করোনায় মারাত্মকভাবে আর্থিক সংকটে পড়েছে বৃটেনের অভ্যন্তরীন চ্যারিটি সংস্থাগুলো

ব্রিটবাংলা ডেস্ক : করোনা ভাইরাসের প্রভাবে মারাত্মকভাবে আর্থিক সংকটে পড়েছে বৃটেনের অভ্যন্তরীন চ্যারিটি সংস্থাগুলো। লকডাউন শুরুর পর থেকে কমে গেছে দানের পরিমান এবং বন্ধ করতে হয়েছে অনেক চ্যারিটি শপ। ফলে আর্থিক সংকটে থাকা চ্যারিটি সংস্থাগুলো চাকুরী ছাঁটাইয়ের পাশাপাশি তাদের সেবামূলক কর্মসূচীও কমাতে বাধ্য হয়েছে। ইতোমধ্যে এই সেক্টরে প্রায় ২৫ হাজার চাকুরী ছাঁটাই হয়েছে। ঝুঁকিতে রয়েছে আরো প্রায় ৩৫ হাজারের বেশি চাকুরী।
দ্যা ইনস্টিটিউট অব ফানরাইজিং এবং দ্যা চ্যারিটি ফাইনান্স গ্রুপের সহযোগিতায় গবেষণা সংস্থা প্রো বোনো ইকোনোমিকস পরিচালিত এক জরিপে উঠে এসেছে ব্রিটেনের অভ্যন্তরীন চ্যারিটি সংস্থাগুলোর এই বেহাল দশা। জরিপ রিপোর্টে বলা হয়েছে, বৃটেনের প্রায় ১৯ শতাংশ চ্যারিটি সংস্থা এরিমধ্যে চাকুরী ছাঁটাই করেছে। সরকারের ফারলো স্কীম বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর আরো প্রায় ২৩ শতাংশ চ্যারিটি সংস্থা চাকুরী ছাঁটাই করবে। আগামী অক্টোবর থেকে সরকারের জব রিটেনশন স্কীমের অধিনে ফারলো প্রদান বন্ধ হয়ে যাবে। জরিপে প্রায় ৫৮ শতাংশ চ্যারিটি সংস্থা বলেছে, করোনা সংকটের কারণে শুধু স্টাফদের মধ্যেই চাকুরী হারানোর ভয় কাজ করছে না, বিশেষভাবে প্রতিবন্ধী শিশু এবং সেবাগ্রহণকারী বিভিন্ন পরিবারগুলোর মধ্যেও এক ধরনের শঙ্কা এবং ভয়ের সৃষ্টি হয়েছে।

আর্থিক সংকটে থাকা বেশ কয়েকটি চ্যারিটি সংস্থা তাদের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছে। এর মধ্যে একটি চ্যারিটি সংস্থা হল ব্রাইটনের এক্সট্টা টাইম।

শারীরিক এবং মানসিকভাবে প্রতিবন্ধী শিশুদের নিয়ে কাজ করে ব্রাইটনের চ্যারিটি সংস্থা এক্সট্টা টাইম। এই চ্যারিটি সংস্থাটি জানিয়েছে, করোনা লকডাউন শুরুর পর থেকে তাদের প্রায় ৩০ শতাংশ ফান্ডিং কমে গেছে এবং এক তৃতীয়াংশ স্টাফ বর্তমানে ফারলোতে রয়েছে। আর্থিক সংকটের কারণে গ্রীস্মকালীন বিভিন্ন প্রজেক্ট সংক্ষিপ্ত করতে বাধ্য হয়েছে এক্সট্টা টাইম ব্রাইটনের।
গুরুতরভাবে অসুস্থ শিশুদের পরিবারের সঙ্গে কাজ করে দ্যা রেইনবো ট্রাস্ট। এই সংস্থাটি জানিয়েছে, এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহের একটি উইকেন্ডের ফান্ডরেইজিং থেকে তাদের প্রায় অর্ধ মিলিয়ন পাউন্ড সংগৃহিত হবার কথা ছিল। যা পুরো বছরের টার্গেটের ১০ শতাংশ। কিন্তু তা সম্ভব হয়নি করোনা কারণে। দ্যা রেইনবো ট্রাস্ট এরিমধ্যে ১৭ শতাংশ চাকুরী ছাঁটাই করেছে।
যদিও গত এপ্রিলে লকডাউন শুরুর পর ব্রিটেনের চ্যারিটি সেক্টরের জন্যে চ্যান্সেলার ঋষি সোনাক প্রায় ৭শ ৫০ মিলিয়ন পাউন্ডের গ্রান্ট দিয়েছেন। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তা যথেস্ট নয়। করোনার প্রভাবে ব্রিটিশ চ্যারিটি সেক্টরে প্রায় ১০ বিলিয়ন পাউন্ডের বেশি ঘাটতি দেখা দেবে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

Advertisement