Advertisement

ব্রিটবাংলা ডেস্ক : প্রথম দফার চাইতেও ভয়াবহ ব্রিটেনে বর্তমান করোনার অবস্থা। প্রায় ৩ দশমিক ৬ মিলিয়নের বেশি মানুষ করোনায় আক্রান্ত। প্রতি ১০ জনের মধ্যে একজন করোনা রোগিকে নিতে হচ্ছে ইনটেনসিভ কেয়ারে। হাসপাতালের ম্যাকানিক্যাল ভ্যানটিলেশনে বর্তমানে প্রায় ৪ হাজারের বেশি করোনা রোগি। যা প্রথম দফার চাইতে বেশি। স্থান সংকুলান না হওয়ায় রোগিদের এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে এক শহর থেকে আরেক শহরে স্থানান্তর করা হচ্ছে। এদিকে গত চব্বিশ ঘন্টায় শনিবার আরো ১৩শ ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। করেনোয় সর্বমোট মৃতের সংখ্যা ৯৭ হাজার ৩শ ছাড়িয়েছে। এই অবস্থায় জনসাধারনকে করোনার ব্যাপারে সচেতন করতে নতুন ক্যাম্পেইনও শুরু করেছে সরকার।
এদিকে ব্রিটেনে ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ গ্রহণ করেছেন প্রায় ৬ মিলিয়ন মানুষ। করোনার ঝুঁকিতে থাকা এথনিক কমিউনিটিতে ভ্যাকসিন সচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। মসজিদে খোলা হয়েছে ভ্যাকসিন সেন্টার। বার্মিংহ্যামের আলআব্বাস ইসলামিক সেন্টারের ভ্যাকসিন প্রদান করা হচ্ছে। শনিবার এই ভ্যাকসিন সেন্টারটি ঘুরে দেখেন কমিউনিটি সেক্রেটারী রবার্ট জেনেরিখ।

করোনা ভ্যাকসিন নিতে এক ভিডিও বার্তায় ইস্ট লণ্ডন মসজিদের পক্ষ থেকেও আহ্বান জানানো হয়েছে।

এদিকে ব্রিকলেন মুসলিম ফিউনারেল সার্ভিস জানিয়েছে, প্রতিদিন তাদের এখানে ৬ থেকে ৭ জনের মরদেহ দাফনের জন্যে গোসল করানো হয়। গত এক মাসে একশ’র উপরে দাফন করেছে এই সেন্টারটি। এরমধ্যে ৩ জন ছাড়া বাকী সবাই বাঙালী। তাদের মধ্যে ৭৫ শতাংশই সরাসরি করোনা রোগি। আর বাকীদের অনেকেই আগে করোনায় আক্রান্ত ছিলেন। মৃতদের মধ্যে বেশির ভাগই ৩৫ থেকে ৫০ বছর বয়সী মহিলা। তাদের মতে, ডেথ সার্টিফিকেট নিয়ে আসলেই দাফন করা যাচ্ছে না। গার্ডেন অব পিসে দাফনের জন্যে অন্তত ৫দিন অপেক্ষা করতে হয়। ফরেস্ট গেইট কবরস্থানে করোনা রোগি দাফন করা হয় না। আর সিডকাপেও অন্তত তিন থেকে চার দিন অপেক্ষা করতে হয়। করোনা বিধি নিষেধ মেনে চলতে ভিডিও বার্তায় টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল থেকে সবার প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

এদিকে করোনার নতুন আরো একটি ভ্যারিয়েন্টের কথা বলেছেন বিশেষজ্ঞরা। নতুন ভ্যারিয়েন্টটি আরো বেশি বিপজ্জনক এবং খুব তাড়াতাড়ি রোগিকে মৃত্যুমুখে পতিত করে বলেও সতর্ক করেছেন তারা।