টোল দিতে হবে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে!

সিলেট অফিস :: মহাসড়কে টোল আদায়ের প্রক্রিয়া শুরু করেছে সড়ক পরিবহন ও সেতু বিভাগের আওতাধীন সড়ক-মহাসড়ক বিভাগ। ইতোমধ্যেই সড়ক বিভাগের প্রধান প্রকৌশলীকে এ বিষয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের আওতায় থাকা সড়কের পরিমাণ ২১ হাজার ৫৯৫ কিলোমিটারের মধ্যে ৩ হাজার ৯০৬ কিলোমিটার জাতীয় মহাসড়ক। এরমধ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট, ঢাকা-খুলনা ও ঢাকা-রংপুর এই চার মহাসড়কে সরকার টোল আদায়ের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কার কাজের এই টোলের টাকা ব্যবহৃত হবে। এই টাকা আলাদা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হবে। সড়ক বিভাগ সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, শুরুতে দেশে চার লেনের মহাসড়কে টোল আদায় করা হবে। পরবর্তী সময়ে ধাপে ধাপে ছয় লেন ও আট লেনের মহাসড়কে টোল বসবে। মহাসড়কগুলোর কোন কোন জায়গায়, কয় ধাপে, কী পরিমাণ টোল আদায় করা হবে, সে সব বিষয়ের কাজ চূড়ান্ত করার পর মাঠ-পর্যায়ের কাজে হাত দিতে চান সংশ্লিষ্টরা। এ ক্ষেত্রে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতাও কাজে লাগাতে চায় সড়ক বিভাগ।

সড়ক বিভাগ বলছে, সড়কে টোল আদায়ের ধারণা বাংলাদেশে নতুন নয়। বর্তমানে দেশের তিনটি মহাসড়কে ভিন্ন ভিন্ন হারে টোল দিয়ে ভিন্ন ভিন্ন যানবাহনকে চলতে হচ্ছে। এই তিনটি মহাসড়ক হচ্ছে—নলকা-হাটিকামরুল-বনপাড়ার ৫০ কিলোমিটার, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের জগদীশপুর-শেরপুর অংশে (রুস্তমপুর টোল প্লাজা) পর্যন্ত ৭৪ কিলোমিটার এবং চট্টগ্রাম পোর্ট অ্যাকসেস রোডের ১২ কিলোমিটার। মহাসড়কে টোল আরোপের ক্ষেত্রে এই তিনটি সড়কের টোল হার বিবেচনায় রাখা হবে বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সড়ক ও জনপথ অধিদফতর সূত্র জানায়, এসব সড়কে যানবাহনভেদে টোল-হারের ক্ষেত্রেও ভিন্নতা রয়েছে। যেমন ২০০৩ সালের ১ মে থেকে নলকা-হাটিকামরুল-বনপাড়ার সড়কে ট্রেইলারে ১৯০ টাকা, হেভি ট্রাকে ১৫০ টাকা, বড় বাসে ৬০ টাকা, মাইক্রোবাসে ৩০ টাকা, ৩-৪ চাকার গাড়িতে ১০ টাকা ও মোটরসাইকেল প্রতি ৫ টাকা হারে টোল আদায় হচ্ছে। ২০০৫ সালের ১০ মার্চ থেকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের জগদীশপুর-শেরপুর অংশের (রুস্তমপুর টোল প্লাজা) মহাসড়কে ট্রেইলারে ২৮০ টাকা, হেভি ট্রাকে ২২৫ টাকা, বড় বাসে ৭৫ টাকা, মাইক্রোবাসে ৪৫ টাকা, ৩-৪ চাকার গাড়িতে ১০ টাকা ও মোটরসাইকেল প্রতি ৫ টাকা গারে টোল আদায় হচ্ছে। তবে, ২০০৮ সালের ১৬ অক্টোবর থেকে চালু হওয়া চট্টগ্রাম পোর্ট অ্যাকসেস রোডের ১২ কিলোমিটার সড়কের টোল হার সবচেয়ে কম।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সড়ক পরিবহন ও মহসড়ক বিভাগের সচিব মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর আমরা কাজ শুরু করেছি। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়িত হবে। ইতোমধ্যেই সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রধান প্রকৌশলীকে এ বিষয়ে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি কাজ শুরু করেছেন।’

এক প্রশ্নের জবাবে সচিব জানান, ‘এই নির্দেশনা বাস্তবায়নে আপাতত কোনও কমিটি করা হয়নি। প্রধান প্রকৌশলীর নেতৃত্বে আমাদের একটি টিম কাজ শুরু করছে। তারা একটি খসড়া প্ল্যান চূড়ান্ত করে দাখিল করার পর দেখা যাবে কমিটি করা লাগবে কিনা।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মহাসড়কে টোল আদায় প্রক্রিয়া থাকলেও সে সব দেশে এর বিকল্প সড়কের ব্যবস্থা রাখা আছে। কিন্তু বাংলাদেশে আপাতত চার লেনের যে চারটি মহাসড়কে টোল আদায়ের প্রক্রিয়া চলছে, সে সব মহাসড়কের পাশে বিকল্প সড়ক নেই। এমনকী বিকল্প সড়ক করার জায়গাও নেই। বিকল্প সড়ক করতে হলে এর জন্য নতুন করে জমি অধিগ্রহণ করতে হবে। নতুন করে বিকল্প সড়ক নির্মাণ করতে হবে।’

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে। যদি বিকল্প সড়ক করতে হয়, তাও করা হবে। তবে নতুন কিছু মহাসড়কে বিকল্প সড়ক রাখা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে দেশের যে তিনটি সড়কে টোল দিয়ে যানবাহন চলাচল করছে, সেসব সড়কের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে নতুন সড়কে টোল আদায় কার্যক্রম চালু করা হবে।’

মহাসড়কগুলোয় যানবাহনের জন্য টোল হার কেমন হবে—জানতে চাইলে পরিকল্পনা মন্ত্রী জানান, সব কিছু চূড়ান্ত করার পরেই টোলের হার নির্ধারণ করা হবে।

জানতে চাইলে সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী ইবনে আলম হাসান বলেন, ‘প্রক্রিয়াটি সবে শুরু হয়েছে। এখনও মিডিয়ায় বলার মতো কিছু হয়নি। সময় হলে সবই জানবেন।’

জানতে চাইলে পরিবহন মালিক সমিতির নেতা ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্লাহ বলেন, ‘মহাসড়কে টোল দিতে আমাদের কোনও আপত্তি নেই। এজন্য যাত্রীদের ভাড়াও বাড়বে না। তবে সড়কের মান বাড়াতে হবে। স্বাচ্ছন্দ্যে গাড়ি চলার নিশ্চয়তা থাকতে হবে।’

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Advertisement