দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ১০ জেলায় দেশীয় প্রজাতির মাছ, শামুক সংরক্ষণ ও উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ১০ জেলায় দেশীয় প্রজাতির মাছ, শামুক সংরক্ষণ ও উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করেছে মৎস্য বিভাগ।দেশীয় প্রজাতির মাছ,পুষ্টি গুনের আধার, প্রকৃতির বন্ধু শামুক এ স্লেøাগানকে সামনে রেখে খাল-বিল বেষ্টিত ৪৯ উপজেলায় প্রাথমিকভাবে চার বছর মেয়াদী দেশীয় প্রজাতির মাছ, শামুক সংরক্ষণ ও উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।সংরক্ষণ ও উন্নয়ন প্রকল্প’র সহকারী প্রকল্প পরিচালক মো: মনিরুল ইসলাম জানান,মাছ একটি অধিক পুষ্টি গুণসম্পন্ন শতভাগ নিরাপদ প্রাণিজ আমিষ।প্রকল্পভূক্ত এলাকায় দেশীয় প্রজাতির মাছ এবং শামুক সংরক্ষণ ও উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহণের মাধ্যমে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি করা।ধানক্ষেতে মাছ চাষ ও স্থানভেদে লাগসই প্রযুক্তি সম্প্রসারণের মাধ্যমে বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা।নিরাপদ মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে দক্ষ ও প্রশিক্ষিত জনবল গড়ে তোলা।দেশীয় প্রজাতির মাছ চাষের প্রদশর্নী স্থাপন,শামুক, ঝিনুক এবং মুক্তা চাষের প্রদর্শনী স্থাপন।মাছের অভয়যাশ্রম গড়ে তোলা,বিল নার্সারী স্থাপন,মৎস্য আইন বাস্তবায়ন এবং মৎস্য খামার নিবন্ধন করা হচ্ছে এ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।কৃষি উৎপাদন ঠিক রেখে মৎস্য বিভাগ প্রকল্প এলাকায় ১লাখ ৮হাজার ৮শ’৪৭ জন সুফলভোগীর দক্ষতা উন্নয়নে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি জানান।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরো জানা যায়, এ প্রকল্পের আওতায় ৩৯২টি দেশীয় মাছ চাষ প্রদর্শণী স্থাপন,১০০ ইউনিটে খাঁচায় মাছ চাষ প্রদর্শনী স্থাপন।৩১৪টি পেনে মাছ চাষ প্রদর্শনী স্থাপন,৪৯টি ধান ক্ষেতে মাছ চাষ প্রদর্শনী স্থাপন।১০০টি ঝিনুকের চাষ প্রদর্শনী স্থাপন এবং ২০০টি মুক্তা চাষ প্রদর্শনী।১৬০টি অভয়াশ্রম স্থাপন,২৪০টি অভয়াশ্রম পুন:সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষ,।১৯৬টি বিল নার্সারী স্থাপন, ২লক্ষ মৎস্য খামার নিবন্ধন এবং পোনা মাছ অবমুক্তির জন্য ১৪ কোটি ৭০ লাখ টাকার পোনা মাছ মজুদ করা হবে। এছাড়া মৎস্যজীবী ও জেলেদের নিয়ে সুফলভোগীদের মোট ৬হাজার গ্রুপ গঠন করা হবে।৩০হাজার সুফলভোগীদের মাঝে খাঁচা,পেন,রিকশাা,ভ্যান,ছাগল, ভেড়া,হাঁস,মুরগী,ক্ষুদ্র ব্যবসা, দোকান কিংবা অন্যান্য কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।জাল বিনিময় কার্যক্রমের আওতায় ১৬শটি ১৬শ’টি জাল বিতরণ করা হবে।৪ হাজার ৯শ’ মৎস্যজীবীদের মাছ চাষ ও মৎস্য আইন বিষয়ক প্রশিক্ষণ,৪৯ জন ক্ষেত্রসহকারিদের বুনিয়াদি ও রিফ্রেসার্স প্রশিক্ষণ, ৪হাজার ৯শ’ চাষিকে শামুক, ঝিনুক সংরক্ষণ ও মুক্তা চাষ বিষয়ক প্রশিক্ষণ,৪হাজার ৯শ’ প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ মৎস্যজীবী ও জেলেদের জন্য দেশের অভ্যন্তরে অভিজ্ঞতা বিনিময় সফরের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।সূত্রে আরো জানা যায়, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নড়াইল জেলাসহ গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদরীপুর, শরীয়তপুর, বরিশাল, ঝালকাঠি, বরগুনা, পিরোজপুর, বাগেরহাট জেলার বিভিন্ন উপজেলায় এ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। ২০২০ সালের জুলাই থেকে শুরু হওয়া এ প্রকল্প’র প্রাথমিকভাবে মেয়াদকাল হচ্ছে ২০২৪ সালের জুন মাস পর্যন্ত।বর্তমানে দেশে ২৬৪টি প্রজাতির স্বাদু পানির মাছ,৭৪০টি সামুদ্রিক মাছের প্রজাতি রয়েছে।৫৬৯টি প্রজাতির মাছ এ মূহুর্তে দেশে পাওয়া যাচ্ছে এবং বছরে দেশে মাছের মোট উৎপাদন হচ্ছে ৪৪লাখ মেট্রিক টন।

Advertisement