বিশ্বজুড়ে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার ফ্লাইট বাতিল

সদ্য সমাপ্ত বড়দিন ও ইংরেজি নববর্ষের উৎসবের মধ্যেই বিশ্বজুড়ে চার হাজারের অধিক ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে। শনিবার (১ জানুয়ারি) বিশ্বব্যাপী প্রায় সাড়ে চার হাজার ফ্লাইট বাতিল করা হয় বলে জানা গেছে। যেখানে এক যুক্তরাষ্ট্রেই ফ্লাইট বাতিলের সংখ্যা নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।চলমান মহামারি করোনা ভাইরাসের ভয়াল থাবায় বিশ্বজুড়ে সংক্রমণ বৃদ্ধি এবং খারাপ আবহাওয়ার কারণেই বিপুল সংখ্যক এসব ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। রবিবার করা প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি নিউজ।ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটঅ্যাওয়ার.কমের তথ্যানুযায়ী, শনিবার বিশ্বজুড়ে প্রায় চার হাজার ৪০০টি ফ্লাইট স্থগিত করা হয়েছে। এর মধ্যে এক যুক্তরাষ্ট্রেই বাতিল হওয়া ফ্লাইটের সংখ্যা আড়াই হাজার ছাড়িয়েছে।বিবিসি নিউজের প্রতিবেদক বলছেন, বিশ্বব্যাপী আকাশপথে যাত্রীসেবা দেওয়া এয়ারলাইন্সগুলো মূলত ব্যাপকভাবে স্টাফ সংকটে পড়েছে। এয়ালাইন্সগুলোতে কর্মরত ক্রুদের অনেকেই করোনায় আক্রান্ত হয়ে কোয়ারেন্টিনে চলে যাওয়ায় এই সংকটের সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে।

এর মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যাঞ্চলে প্রচণ্ড তুষারপাত আবার ভ্রমণকারীদের জন্য বাড়তি দুর্ভোগ হিসেবে দেখা দিয়েছে। শনিবার যুক্তরাষ্ট্রে স্থগিত হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে এক হাজারেরও অধিক ফ্লাইট বাতিলের ঘটনা শিকাগোর ও’হারে এবং মিডওয়ে বিমানবন্দরে ঘটেছে।বিবৃতির মাধ্যমে মার্কিন বিমান সংস্থা ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স বলছে, ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টের কারণে কর্মী সংকট এবং আবহাওয়া সম্পর্কিত সমস্যার কারণে আজকের (শনিবার) ফ্লাইটগুলো বাতিল করতে হয়েছে। ফ্লাইট বাতিলের কথা আমরা আগে থেকেই যাত্রীদের জানিয়ে দিচ্ছি। যাত্রীরা যেন নিজেদের টিকিট পুনরায় বুক করতে পারেন বা নতুন পরিকল্পনা করতে পারেন সে জন্যই আগেভাগে বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হয়।বিবিসি নিউজের প্রতিবেদনে জানানো হয়, শনিবারের ফ্লাইট বাতিলের এই ধারাবাহিকতা রবিবারও বজায় রয়েছে। কেননা রবিবারও যুক্তরাষ্ট্রে আরও তুষারপাত এবং ব্যাপক বাতাসের পূর্বাভাস রয়েছিল। মূলত বড়দিনের ছুটি কাটিয়ে রবিবারই ঘরে ফেরার কথা বহু মানুষের। আর এই দিনে ফ্লাইট বাতিলের ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে ঘরমুখী এসব মানুষ যে ব্যাপক সমস্যার সম্মুখীন হবেন, সেটি বেশ অনুমিতই।শিকাগোর ও’হারা বিমানবন্দরে আটকে পড়া এক ভ্রমণকারী মার্কিন মিডিয়া এবিসি নিউজকে জানান, এটি ভীষণই লম্বা একটি সময়। দিন কাটানোর এখন আর কোনো সুযোগ নেই। এটা অনেক লম্বা সময়।উল্লেখ্য, গত ২৪ ডিসেম্বর থেকে এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে ১২ হাজারের অধিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। তাই আগামীতে সেই ধারা অব্যাহত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Advertisement