ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা-ফেব্রুয়ারী থেকে বিজ্ঞানীদের জন্যে নতুন ভিসা : ২০২১ সাল থেকে অস্ট্রেলিয়ান স্টাইল ভিসা

ব্রিটবাংলা ডেস্ক : আগামী ৩১শে জানুয়ারী থেকে কাগজেপত্রে ব্রেক্সিট হলেও চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে সব হিসাব শেষ করতে হবে। এরপর থেকে নিজের পায়েই দাঁড়াতে হবে বৃটেনকে। এই লক্ষ্যে ব্রেক্সিটের পরপরই ফেব্রুয়ারী মাস থেকে বিজ্ঞানী, গবেষক এবং গণিতশাস্ত্রবিদদের জন্যে ফাস্ট-ট্র্যাক ভিসা চালুর ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। গ্লোবাল টেলেন্ট ভিসা নামের নতুন এই ভিসা সিস্টেম চালু হবে আগামী মাসের ২০ তারিখ থেকে। তবে নতুন এই ভিসা সিস্টেমের পুরো ব্যবস্থাপনায় হোম অফিস থাকছে না।  দ্যা ইউকে রিসার্চ এন্ড ইনোভেশন ফান্ডিং এজেন্সি নামের একটি সংস্থা ভিসা আবেদনগুলোর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে। সংখ্যার গুণতিতে নয়, প্রকৃত অর্থেই বিজ্ঞানী, গবেষক এবং গণিত বিশেষজ্ঞ খোঁজে বের করার উদ্দেশ্যেই তারা এই দায়িত্ব নিয়েছে।
নতুন এই ভিসায় ইউকেতে আসার আগে কোনো ধরনের জব অফারের প্রয়োজন হবে না। আবেদন সফল হলে দ্রুততার সাথে বাকী সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। বিজ্ঞানী এবং গবেষকদের জন্যে পুরনো ভিসা সিস্টেমের ক্যাপ বছরে দু হাজারের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। তবে নতুন ভিসা সিস্টেমে কোনো ক্যাপ রাখা হয়নি। এদিকে নতুন ভিসা সিস্টেম চালুর পাশাপাশি গণিত শাস্ত্রের গবেষণার জন্যে আগামী ৫ বছরের ভেতরে আরো অন্তত ৩শ মিলিয়ন পাউন্ড বরাদ্দের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। আর গণিতে ফেলোশীপ এবং পিএইচডির জন্যে বর্তমান ফান্ডকে দ্বিগুন করা হবে বলেও ঘোষণা দেন তিনি।
আগামী ৩১শে জানুয়ারী ইইউ থেকে বের হয়ে আসবে ইউকে। এরপর থেকে ইইউ থেকে কোনো ধরনের গবেষণা কাজে সহযোগিতা পাবে না ইউকে। এ জন্যে এইখাতে পর্যাপ্ত অবস্থান ধরে রাখতেই বিজ্ঞানী, গণিতবিদ এবং গবেষকদের আকৃষ্ট করার জন্যে নতুন ভিসা সিস্টেম চালু করেছে সরকার।
এদিকে ব্রেক্সিটের পরপর ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসেও মারাত্মকভাবে স্টাফ সংকটে পড়তে পারে ইউকে। জানুয়ারীতেই অন্তত ৪০ হাজারের বেশি নার্সের প্রয়োজন হবে। এ কারণে আগামী বছরের প্রথম থেকেই অস্ট্রেলিয়ান স্টাইল পয়েন্টস বেইসড ইমিগ্রেশন সিস্টেম চালু করবে সরকার। আর এ কারণেই বছরে কমপক্ষে ৩০ হাজার পাউন্ড বেতনের বিষয়টি পরির্তনের জন্যে বিশেষভাবে বিবেচনা করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছে সরকার।

Advertisement