ব্রিট বাংলা ডেস্ক : ইউনেস্কোর বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভূক্ত হতে যাচ্ছে আফগানিস্তানের দক্ষিণ প্রদেশ হেরাতের বিখ্যাত হেরাত গ্র্যান্ড মসজিদ।

গত বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) আফগানিস্তানের তথ্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী মুহাম্মাদ তাহির জুহাইর এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

মন্ত্রী মুহাম্মাদ তাহির জুহাইর বলেন, বিশ্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের অংশ হিসেবে মন্ত্রণালয় নানা উদ্যোগ গ্রহণ করছে। আর দেশের পশ্চিমাঞ্চলের ঐতিহ্য সংরক্ষণে বিশেষভাবে তৎপর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। বিশেষত ইসলামি সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, শিল্পকলা ও দর্শন সংরক্ষণে খুবই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

হেরাত প্রদেশের ঐতিহাসিক স্থাপনা, মিনার, স্মৃতিস্তম্ভসহ অন্যান্য প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা পুনর্নিমাণ ও মেরামত করতে বিশেষভাবে অনুরোধ করেন উপ-প্রশাসক ড. গোলাম দাউদ হাশেমি।

উল্লেখ্য, হেরাত গ্র্যান্ড মসজিদ আফগানিস্তানের উত্তর-পশ্চিম হেরাত প্রদেশের ঐতিহাসিক মসজিদ। ১২ শতাব্দির আগে এটি জোরোস্ট্রিয়ানদের অগ্নিপূজার স্থান হিসেবে ব্যবহৃত হত এটি। কিন্তু ভূমিকম্প ও অগ্নিদগ্ধ হয়ে স্থানটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়। ১২০০ খ্রিস্টাব্দে সুলতান গিয়াস উদ্দিন মুহাম্মাদ ঘুরি মসজিদটির নির্মাণ কাজ শুরু করেন। মুইজ উদ্দিন মুহাম্মাদ ঘুরির এর নির্মাণ কাজ সম্পূর্ণ করেন। পরবর্তী সময়ের ঘুরি, তাইমুর, সাফাবি, মুঘল ও উজবেক আমলের শাসকরা মসজিদ পুনর্নিমাণে ভূমিকা পালন করে।

আফগানিস্তানে ঔপনিবেশিক শাসনের পর ঐতিহাসিক কোনো মসজিদ অক্ষত ছিল না। ১৯৪৫ সালে বিধ্বস্ত স্থাপনাগুলো পুননির্মানের একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। তখন মসজিদের উত্তর-পশ্চিমাংশ ১০১-১২১ মিটার পর্যন্ত সম্প্রসারণ করা হয়। এরপর বিভিন্ন সময় মসজিটির পুননির্মাণ ও মেরামত কাজ চলেছে।

Advertisement