ব্রিটেনে ইয়ংদের মধ্যে বেকারত্বের হার বাড়বে ভয়াবহভাবে – আশঙ্কা অর্থনীতিবিদদের

মো: রেজাউল করিম মৃধা ॥ করোনাভাইরাস মহামারির পরবর্তীতে ১৬ থেকে ২৪ বৎসর বয়সী ইয়ংদের বেকারত্বের হার হবে সবচেয়ে ভয়াবহ এমন আশংখ্যা করছেন দেশের অর্থনীতিবিদরা।

মে থেকে জুলাই, এই তিন মাসে ব্রিটেনে কর্মহীন তরুণের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার। দেশটির জাতীয় পরিসংখ্যান দফতর থেকে প্রকাশিত সবশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেকার এসব তরুণের মধ্যে বেশিরভাগের বয়স ১৬ থেকে ২৪ বছরের মধ্যে যা অন্য বয়সভুক্ত গোষ্ঠীগুলোর চেয়ে অনেক বেশি।

বিবিসির মঙ্গলবারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, একই সময়ে যুক্তরাজ্যজুড়ে মোট কর্মহীন মানুষের সংখ্যা ৪ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে । যা এর আগের ৩ দশমিক ৯ শতাংশের তুলনায় বেশি। এদিকে করোনাকালে শুরু সরকারি প্রণোদনার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে আগে প্রতিষ্ঠানগুলোও তাদের কর্মী ছাঁটাই অব্যাহত রেখেছে।

বিবিসি জানাচ্ছে, মার্চ থেকে বিভিন্ন ব্রিটিশ কোম্পানির পে-রোলের তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন দেশটির ৬ লাখ ৯৫ হাজার কর্মী। করোনাভাইরাস মহামারি শুরুর পর ওই সময় দেশজুড়ে লকডাউন শুরুর পর সব বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সরকারি সহায়তায় প্রণোদনার অর্থ দিয়ে কর্মীদের পে-রোলে পাঠায় এসব কোম্পানি।

মহামারিকালে চাকরি বাঁচাতে ব্রিটিশ সরকারের নেয়া আর্থিক সহায়তা সংক্রান্ত উদ্যোগের মেয়াদ আগামী ৩১ অক্টোবর থেকে শেষ হবে। তবে জুলাই থেকে দেশটির জিডিপিার আকার বাড়তে শুরু করায় এ নিয়ে উদ্বেগ কিছুটা কমেছে। ব্রিটিশ পরিসংখ্যান দফতর সম্প্রতি জানায়, টানা গত তিনমাস জিডিপিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

পরিসংখ্যান দফতরের অর্থনৈতিক পরিসংখ্যা বিভাগের পরিচালক, ড্যারেন মরগান বলেন, ‘আগস্ট থেকে অনেক কর্মী পে-রোল তালিকা থেকে বাদ পড়তে শুরু করে। এ ছাড়া জুলাইয়েও বেকার ও কর্মহীন মানুষের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পায়। এতে বোঝা বৈশ্বিক চাকরির বাজারে করোনার মারাত্মক প্রভাব এখনও রয়েছে।

দি গভার্নমেন্ট ফর রিটেনশন স্কীম বলে ৩১ অক্টোবর ২০২০ শেষ হবে ফার্লো স্কীম । ৯.৬ মিলিয়ন শ্রমিক এই স্কীমে আছেন এবং বেতনের শতকরা ৮০ পারসেন্ট পেয়ে যাচ্ছেন যখন এই স্কীম শেষ হবে তখন দেখা বেকারত্ব ভয়াবহতা।

ওএনএস এর পক্ষে বলা হয় গত জুলাই মাস থেকে রেস্টুরেন্ট , পাব, হেয়ারড্রেসার সহ ব্যাবসা প্রতিস্ঠান খুলে দেওয়ার পর অনেক শ্রমিক প্রতিস্ঠানে কাজ করছেন। সেই সাথে আবার ফারলো স্কীমের অর্থও নিচ্ছেন। এটা অবশ্যই আইনগত অপরাধ।

ব্রিটিশ অর্থমন্ত্রী ঋষি সুনাক বলেন, ‌‌‌‘“এই মহামারি মানুষের চাকরি ও জীবিকার ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে চলেছে বলেই অনেককে একটি কঠিন সময় পার করতে হচ্ছে। এ জন্যই চাকরি রক্ষা করা এবং মানুষকে কাজে ফিরিয়ে আনাই সরকারের অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে”।

বৃটেনের অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, ১৬ থেকে ২৪ বছর বয়সীরা ই হচ্ছে দেশের শ্রমবাজারের অন্যতম শক্তি এরা যদি বেকার হয়ে পরে তবে তা হবে দেশের জন্য দেশের জন্য মারাত্বক ক্ষতির কারন। যে কোন ভাবেই হোক যুবক/ যুবতিদের কাজের ব্যাবস্থা করা সরকারের অন্যতম দায়িত্ব ।

Advertisement