করোনায় ৪৮ লাখ ২১ হাজার মৃত্যু দেখল বিশ্ব

চলমান মহামারি করোনা ভাইরাসের ভয়াল থাবায় বিশ্বজুড়ে দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যা ফের বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে আগের দিনের তুলনায় বাড়ল প্রাণঘাতী ভাইরাসে নতুন সংক্রমিত রোগীর সংখ্যাও। গেল ২৪ ঘণ্টায় সারা বিশ্বে কোভিড শনাক্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন সাড়ে চার হাজারের বেশি মানুষ। নির্ধারিত এই সময়ের মধ্যে রোগটিতে নতুন করে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা বেড়ে তিন লাখ ২৩ হাজার ছাড়িয়েছে।সর্বশেষ এক দিনে সবচেয়ে বেশি সংক্রমণের ঘটনা ঘটল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। অপর দিকে দৈনিক মৃত্যুতে এখনো শীর্ষ স্থানে রয়েছে রাশিয়া। আর এরপরই রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র এবং ভারতের নাম। এতে বিশ্বব্যাপী কোভিড সংক্রমিতের সংখ্যা ২৩ কোটি ৬১ লাখের ঘর ছাড়িয়ে গেছে। অন্য দিকে প্রাণহানির সংখ্যাও এরই মধ্যে ৪৮ লাখ ২১ হাজারে পৌঁছেছে।

মঙ্গলবার (৫ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টা পর্যন্ত করোনা ভাইরাসে মৃত্যু, আক্রান্ত ও সুস্থতার হিসাব রাখা ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডো মিটারস থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, শেষ ২৪ ঘণ্টায় সারা বিশ্বে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন চার হাজার ৬৩৮ জন। অর্থাৎ আগের দিনের তুলনায় মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ল অর্ধশতাধিক। এতে বিশ্বজুড়ে করোনায় মৃতের সংখ্যা ৪৮ লাখ ২১ হাজার ৯৬২ জনে পৌঁছে গেছে।নির্ধারিত এই সময়ের মধ্যে প্রাণঘাতী ভাইরাসটিতে নতুন করে সংক্রমিত হয়েছেন তিন লাখ ২৩ হাজার ৮৬৯ জন। অর্থাৎ আগের দিনের তুলনায় নতুন আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ল ২৩ হাজারের বেশি। এতে মহামারির শুরু থেকে এ পর্যন্ত ভাইরাসটিতে শনাক্ত মোট রোগীর সংখ্যা বেড়ে ২৩ কোটি ৬১ লাখ ১৪ হাজার ১১০ জনে দাঁড়িয়েছে।এ দিকে শেষ এক দিনে বিশ্বে করোনার থাবায় সবচেয়ে বেশি সংক্রমণের ঘটনা ঘটছে যুক্তরাষ্ট্রে। একই সময়ে দেশটিতে নতুন করে করোনা ভাইরাসে শনাক্ত হয়েছেন ৬১ হাজার ৬১ জন। আর মৃত্যু হয়েছে ৫৫৪ জনের। অর্থাৎ আগের দিনের তুলনায় মার্কিন ভূখণ্ডে সংক্রমণ-প্রাণহানি বাড়ল দ্বিগুণের অধিক। করোনা ভাইরাসে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশটিতে এ পর্যন্ত চার কোটি ৪৬ লাখ ৫৪ হাজার ২৭০ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এছাড়া মারা গেছেন সাত লাখ ২২ হাজার ৩১ জন কোভিড রোগী।অপর দিকে দৈনিক প্রাণহানির তালিকায় এখনো শীর্ষে রয়েছে রাশিয়া। শেষ এক দিনে দেশটিতে প্রাণ হারিয়েছেন ৮৮৩ জন। আর নতুন করে ভাইরাসটিতে সংক্রমিত হয়েছেন ২৫ হাজার ৭৮১ জন। এছাড়া মহামারির শুরু থেকে দেশটিতে এ পর্যন্ত মোট আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে ৭৬ লাখ ১২ হাজার ৩১৭ জনে দাঁড়িয়েছে। আর মৃত্যু হয়েছে দুই লাখ ১০ হাজার ৮০১ জনের।

করোনায় আক্রান্তের দিক থেকে তৃতীয় ও মৃত্যুর সংখ্যায় তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ল্যাটিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিল। শেষ এক দিনে দেশটিতে করোনার থাবায় শনাক্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ১৯৯ জন। আর নতুন করে ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়েছেন ১০ হাজার ৪২৫ জন। অপরদিকে মহামারির শুরু থেকে দেশটিতে এ পর্যন্ত মোট সংক্রমিত রোগীর সংখ্যা বেড়ে দুই কোটি ১৪ লাখ ৭৮ হাজার ৫৪৬ জনে পৌঁছেছে। আর মৃত্যু হয়েছে পাঁচ লাখ ৯৮ হাজার ১৮৫ জনের।এ দিকে করোনার থাবায় সংক্রমিতের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার ঘনবসতিপূর্ণ দেশ ভারত। যদিও প্রাণঘাতী ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রাণহানির সংখ্যার তালিকায় দেশটির অবস্থান এখনো তৃতীয়। নির্ধারিত এই সময়ের মধ্যে কোভিড আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন ২৫৪ জন। নতুন করে করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন ১৬ হাজার ৭৬২ জন। দেশটিতে বর্তমানে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা তিন কোটি ৩৮ লাখ ৫১ হাজার পাঁচজনে পৌঁছেছে। আর মারা গেছেন চার লাখ ৪৯ হাজার ২৮৩ জন কোভিড রোগী।

গেল ২৪ ঘণ্টায় ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানে করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন ২৩৮ জন। আর নতুন করে প্রাণঘাতী ভাইরাসে শনাক্ত হয়েছেন ১৪ হাজার ৬০৭ জন। অপর দিকে শেষ এক দিনে উত্তর আমেরিকার দেশ মেক্সিকোতে মৃত্যুবরণ করেছেন ২১১ জন। মহামারির শুরু থেকে দেশটিতে এ পর্যন্ত প্রাণ গেছে দুই লাখ ৭৮ হাজার ৮০১ জনের।উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে এশিয়ার পরাশক্তি চীনের উহানে প্রথম করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত রোগী শনাক্ত হয়। এরপর গত বছরের ১১ মার্চ প্রাণঘাতী ভাইরাসকে ‘বৈশ্বিক মহামারি’ হিসেবে ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। এর আগে একই বছরের ২০ জানুয়ারি সংস্থাটি বিশ্বজুড়ে জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা করে।

Advertisement