করোনার কবলে রোহিঙ্গা শিবির , চলছে বেঁচে থাকার সংগ্রাম

ব্রিট বাংলা ডেস্ক :: করোনা ভাইরাসের থাবা বাংলাদেশের রোহিঙ্গা শিবিরে। আতঙ্ক গ্রাস করছে তাদের। কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিবিরে খোঁজ নিয়ে দেখা গেলো বছর তিরিশের এক ব্যক্তি করোনার কবলে পড়েন। তারপর তিনি যে অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হন তা বলে বোঝানো যাবে না। খবরটা জানাজানি হতেই তাঁর এবং তাঁর পরিবার কঠিন চ্যালেঞ্জের সামনে পড়েন। তাঁদের পুরো পরিবারকে একঘরে করে দেয়া হয়, বাইরে বেরোলেই পুরো ঘর জ্বালিয়ে দেওয়া হবে বলে ক্রমাগত হুমকি আসতে থাকে । এমনকি তাদের বুঝিয়ে দেয়া হয়, করোনায় আক্রান্ত হওয়া চরম লজ্জার বিষয়।
সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের এক রিপোর্টে এসব কথা বলা হয়েছে। এতে বলা হয়, রোহিঙ্গা জনজাতির মানুষগুলি দুঃখ এবং দারিদ্রের মধ্যে দিয়ে নিরন্তর লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।

ক্যাম্পগুলোতে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা চরম সংকটের মুখে। তার ওপর মরার ওপর খাঁড়ার ঘায়ের মতো করোনার করাল থাবা ক্রমশ চওড়া হচ্ছে শিবিরগুলোতে। রিপোর্ট বলছে, এই গোষ্ঠীর অনেকেই এই মারণ ভাইরাসের কবলে পড়েছেন , সঠিক সংখ্যাটা এখনো সামনে আসেনি। এই মুহূর্তে প্রায় ৮ লক্ষ ৬০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন। সোশ্যাল ডিস্ট্যানসিং তো দূরের কথা এক চিলতে ছাদের তলায় কোনোমতে মাথা গুঁজে রয়েছেন একসঙ্গে ১০ জন। পরিষ্কার পানির অভাব, অতিবৃষ্টিতে বন্যার কবলে পড়া মানুষগুলো তাই অধিকাংশ সময়ে জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় হাসপাতালের চিকিৎসকরা বলছেন , করোনা ভাইরাসের আগে থেকেই ডায়রিয়া , ত্বকের সমস্যায় রোহিঙ্গারা জর্জরিত। অধিকাংশই ভুগছেন মানসিক অবসাদে। করোনা আসার পর ক্যাম্পগুলোর স্বাস্থ্য ব্যবস্থা বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে। করোনা যোদ্ধারা নিজেরাই আজ প্রতিকূল পরিস্থিতির সামনে দাঁড়িয়ে, সেই জায়গায় এই মানুষগুলোর জন্য তাঁরা নিরন্তর লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। ভয়কে দূরে সরিয়ে রেখে নিজেদের সমস্যা সামনে আনার কথা বার বার বলা হচ্ছে রোহিঙ্গাদের। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানাচ্ছে, আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশের রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে প্রায় ৪০০০ মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। নতুন এই লড়াই তাদের কাছে কঠিন জীবন সংগ্রামের লড়াই, অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার লড়াই। কোভিড-১৯ প্রাদুর্ভাবজনিত জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশ ও আমেরিকা ঘনিষ্ঠভাবে কাজ চালিয়ে যাবে বলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব ড. মার্ক টি এসপার আশা প্রকাশ করেছেন। মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব এসপার জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের ভূমিকার প্রশংসা করেন।

Advertisement