ফেসবুক প্রোফাইলে তার শাটডাউন বাটন, লাশ মিললো লেকে!

ব্রিট বাংলা ডেস্ক :: ছেলেটি ভালো ছবি আঁকতো। সে নালন্দা থেকে এসএসসি পাশ করে বর্তমানে ড্যাফোডিল কলেজে একাদশের ছাত্র ছিলো। ২০ এপ্রিল সে তার ফেসবুকের প্রোফাইল পরিবর্তন করে ‘শাটডাউন’ বাটন দিয়ে। আর রবিবার রাজধানীর ধানমন্ডি লেকে তার মরদেহ পাওয়া যায়। ওই শাটডাউন বাটনটাই ছিলো হৃদয়ঙ্গম ঋদ্ধ’র শেষ পোস্ট।

ধানমণ্ডি থানার ওসি জানান, রাত আটটার দিকে ঋদ্ধকে ধানমণ্ডি লেকে মাউথ অরগান হাতে বসে থাকতে দেখেছে লোকজন। তার পর সে পানিতে নেমে যায়। একজন পথচারী উদ্ধারের চেষ্টা করেও পারেনি।

ঋদ্ধকে নিয়ে ফেসবুকে স্মৃতিচারণ করা হচ্ছে। নালন্দার ফেসবুক পেজ, ঋদ্ধর বন্ধু, স্বজন পরিচিতজনেরা শোক জানাচ্ছেন।

সামিনা লুৎফা লিখেছেন, ‘২০১৬ এর রঙ্গমেলায় শিশুদের ছবি আকার মেলায় দারুন ছবি আঁকলো ঋদ্ধ! বললাম, আয় তোকে একটা প্রাইজ দেই। সে আমাকে বললো – যাহ আমি কী বাচ্চা নাকি যে আমাকে পুরস্কার দিবে। ছোটদের দাও। কী যে একটা দায়িত্ববান, মিষ্টি ছেলে, কী যে অসাধারণ তার ছবির হাত! ধানমণ্ডির লেকের পানির এতো টানরে, বাবা ঋদ্ধ !? পৃথিবীর মা-বোন-বাবার সব টান ছাড়িয়ে তোকে নিয়ে গেল?’

৬ মে হৃদয়ঙ্গম ঋদ্ধ’র মা তৃষ্ণা সরকার ফেসবুকে লিখেন, ‘আজ কয়েকদিন থেকে ঋদ্ধ কথা না বলে, না খেয়ে বাড়ি থেকে বেরিয়ে স্কুলে গিয়ে ছবি আঁকছিলো। ছেলেটা ফোনটা পর্যন্ত ধরতো না। বেশ খানিকটা রাগ ও অভিমান হয়েছিলো। আজ যখন নালন্দার অনুষ্ঠানে গেলাম, ব্যাকড্রপে তোর আঁকা ওই ছবিগুলো দেখে আমি সত্যিই বিমোহিত হয়েছি বাবা। আরও বেশি গর্ব হলো তোর আপুমণি ও ভাইয়ারা আর স্কুলের শিশুরা তোর এতো প্রশংসা করছিলো এসব শুনে। এমন ছবি এঁকে চল বাবা আমি সাত জনম তোর মতন ছেলের মা হয়েই থাকতে চাইরে বাবা # Wriddho. অনেক আদর। ভালোবাসা। সবাই আমার এই ভোলা ছেলেটার জন্য একটু আশির্বাদ করবেন।’

ধানমণ্ডি থানার ওসি আব্দুল লতিফ বলেন, রবিবার সন্ধ্যায় ধানমণ্ডি লেকের পাশে ঋদ্ধ বসেছিল। ওই সময় তার হাতে মাউথ অরগান ছিল। হঠাৎ সে পানিতে নেমে গেলে আশপাশের লোকের চোখে পড়ে। এক পথচারী পানিতে নেমে তাকে উদ্ধারের চেষ্টা চালায়। পথচারী ঋদ্ধকে উদ্ধারের চেষ্টা চালায় কিন্তু পারেনি। ঋদ্ধ পথচারীকেই তার দিকে টানতে ছিলো।

ওসি আরও বলেন, রাত সাড়ে আটটার দিকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিদের নামানো হয়। এক পর্যায়ে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

ঋদ্ধের মায়ের বরাত দিয়ে ওসি জানান, গেঞ্জি কেনার বায়না করেছিল ঋদ্ধ। কিন্তু তার মা সেটি দেয়নি। পরে দুপুরে বাসা থেকে বের হয়ে যায়।

ঋদ্ধ মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলো বলেও তার মা ওসিকে জানান।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Advertisement