ব্রিটেনে কমনওয়েলথ দেশভূক্ত অবৈধ অভিবাসীদের মানবাধিকার নিয়ে কেন এই বৈষম্য ?

রাজু আহমদ

আইন সবলের কাছে খোলা আকাশের মতো সহজ আর দুর্বল অসহায়ের কাছেআইন মাকড়সার জালের মতো কঠিন।

এই কথাটির সাথে যুক্তরাজ্যের অবৈধভাবে বসবাসকারী অভিবাসীদের জীবনের বিরাট মিল, কারন তাদের কথা বলার জন্য কেউ নাই

অথচ ইউরোপের অভিবাসীদের জন্য সব রাস্তাই খোলা।

যেখানে আগামী ২০১৯ সালের মার্চে যুক্তরাজ্যের ইউরোপের থেকে বের হয়ে যাওয়ার পর পাঁচ বছরের নীচে যেই সমস্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের নাগরিক বসবাস করছেন তাদের যুক্তরাজ্য ছাড়ার কথা থাকলেও সেখানে বিশেষ আইন করে তাদের জন্য আরও দুই বছর সময় বাড়ানো হয়।

যাতে তারা সহজে ভবিষ্যতে ব্রিটিশ নাগরিক হতে পারে, মানে মাত্র কয়েক বছর সময় যুক্তরাজ্যে বসবাস করে নানারকম বেনিফিট নিয়ে ও কোনো প্রকার ফি না দিয়ে এবং ইংলিশ ভাষাগত যোগ্যতা ছাড়া তারা হয়ে যায় যুক্তরাজ্যের নাগরিক।

অপর দিকে সাবেক ব্রিটিশ কলোনি এবং কমনওয়েলথ দেশের নাগরিক হয়ে বৈধভাবে যুক্তরাজ্যে এসে নানা কারনে পরিস্থিতির শিকার হয়ে অবৈধ হয়ে দশ বছরের বেশি সময় ধরে যুক্তরাজ্যে বসবাস করে ইংলিশ ভাষাগত যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও কোনো ধরণের বেনিফিট না নিয়ে সরকারকে ট্যাক্স দিতে রাজি থাকায় পরও বাংলাদেশসহ অন্যান্য কমনওয়েলথ দেশগুলোর নাগরিকরা অবহেলিত থেকে যায় ।

ব্রিটেনে নাগরিকত্ব পাওয়া থেকে তারা হয়ে যায় অবৈধ অভিবাসী কারন তারা দুর্বল অসহায় তাই তাদের পক্ষে বলার কেউ নাই এইক্ষেত্রে মানবাধিকার বা সমঅধিকার তাদের বেলায় উপেক্ষিত।

এখানে উল্লেখ করার মতো বিষয় হলো প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় কমনওয়েলথ দেশগুলির গুরুত্বপূর্ণ অংশগ্রহন ছিল এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যুদ্ধবিদস্থ যুক্তরাজ্যের পুনর্গঠনে বাংলাদেশি সহ কমনওয়েলথ দেশগুলির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে আশা করি তা বিবেচনার সময় এসে গেছে ।

যখনই অবৈধ অভিবাসীদের সাহায্য করার কথা উঠে তখনই অবৈধ অজুহাতে সবাই তা এড়িয়ে যায়।

কারন যত দোষ নন্দ ঘোষ কিন্তু তারা এটা দেখে না।

যে কমিউনিটিতে আরো কত অবৈধ জিনিস আছে যেমন মাদক ও নানা রকম বেনিফিট প্রতারণা এগুলি তাদের কাছে কোনো ব্যাপার না তারা লেগে আছে অসহায় অবৈধ অভিবাসীদের পিছনে।।

যুক্তরাজ্যে প্রায় পাঁচ লক্ষ বাঙ্গালী ও তিন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এমপি রুশনারা আলী,রুপা হক এবং টিউলিপ সিদ্দিক থাকার পরও বেশিরভাগ কেউই এই অসহায় মানুষের কথা বলেনা অথচ সম্প্রতি উইন্ডরুশ ট্রেজেটির ব্যাপারে আফ্রিকান বংশোদ্ভূত ছায়া হোম সেক্রেটারি দিয়ানে আব্বত এমপি ডেভিড লামময় এমপি সহ অন্যান্য আফ্রিকান বংশোদ্ভূত এমপি ও তাদের কমিউনিটি সরব ছিল যার ফলে এটি সফলতার মুখ দেখেছে এখানে উল্লেখ্য যে প্রাক্তন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন দশ বছরের বেশি যারা যুক্তরাজ্যে অবৈধভাবে বসবাস করছে তাদের বৈধতা দেয়ার জন্য দীর্ঘ দিন ধরে জোরালো সমর্থন করছে।

কিন্তু আমাদের বাঙ্গালীদের ক্ষেত্রে তা এখন পর্যন্ত অনুপস্থিত আমাদের বাঙ্গালী এমপি ও কমিউনিটি যদি এই ইস্যুতে একটু সদিচ্ছা ও সজাগ হয় তাহলে এই ব্যাপারে সফলতা অর্জন করা কঠিন হবে না।

তারা কেন ভুলে যাচ্ছে এই অসহায় মানুষগুলোও মানুষ এরা পরিস্থিতির শিকার তারাও কারো সন্তান কারও ভাই বোন কারও স্বামী বাবা এবং তাদের উপর তাদের অনেকের পরিবার নির্ভরশীল।

এরা বৈধতা পেলে এরা যেমন উপকৃত হবে তেমনি যুক্তরাজ্যেরও উপকার হবে কারন যুক্তরাজ্যে বিভিন্ন সেক্টরে বর্তমানে তীব্র দক্ষ জনবলের অভাব রয়েছে পাশাপাশি সরকারি ট্যাক্স ও বাড়বে ।

সম্প্রতি যুক্তরাজ্যে দশ বছরের বেশি সময় ধরে যেই সমস্ত অভিবাসী অবৈধভাবে বসবাস করছে তাদের বৈধতা দেয়ার জন্য https://petition.parliament.uk/petitions/

218729 এই পিটিশনটি প্রায় ৫০ হাজার লোক সাইন করেছে এবং আরেকটি পিটিশন যেটি এখনো চলছে যা এক লক্ষ বেশি সাইন হয়েছে https://you.38degrees.org.uk/petitions/

please-grant-amnesty-to-already-illegal-immigrants-in-uk?source=facebook-share-button&time=1512606437 এ থেকে প্রমান হয় যে এই ইস্যুটি একটি জনগুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার এবং এই বিষয়ে জনসমর্থন রয়েছে ।

তাই আসুন আমরা অসহায় মানুষগুলোকে সাহায্য করে ঘর থেকে আমাদের আর্তমানবতার সেবা শুরু করি ।

কারন রোহিঙ্গা ও অন্যান্য শরণার্থীর মতো এরাও বড় অসহায় তাই ঘরের মানুষ হিসেবে এরা মানবিক সাহায্য পাওয়ার প্রথম দাবীদার ।

তাই আশা করছি তিন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এমপি রুশনারা আলী,রুপা হক এবং টিউলিপ সিদ্দিক সহ কমিউনিটির সবাই এই ব্যাপারে অতি দ্রুত এগিয়ে আসবে ।

আসুন আমরা মানবতায় ডাকে সাড়া দিয়ে সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে এক প্লাটফরম থেকে দশ বছরের বেশি বাংলাদেশ ও অন্যান্য কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলির অবৈধ অভিবাসীদের বৈধ করার ইস্যুতে কাজ করি।

(রাজু আহমদ :সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী)

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
Advertisement