন পরান বাঁচাও প্রিয় সে প্রবাদখানা।
সোজা আঙুলেতে ঘৃত না উঠিলে আঙুলটা করে বাঁকা
কারো পৌষ মাসে কারো সব নাশে ঘুরাবে লাভের চাকা।
নাচ না পারিলে উঠানই যে বাঁকা, অযুহাতে তারা বলে,
উদোর পিন্ডি বুদোর ঘাড়েই ফেলার নীতিতে চলে।
খাজনার চেয়ে বাজনা বেশি ও গরীবের ঘোড়া রোগ
হলেও, করার নাই কারো কিছু, যতই ঝামেলা হোক।
লবন আনিতে পান্তা ফুড়ালে, আসে যায় কিছু কারো ?
এক ঢিলে মারে দুইখানা পাখি, তা নাহলে বেশি আরো।
ফিটফাট যত উপড়েই হোক, নিচেতে সদরঘাট ;
শুণ্য কলসি বাঁজে বেশি জোড়ে, করে শুধু ঠাঁট-বাট।
কাঁটার ঘায়েতে লবন ছিটাতে বড় ওস্তাদ তারা,
গাঁয়ে না মানুক আপনি মোড়ল- বাকী লোকে দিশেহারা।
চোরেরা শোনে না ধর্ম-কাহিনী, গায় নিজ জয়গান
ঘোড়াকে ডিঙিয়ে ঘাস খেয়ে করে জুতো মেরে গরু দান।
অল্প বিদ্যা বড় ভয়ংকর, বড় পন্ডিত সবে,
দশের লাঠিতে একের বোঝা না- উল্টো এখানে হবে।

হাজারো প্রবাদে জড়িত জীবন বাঙালির ওতপ্রোত,
আরো কোন জাতি পাইবে এমন, বাঙালি জাতির মতো ?

Advertisement