প্রস্তুত ইংল্যান্ডের স্কুলগুলো : পালাক্রমে হবে ক্লাস

মো: রেজাউল করিম মৃধা ॥ অগামী সপ্তাহের মঙ্গল অথবা বুধবার এলাকা ভিত্তিক প্রাধান্য দিয়েই খুলছে ব্রিটেনের প্রাইমার এবং সেকেন্ডারি স্কুল। তবে অভিবাবক এবং শিক্ষকদের মনে ভয় কাজ করছে। যদিও প্রায় চার হাজার স্কুলের প্রধান শিক্ষক বলছেন, নতুন করে খোলার জন্য ক্লাস রুমকে সামাজিক দূরুত্ব বজায় রেখে চেয়ার টেবিল বসানো হয়েছে। ধূয়ে মুছে পরিস্কার করা সহ স্টাফদের প্রশিক্ষন দেওয়া হয়েছে । সেই সাথে সব ছাত্র-ছাত্রী যাতে এক সাথে না আসে এজন্য ভিন্ন ভিন্ন ক্লাসের ভিন্ন ভিন্ন সময় দেওয়া হয়েছে। দেওয়া হয়েছে ভিন্ন ভিন্ন গেইট যাতে এক সাথে জরো না হয় সবাই। এই সব মিলিয়ে স্কুলগুলি খোলার জন্য প্রস্তুতি সম্পূর্ন করেছে।

এরমধ্যে ৩ শতাংশ স্কুল এখনো প্রস্তুতি সম্পূর্ন করতে পারেনি। সেই সব স্কুলের প্রধান শিক্ষকরা এখনো ভয়ে আছেন।

মুখে মাস্ক, সামাজিক দূরুত্ব সহ সরকারের বিধি নিষেধ ও নিয়মাবলী মেনেই স্কুলগুলি খোলা হচ্ছে। এখানে ভয়ের তেমন কোন কারন নেই বলে মনে করেন এনএএইচটি’র সেক্রেটারি জেনারেল পাউল হুয়াইটম্যান। তিনি বলেন, সরকার শিক্ষার জন্য আন্তরিক এবং শিক্ষাকে প্রাধান্য দিয়ে যাচ্ছে সরকার। এখানে রাজনৈতিক খেলা না খেলার জন্য তিনি সকল রাজনৈতিক দলের প্রতি অনুরোধ জানান।
তিনি আরো বলেন, “স্কুলগুলি খোলার পর দুই সপ্তাহ স্কুলে ক্লাস হবে এবং দুই সপ্তাহ স্কুল বন্ধ থাকবে তখন বাসায় অন লাইনে ক্লাস হবে। এভাবেই চলবে শিক্ষা কার্যক্রম”।

আই পি পি আর এর এসোশিয়েট ডিরেক্টর হ্যারী কুইল্টার বলেন, “সেপ্টেম্বর স্কুল খুলা এবং ছাত্র-ছাত্রীরা স্কুলে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত তাই এটাকে শত ভাগ কাজে লাগাতে হবে। না হলে শিক্ষার্থীরা মানুষিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে,”।

পাবলিক পলিসি রিচার্স থেকে বলা হয়েছে ৪০০০ প্রধান শিক্ষক এছাড়া আরো ৭০০০ শিক্ষক স্কুল খোলার জন্য সম্মতি এবং প্রস্তুত আছেন। শতকরা ৭১ পারসেন্ট অভিবাবক ও স্কুল খোলা পক্ষে এখন যারা বিরোধিতা করছেন বিরাধিতার মূল কারন জানাতে হবে।

সরকারের প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা ‍অধ্যাপক ক্রিস হুইটি বলেছেন, শিশুরা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে যতটা ক্ষতিগ্রস্ত হবে তার চেয়ে অনেক বেশি ক্ষতি হবে স্কুলে না গেলে।
তিনি বলেন, ‘‘কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়ে শিশুদের মারা যাওয়ার আশঙ্কা অবিশ্বাস্য রকম কম। কিন্তু স্কুলে না যাওয়ার কারণে দীর্ঘমেয়াদে তারা শরীরিক ও মানসিক ক্ষতির শিকার হবে।”

ব্রিটেনের এডুকেশন সেক্রেটারি গ্যাভিন আলেকজান্ডার উলিয়ামসন বলেন,”শিক্ষা গুরুত্ব সবার আগে । যে কোন কিছুর বিনিময়ে হলেও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলতে হবে। অনেক শিশু স্কুলে যাওয়ার চেয়ে স্কুলে না যাওয়ার কারণে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।” বৃটিশ সরকার ছাত্র-ছাত্রীদের স্কুলে যাওয়ার জন্য উৎসাহিত করছে।

Advertisement