চট্টগ্রামে করোনা সংক্রমণ ৫ শতাংশের নীচে

চট্টগ্রামে পর পর দ্বিতীয় দিনের মতো করোনাভাইরাসের সংক্রমণ হার পাঁচ নীচে শতাংশের রয়েছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নতুন ১১৮ জন আক্রান্ত শনাক্ত হন। সংক্রমণ হার ৪ দশমিক ৩৬ শতাংশ। এ সময়ে করোনায় আক্রান্ত কোনো রোগির মৃত্যু হয়নি।চট্টগ্রামের করোনা সংক্রান্ত হালনাগাদ পরিস্থিতি নিয়ে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে প্রেরিত প্রতিবেদনে এ সব তথ্য জানা যায়।সিভিল সার্জন কার্যালয়ের আজকের রিপোর্টে বলা হয়, ফৌজদারহাট বিআইটিআইডি, শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, নগরীর দশ ল্যাব ও এন্টিজেন টেস্টে গতকাল বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের ২ হাজার ৭০৫ জনের নমুনা পরীক্ষা করলে নতুন ১১৮ জন পজিটিভ শনাক্ত হন। এর মধ্যে শহরের ৮৪ ও দশ উপজেলার ৩৪ জন। জেলায় করোনাভাইরাসে মোট শনাক্ত ব্যক্তির সংখ্যা এখন ১ লক্ষ ২৫ হাজার ৯০৪ জন। এর মধ্যে শহরের ৯১ হাজার ৫৪৯ ও গ্রামের ৩৪ হাজার ৩৫৫ জন। উপজেলায় আক্রান্তদের মধ্যে মিরসরাইয়ে ১৩ জন, হাটহাজারী ও সন্দ্বীপে ৪ জন করে, বোয়ালখালীতে ৩ জন, সীতাকু-, ফটিকছড়ি, রাউজান ও কর্ণফুলীতে ২ জন করে এবং পটিয়া ও চন্দনাইশে একজন করে রয়েছেন। গতকাল করোনায় শহর ও গ্রামে কারো মৃত্যু হয়নি। মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ৩৬২ জনই রয়েছে। এতে শহরের ৭৩৪ ও গ্রামের ৬২৮ জন।
উল্লেখ্য, আগের দিনও চট্টগ্রামে সংক্রমণ হার ছিল পাঁচের নীচে ছিল। পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, গেল বছর অর্থাৎ ২০২১ সালের এই দিনেও করোনাভাইরাসের সংক্রমণ হার পাঁচের নীচে ছিল। ওইদিন চট্টগ্রামে ৭৬ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। সংক্রমণের হার ৪ দশমিক ৬৬ শতাংশ। তবে করোনায় এক রোগি মারা যান।
ল্যাবভিত্তিক রিপোর্টে দেখা যায়, বেসরকারি ক্লিনিক্যাল ল্যাবরেটরি শেভরনে গতকাল সবচেয়ে বেশি ৫৮৯ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এখানে শহর ও গ্রামের ৪ জন করে জীবাণুবাহক পাওয়া যায়। ফৌজদারহাটস্থ বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল এন্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস ল্যাবে ৩৬৮টি নমুনা পরীক্ষায় শহরের ৪৩ ও গ্রামের একটিতে করোনার জীবাণু থাকার প্রমাণ মিলেছে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ল্যাবে ৯৯ জনের নমুনার মধ্যে শহরের ৭ ও গ্রামের ৪ জন আক্রান্ত শনাক্ত হন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবে ২০টি নমুনা পরীক্ষায় শহর ও গ্রামের একটি করে ভাইরাসে আক্রান্ত চিহ্নিত হয়। চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি এন্ড এনিম্যাল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবে ৮৫ জনের নমুনার মধ্যে শহরের ৬ ও গ্রামের ২ জনের দেহে জীবাণুর অস্তিত্ব ধরা পড়ে। নগরীর বিশেষায়িত কভিড-১৯ চিকিৎসা কেন্দ্র আন্দরকিল্লা জেনারেল হাসপাতালের আরটিআরএলে ৯টি নমুনায় শহরের একটির পজিটিভ রেজাল্ট আসে।

বেসরকারি ল্যাবরেটরি ইম্পেরিয়াল হাসপাতালে ৩১৫ জনের নমুনা পরীক্ষা করলে শহরের ৬ ও গ্রামের ২ জনের শরীরে জীবাণুর উপস্থিতি মিলেছে। আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতাল ল্যাবে ২৫৪টি নমুনায় শহরের ২ ও গ্রামের ৩ টিতে ভাইরাস শনাক্ত হয়। এপিক হেলথ কেয়ারে ৮৫ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হলে শহরের ২ জনের দেহে সংক্রমণ চিহ্নিত হয়। মেট্রোপলিটন হাসপাতালে ৬০টি নমুনা পরীক্ষা করে শহরের ৩টিতে ভাইরাস পাওয়া যায়। এশিয়ান সেপশালাইজড হাসপাতাল ল্যাবে ৩৪৩টি নমুনা পরীক্ষায় শহর ও গ্রামের ২টি করে চারটির পজিটিভ রেজাল্ট আসে। শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্থাপিত ল্যাবে ৩৬২ বিদেশগামীর নমুনায় শহরের ৮ জন করোনায় আক্রান্ত শনাক্ত হন। এদের যাত্রা বাতিল করা হয়।নমুনা সংগ্রহের বিভিন্ন কেন্দ্রে ১১৬ জনের এন্টিজেন টেস্ট করা হলে গ্রামের ১৪ জন সংক্রমিত বলে জানানো হয়। ল্যাবভিত্তিক রিপোর্ট বিশ্লেষণে সংক্রমণ হার নির্ণিত হয়, শেভরনে ১ দশমিক ৩৬, বিআইটিআইডি’তে ১১ দশমিক ৯৫, চমেকহা’য় ১১ দশমিক ১১, চবি’তে ১০ শতাংশ, সিভাসু’তে ৯ দশমিক ৪১, আরটিআরএলে ১১ দশমিক ১১, ইম্পেরিয়াল হাসপাতালে ২ দশমিক ৫৪, আগ্রাবাদ মা ও শিশু হাসপাতালে ১ দশমিক ৯৭, এপিক হেলথ কেয়ারে ২ দশমিক ৩৫, মেট্রোপলিটন হাসপাতালে ৫, এশিয়ান সেপশালাইজড হাসপাতালে ১ দশমিক ১৬ ও শাহ আমনত বিমান বন্দর ল্যাবে ২ দশমিক ২১ শতাংশ এবং এন্টিজেন টেস্টে ১২ দশমিক ০৭ শতাংশ।

Advertisement