পিএইচডি ডিগ্রীধারী বাংলাদেশী নাগরিকের আইএলআর আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে হোম অফিস

ব্রিটবাংলা ডেস্ক : ব্রেক্সিটের পর গবেষক, ডাক্তার, ইন্জিনিয়ারসহ বিদেশী উচ্চ-শিক্ষিত পেশাজীবিদের আকৃস্ট করতে জানুয়ারী থেকে বরিস সরকার সহজ ভিসা নীতির ঘোষনা দিলেও ইউকেতে অবস্থানরত বিদেশী শিক্ষাবীদ ও গবেষকদের সঙ্গে বিপরীত মুখি আচরণ করছে হোম অফিস।কঠোর ইমিগ্রেশন নীতির মাধ্যমে টুনকো অজুহাতে তাদেরকে বরং ইউকে থেকে বিতারনের চেস্টা করছে হোম অফিস।

প্রায় এক দশকের বেশি সময় ইউকেতে গবেষণা ও শিক্ষা কাজে নিজের সময় ব্যয় করেও স্থায়ীভাবে ইউকেতে বসবাসের অনুমতির জন্যে আবেদন করে প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন বাংলাদেশের নাগরিক ডক্টর নাজিয়া হোসাইন। ২০০৯ সালে পিএইচডি করেছেন ওয়ারউইক ইউনিভার্সিটি থেকে। বর্তমানে লেকচারার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ব্রিস্টল ইউনিভার্সিটিতে। প্রায় এক দশক ইউকেতে বসবাসের পরও লিঙ্গবৈষম্য, ধর্ম এবং নারীর ক্ষমতায়ন বিষয়ে বিশেষজ্ঞ ডক্টর নাজিয়ার ইউকেতে স্থায়ী বসবাস বা লিভ টু রিমেইন আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে হোম অফিস।

আবেদন প্রত্যাখ্যানের কারণ হিসেবে হোম অফিস বলেছে, ডক্টর নাজিয়া হোসাইন টানা দশ বছর ইউকেতে বসবাস করেননি। এর মধ্যে তিনি ৬ মাসের জন্যে ইউকের বাইরে অবস্থান করেছেন বলে তার লিভ টু রিমেইন আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হল, ওয়ারইউক ইউনিভার্সিটিতে পিএইচডি করার সময় নারীর ক্ষমতায়ন, লিঙ্গ বৈষম্য এবং ধর্ম নিয়ে গবেষনা কাজে প্রায় ৬ মাস তিনি বাংলাদেশে অবস্থান করেছিলেন। এর যথাযথ প্রমাণও তিনি হোম অফিসকে দিয়েছেন। কিন্তু হোম অফিস সেই প্রমান আমলে না নিয়ে ডক্টর নাজিয়ার আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে। হোম অফিস তাদের চিঠিতে উল্লেখ করেছে, নাজিয়া হোসাইন অত্যন্ত যোগ্যতা সম্পন্ন এবং বাংলাদেশে ফিরে খুব সহজে মানিয়ে নিতে পারবেন। যদিও হোম অফিস ডক্টর নাজিয়া হোসাইনের স্বামীকে ইউকেতে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি দিয়েছে এবং তাদের তিন বছরের শিশু সন্তানও ব্রিটিশ পাসপোর্টের জন্যে আবেদন করতে পারবেন।

ডক্টর নাজিয়া ইসলামের আগে পিএইচডির ফিল্ডওয়ার্কের কারনে ভারত ও ক্যামরনের দুই নাগরিকের আইএলআর আবেদন প্রত্যাখ্যান করে হোম অফিস। ভারতের নাগরিক ডক্টর আয়শা ইসলাম কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটির সাইকোলজিস্ট। গত নভেম্বরে তার আইএলআর আবেদন প্রত্যাখ্যান করে হোম অফিস। এক দশকের ভেতরে তিনি গবেষনা কাজের অংশ হিসেবে প্রায় এক বছর কাটিয়েছেন দিল্লিতে। এ কারণে তার আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়। যদিও ইউনিভার্সিটির পক্ষ থেকে গবেষণা কাজে দিল্লিতে অবস্থানের পক্ষে পর্যাপ্ত তথ্য প্রমান সরবরাহ করা হয় কিন্তু হোম অফিস তা আমলে নেয়নি।

অন্যদিকে ২০১৮ সালে লিভারপুল ইউনিভার্সিটির আরেক গবেষক ক্যামরনের নাগরিক ডক্টর এলসা জাকিংয়ের আইএলআর আবেদন প্রত্যাখ্যান করে হোম অফিস। তার পিএইচডির গবেষণা কাজের অংশ হিসেবে ডক্টর এলসা ২০১৫ সালে মরনব্যাধি ইবোলার রোগের নমুনা সংগ্রহের জন্যে ভলান্টিয়ারী করতে ৬ সপ্তাহের জন্য সাউথ আফ্রিকার গিনিতে গিয়েছিলেন। এ কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি রাণীর কাছে থেকে এওয়ার্ডও অর্জন করেন। এই কয়েকদিন ইউকের বাইরে থাকার কারণে আইএলআর প্রাপ্তির শর্ত ভঙ্গ হওয়ার ফলে তার আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছিল হোম অফিস যদিও পরবর্তীতে তিনি আপিল করেন। তিনি বর্তমানে ইউকেতে রয়েছেন।

এদিকে ডক্টর নাজিয়া হোসাইন হোম অফিসের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করবেন বলে দ্যা গার্ডিয়ানকে জানিয়েছেন। তার আইনজীবি মনে করছেন, আপিলের সিদ্ধান্ত পেতে  অনেক দেরি হতে পারে এবং তাতে ডক্টর নাজিয়া ভিসার মেয়াদ ফুরিয়ে যেতে পারে। তবে ডক্টর নাজিয়াকে আরো দু বছরের জন্যে ইন্ডিপেনডেন্ট ভিসা দিয়েছে হোম অফিস। এর ভেতরে তিনি আপিল করবেন বলে জানিয়েছেন। গত বছর শুধু ইমিগ্রেশন ফি বাবদই তাদের ব্যয় হয়েছে প্রায় ১১ হাজার পাউন্ড।

 

 

Advertisement