জর্জ ফ্লয়েড হত্যা: সেই পুলিশ কর্মকর্তার সাড়ে ২২ বছরের সাজা

যুক্তরাষ্ট্রে কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েডের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দেশটির সাবেক শেতাঙ্গ পুলিশ কর্মকর্তা ডেরেক চাওভিনকে সাড়ে ২২ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৫ জুন) দেশটির একটি আদালত অভিযুক্ত চাওভিনের বিরুদ্ধে এই রায় ঘোষণা করেন।শুক্রবার এই রায় ঘোষণার পর বিচারক বলেছেন, ক্ষমতা ও কর্তৃত্বের অপব্যবহার এবং বিশ্বাসভঙ্গ করার পাশাপাশি কর্তব্য পালনে নিষ্ঠুরতার জন্য ডেরেক চৌভিনকে এই সাজা ভোগ করতে হবে।এর আগে গত ২১ এপ্রিল ১২ সদস্যের জুরি বোর্ড ডেরেক চাওভিনকে ফ্লয়েড হত্যায় দোষী সাব্যস্ত করে। এর ধারাবাহিকতায় শুক্রবার তার সাজা ঘোষণা করেন আদালত। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, ফ্লয়েডের পরিবার এবং তার সমর্থকরা আদালতের এ রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন।এর আগে চলতি বছরের মার্চ মাসে কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েডকে হত্যার অভিযোগে মিনিয়াপোলিস শহরে শ্বেতাঙ্গ পুলিশ কর্মকর্তা ডেরেক চাওভিনের বিচার শুরু হয়। হত্যাকাণ্ডের সময় ডেরেক চাওভিন হাঁটু দিয়ে জর্জ ফ্লয়েডের ঘাড় নয় মিনিট ধরে চেপে বসে আছেন, গত বছর এরকম একটি ভিডিও যুক্তরাষ্ট্রসহ সারা বিশ্বে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছিল।এই ঘটনায় যে চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়, ৪৫ বছর বয়স্ক ডেরেক চাওভিন তাদের মধ্যে প্রধান আসামী। তবে চাওভিন তার বিরুদ্ধে আনা হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন। দোষী সাব্যস্ত হলে এই মামলায় তার ৪০ বছর পর্যন্ত সাজা হওয়ার সুযোগ থাকলেও আদালত তাকে সাড়ে ২২ বছরের কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন। এছাড়া হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ ওঠার পরই তাকে পুলিশ বাহিনী থেকে বরখাস্ত করা হয়।

সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা চাওভিন যেভাবে হাঁটু দিয়ে জর্জ ফ্লয়েডকে মাটিতে চেপে ধরে রেখেছিলেন, আদালতে শুনানির সময় সেই ভিডিও প্রদর্শন করা হয়। ভিডিওটিতে হাতকড়া পরা অবস্থায় মাটিতে পড়ে থাকা জর্জ ফ্লয়েডের গোঙানি শুনতে পাওয়া যাচ্ছিল। তার শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল এবং পাশে দাঁড়িয়ে থাকা লোকজন পুলিশ কর্মকর্তা ডেরেক চাওভিনকে বার বার অনুরোধ করছিলেন তাকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য।জর্জ ফ্লয়েডের হত্যার বিচারকে যুক্তরাষ্ট্রে বর্ণবাদ, বিভিন্ন বর্ণের মানুষের মধ্যে সম্পর্ক এবং পুলিশের জবাবদিহিতার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যখন কোনো অভিযোগ আনা হয়, তখন তাদের সাজা পাওয়ার ঘটনা খুবই বিরল।জর্জ ফ্লয়েড হত্যাকাণ্ডের পর শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয় বিশ্বজুড়ে বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলন শুরু হয়। তখন সবচেয়ে বেশি বিক্ষোভ হয়েছিল যুক্তরাজ্যে। তবে অভিযুক্ত ডেরেক চাওভিনের দাবি, সে তার পুলিশ প্রশিক্ষণের ব্যবহার করেছে।সূত্র: আলজাজিরা

Advertisement